আজ এই পশ্চিম বাংলায় সামনে নির্বাচন৷ তাই যিনি কেন্দ্রের শাসনের প্রশাসনিক প্রধান তাঁর বাঙলা প্রেম উতলে উঠছে৷ পশ্চিমবঙ্গের বিকাশের জন্যে প্রাণ কাঁদছে৷ বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে সংকীর্ণ রাজনীতির পরিচয় দিয়েছেন৷ তাঁর যে কতোধরণের কুটচাল সেটা দেখে এই পশ্চিম বাংলার চিন্তাশীল প্রবীন নাগরিকগণ হতবাক৷ ঐ মহান ব্যষ্টি একদিকে স্বামী বিবেকানন্দের নানা উপদেশ বাল্যকালে ঘুমের ঘোরে অবচেতন মনে শুনতেন, আবার সেই মহান সন্ন্যাসীর জন্মভূমি সেই পশ্চিম বাংলার মাতৃভাষাকে মিথ্যাচারিতা করে তাঁর মাতৃভাষাকে বিদেশী ভাষা বলে, প্রধানমন্ত্রীর ডবল ইঞ্জিন সরকারগুলিতে সেইবাঙালী ভারতীয় নাগরিকদের ওপর কতো অমানবিক অত্যাচার চালাচ্ছেন তা বলার নয়৷ তাই অদ্ভুত লাগে যখন দেখি পেটে লাথি মেরে আবার দিল্লির বাঙালী অধ্যুষিত এলাকায় এই দুর্গা ঠাকুর দর্শন করে সেই এলাকার বাঙালীদের মন ভেজাতে যাচ্ছেন! আবার হঠাৎ জি.এস.টির মারাত্মক কর যা জনগণকে ---গরিব যাঁরা তাঁদের রক্তশূন্য করছে সেটা সংস্কার করে সরকারী প্রচার মাধ্যমে ছবিসহ প্রকাশ করছে৷ সেই গরিবের উন্নয়ণের চিন্তার বাহিরে হাজার টাকার মূল্যে যানবাহন ও ব্যবহার্য মূল্যবান বস্তু কিনতে পারবেন সস্তায় তার ফিরিস্তি প্রকাশ করছেন! সেই আগামী বোটের সময়ে সমর্থন পাওয়ার আশায়! বিহারের নীতিশবাবু কয়েক লক্ষ লক্ষ মহিলারা দশ হাজার করে টাকা ব্যাঙ্কে তাঁদের এ্যাকাউন্টে পাঠালেন! এই সবটাই নিছক গদীর স্বার্থে কি নয়? এতো দিন তাঁদের কথা মনে পড়েনি৷ এই বিহারেই প্রধান নির্বাচন কমিশনের ৩৩ লক্ষ মহিলার বোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন৷ তাই কেমন দেশের নেতা তিনি? কংগ্রেস দলতো ইংরেজের কাছ থেকেই ভারতবর্ষকে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে সেই অখণ্ড বাংলা দেশকে একেবারে পঙ্গু করে প্রায় সবটাই পূর্ব পাকিস্তান করে প্রধানমন্ত্রীর গদীতে বসে নেহেরু তাঁর পরিবারকেই ভারত সরকার করে ফেলেন৷ তাই তিনি কেমন দেশ নেতা? সেই জওহরলালই মহান কংগ্রেস সভাপতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে শত্রুতে পরিণত করে গদীতে বসেই মহান দেশ নেতা নেতাজী যিনি বিবেকানন্দের মানসপুত্র জীবনদান করেন দেশমাতার পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য৷ সেই সাহেবী জওহরলালজী নেতাজীর বিরুদ্ধে এমন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল বিছায় যার জন্য সেই মহান নেতার সেই মৃত্যুর কারণটা মিথ্যা হয়ে আজও রহস্যে ভরা৷ তাঁদের গড়া মুখার্জী কমিশনই তদন্ত রিপোর্ট দেন নেতাজী প্লেন দুর্ঘটনায় মারা যাননি৷ তাঁর ভগিনী জানতেন সেই সংবাদ মিথ্যা! তাই তাকে রাশিয়া থেকে ঘরে ফিরিয়ে আনেন৷
এই তো দেশ নেতার আচরণ! এদিকে বর্তমান কেন্দ্র সরকারের অখণ্ড বাংলার আত্মত্যাগের ভাষা ও বাঙালী জাতির উপর কতো ঘৃণ্য আচরণ! বাংলা ভাষা ও বাঙালী জাতির উপর --- একটু কৃতজ্ঞতা নেই! পশ্চিম বাংলাকে আর্থিক সাহায্য যেটা করের টাকা সেটা দীর্ঘ বছর জনকল্যাণে উন্নয়নের টাকা মিথ্যা অজুহাতে সেটা আটকে রেখেছে৷ তাই অনেকে সন্দেহ করে এই আটকে রাখা টাকা কি নির্বাচনে খরচ হবে? অন্যদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কঠোর সমালোচনা করেছেন বিহারে ১০ হাজার করে টাকা ছড়ানোর ব্যাপারে নীতিশে৷ তাই বোটে জিততে শাসকদের এতোটাই অনৈতিক কাজ! তাই তাঁদের কোন লজ্জা সরম নেই!
তাই মহান দার্শনিক শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলতেন--- আজ সারা পৃথিবীতেই এমনকি এই ভারতে সৎনীতিবাদী মানুষের বড়ই অভাব৷ তাই তিনি এসেছেন মানুষ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে সেই কারণেই যাতে সেই দেশ সেবকগণই মানব সেবায় পৃথিবীকে আনন্দময় করেগড়ে তুলতে পারে৷ সম্পদের অভাব নেই৷ প্রকৃতির অকৃপণ দানে বাঙলা সুজলা সুফলা৷ মাটির নীচেও যেমন রয়েছে অজস্র খনিজ সম্পদ৷ মাটির বুকে দাঁড়িয়ে আছে শাল, পিয়াল, মহুল, পলাশের আরও রকমারি বনজ সম্পদ, রয়েছে বিস্তীর্ণ সমভূমির কৃষি শস্য নদীমাতৃক বাঙলায় জলজ সম্পদেরও অভাব নেই৷ প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত পরিকল্পনা ও সম্পদের যথার্থ উপযোগ গ্রহণের শিক্ষা৷ শুধুমাত্র এই দুটোর অভাবেই ও পুঁজিবাদের শোষণে আজ বাঙলা হতদরিদ্র৷ তাই চাই উপযুক্ত নেতৃত্ব ও উপযুক্ত পরিকল্পনা৷
- Log in to post comments