বাঙলায় একদিকে চরম বেকারত্ব অপরদিকে ক্রমাগত চলছে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ!! বাঙালীর হকের অধিকার আজ বহিরাগতদের দখলে, তাই ১০০ ভাগ বাঙালীর কর্মসংস্থানের স্বার্থে বাঙলায় ‘টোটো’ সহ সমস্ত গণ-পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র ভূমিপুত্র বাঙালীদের দেওয়ার দাবীতে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে ‘আমরা বাঙালী’ সংগঠন৷
১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন ভবনে এসে স্মারকলিপি জমা দেয় সংগঠনটি৷ আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস জানান- দীর্ঘদিন ধরেই বহিরাগত অনুপ্রবেশের ফলে কলকাতা মহানগর সহ হাওড়া, টিটাগড়,ব্যারাকপুর,আসানসোলের মতন বাঙলার বিভিন্ন অঞ্চলে বাঙালীরা ক্রমশ সংখ্যালঘু ও ‘নিজভূমে পরবাসী’তে পরিণত হচ্ছেন! ফলে বাঙলার জনবিন্যাস মারাত্মকভাবে বদলে গিয়ে স্থানীয় ভূমিপুত্র বাঙালীদের কর্মসংস্থান, জীবিকা ও ন্যায্য অধিকারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে৷ ফুটপাত থেকে ছোট ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের মতন বহু কর্মক্ষেত্র আজ বহিরাগতদের দখলে৷ ক্রমাগত বহিরাগতদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাঙলার বেকারত্ব পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে৷
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘টোটো’ যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷ এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বাঙালীদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত করার স্বার্থে ‘আমরা বাঙালী’ সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন রাখছি-- বাঙলায় বহিরাগতদের নয়, টোটো সহ সমস্ত গণ-পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র ভূমিপুত্র বাঙালীদের প্রদান করতে হবে৷ এছাড়াও ‘আমরা বাঙালী’ থেকে দাবী জানানো হয়---- বাঙালীদের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে অন্য ভাষাভাষী বহিরাগতদের টোটো সহ বাঙলার সমস্ত গণ-পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান বন্ধ করতে হবে৷ টোটোর রেজিস্ট্রেশন, নামফলকসহ সমস্ত নথিপত্র বাংলা ভাষায় বাধ্যতামূলক করতে হবে৷ বাংলা আমাদের রাজ্যের সরকারি ভাষা অতএব সকল দাপ্তরিক ও যানবাহন-সংক্রান্ত পরিচিতি বাংলায় লিখতেই হবে৷ যারা টোটো চালাবেন, তাদের বাংলা ভাষা অবশ্যই জানতে হবে৷ এটি যাত্রী ও প্রশাসনিক যোগাযোগের স্বার্থে জরুরি৷ প্রত্যেক চালক ও মালিকের নাম অবশ্যই বাঙলার ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত থাকতে হবে৷ অর্থাৎ,বাঙলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াই রেজিস্ট্রেশনের পূর্বশর্ত হতে হবে৷ ভূমিপুত্র বাঙালীদের স্বীকৃতি নির্ধারণে ‘বাঙালী জনগোষ্ঠীয় পদবী’ হলেই রেজিস্ট্রেশন দেওয়া৷ বাঙলায় ভূমিপুত্র বাঙালীদের অধিকার,কর্মসংস্থান এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে উপরিলিখিত দাবীগুলি দ্রুত কার্যকর করার লক্ষে আমরা বাঙালী আন্দোলনে ছিলো-আছে ও থাকবে৷ এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সচিব অনিতা চন্দ, কলিকাতা জেলা সচিব সুদীপ দাশগুপ্ত, কেন্দ্রীয় প্রকাশন সচিব প্রণতি পাল, জয়ন্ত দাশ, বাপী পাল, প্রবীণ নেতা সুবোধ কর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ