ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান মোতাবেক রক্ষা কর্র্ত্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং৷ যদিও মাথার ওপর রাষ্ট্রপতি আছেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সাংবিধানিক প্রধান৷ দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ক্যাবিনেট শেষ কথা বলে৷ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি যে দল থেকেই নির্বাচিত হন, যে দলই সরকার ঘটন করুক একবার প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে গেলে তিনি কিন্তু সকল নাগরিকের জনপ্রতিনিধি কোন বিশেষ দলের নয়, সরকারও দেশের সকল নাগরিকের সে যে দলই সরকার ঘটন করুন৷
কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেকে হিন্দুত্ববাদী বলেই জনগণের কাছে প্রচার করেন৷ তাই তাঁর মতে তিনি সেই সাম্প্রদায়িক দলের প্রধান হয়ে সংবাদপত্রে গর্বের সঙ্গেই ঘোষনা করছিলেন বর্ত্তমানে যে ৫টি রাজ্যে সংবিধান মতে বোট হলো তাতে তাঁর দল জয়ী হচ্ছে! এদিকে পশ্চিমবাংলা বিজেপি দলের ভাগ্য বিধাতা দলছুট তৃণমূলের শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন--- জয়ী তাঁরাই হবে৷ আর লড়াকু পশ্চিমবাংলার মমতাজী বলছিলেন--- যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মাকে৷ আর লড়াই-এর মাঠে দাঁড়িয়ে বলছেন ---‘দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসব৷’
তবে সব তর্ক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শাসক তৃণমূলকে পরাজিত করে বিপুল ভাবে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যদিও এই পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নেয়নি তৃণমূল নেত্রী৷ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্ত এস.আই.আরের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বোটদানে বিরত রাখা ইভিএমে কারচুপি গণনায় কারচুপির অভিযোগ এনেছেন৷ দেশের বহু বিরোধী নেতারাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ সুপ্রিম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি দুষ্যন্ত দভে শীর্ষ আদালতকে দায়ী করে ৮০ লক্ষ মানুষ বোট দিতে না পারায় বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন৷
আর আমরা প্রবীন নাগরিকগণ ভাবছি এটা কেমন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে স্বয়ং সংবিধানের রক্ষাকর্তা হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের হয়ে একজন সাম্রাজ্যবাদীর মতো কথা বলেন! তাই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কি একেবারেই পবিত্র নাগরিকগণ নাগরিকত্বের অধিকারের কথা ভুলে বসেছেন৷ তাঁদের তো মাত্র বিশেষ বয়সে সংবিধান দিয়েছিল সেই অধিকার৷ বোটার হওয়ার নারীপুরুষ নির্বিশেষে ২১ বয়স হলে! কিন্তু এই দলতন্ত্রী সরকারগুলো দীর্ঘ ৭৫ বছরের মধ্যে বোটার হওয়ার বয়স কমিয়ে করে ১৮ বছর৷ তাই সেই মোদিজীই আবার সেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নিয়ম পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের কমিশনার নিয়োগ করেছেন৷ সেই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশজী মোদির ইচ্ছামত নির্বাচন পরিচালনা করছেন৷ নিবিড় সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকার বাইরে রেখে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন৷
এই পশ্চিমবাঙলার বোটারদের ট্রাইব্যুনালে থাকা ২৭ লক্ষ বোটারদের মধ্যে মাত্র ১৩৯ জনকে সমীক্ষায় বোটার অধিকার দিয়ে বাকিদের নাম ফ্রিজ করা হয়৷ এতে প্রায় এই পশ্চিমবাঙলার প্রায় ৯১ লক্ষ বোটার বাদ যায়৷ মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট মামলা রুজু আছে! জনগণ জানেনই না তাঁদের বরাতে কি আছে? তাই আজ সারা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যে বর্তমান কেন্দ্র সরকার এক ধরনের ভয়ংকর জরুরী অবস্থারই সৃষ্টি করতে চলেছে কি না? তবে যাইহোক না কেন লড়াকু বাঙালী জনগোষ্ঠীর চিরবঞ্চিত শোষিত ও নিপীড়িত, নিম্নমধ্যবিত্ত, গরীব নাগরিকগণ কিন্তু নীরবে সব কিছু অন্যায় শোষণ ও অত্যাচার আর মেনে নেবেন না! ন্যায়ের পথেই ঐক্যবদ্ধভাবেই তাঁরা চলবেন সেই মহামান্য আদালতের পথে৷ আর নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসব মেনে নিয়ে স্মরণে রাখতে ও নাগরিকত্ব পেতে যেমন আইন আছে ঠিক নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়াটাও মোটেই আইনসম্মত নয়৷ এর বিচারও আছে৷ কিন্তু ভারতবর্ষে বিচার ব্যবস্থার প্রতিও আজ মানুষ আস্থা হারাচ্ছে৷ বিলম্বিত বিচার, রায় ঝুলিয়ে রাখা প্রভৃতি নানা কারণে অনেক সময় ন্যায়-বিচারও অকারণ হয়ে যায়৷ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও সুপ্রীম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি দুষ্যন্ত দাভে শীর্ষ আদালতের কঠোর সমালোচনা করে বলেন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে ৮০ লক্ষ বোটার বোটদানের বঞ্চিত হওয়ার কারণ শীর্ষ আদালতের ব্যর্থতা৷ তিনি আরও অভিযোগ করেন সুপ্রীম কোর্ট দেশকে নরকের পথে নিয়ে যাচ্ছে৷ এত কথার পরেও নতুন সরকারের কাছে আশা থাকবে তারা বোট দানে বঞ্চিত কয়েক লক্ষ মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেবেন৷
- Log in to post comments