কোনো সন্দেহ নেই, এটা গণতন্ত্রের প্রহসন হচ্ছে৷ ভোটের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল হয়েছে৷ এসআইআর চলাকালীনই কার্যত দখল করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে রাজ্যকে৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী বোঝাই করে ফেলা হয়েছে৷ এবার ভোট ঘোষণার ঠিক পরেই মধ্যরাতে বদলে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে৷ ভারতবর্ষে প্রথমবার৷ এর ঠিক আগে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভায় এসেছেন না সরকারি, বোঝা যায়নি, সেই ব্যবধানটুকুও মুছে ফেলা হয়েছে৷ এবং তাঁর জনসভার দিন গোলমালে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামেনি, এই নিয়ে কমিশন জবাবদিহি চেয়েছে৷ ফলে রাজ্যপাল, সচিব এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, এই ত্র্যহস্পর্শে নির্বাচন হবে বোঝাই যাচ্ছে৷ এর চেয়ে সোজা করে বললেই হত, রাজ্য সরকার ব্যপারটাই আর রাখার দরকার নেই, ফালতু ঝামেলা৷ মাথার উপর চন্দ্র-সূর্য আছে, দিল্লিতে উনিজি, বঙ্গে সুবাদার রাজ্যপাল, ঢাকের বাঁয়া নির্যাতন কমিশন, আর দিল্লির কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ ওই দিয়েই চলে যাবে৷
শুধু সরকার না, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরও বিশেষ দরকার নেই৷ কারণ ১ কোটি ২০ লক্ষ তো এমনিই ঝুলে৷ অর্ধেক বাদ, অর্ধেক লাইন দিয়েও ‘বিচারাধীন’, তার মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেল৷ এতদিন পর্যন্ত নির্বাচকরা শাসক নির্বাচন করতেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় এই প্রথম সরকারের ঢাকের-বাঁয়ারা ঠিক করে দিচ্ছে কারা তাদের নির্বাচন করবে৷ এটা যে কী হচ্ছে, সে ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল৷কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার৷ ২০২৪ এ ছিল ৭ কোটি ৬০ লক্ষ৷ ২০২১ এ ছিল ৭ কোটি৷ ২০১৬তে ছিল ৬ কোটি ৫৫ লক্ষ৷ অর্থাৎ, গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা কমে গেছে৷
২০১৬কে আদৌ টপকানো যাবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে আরেক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, আদালতের হাতে৷ সে হিসেবও অতি চমৎকার৷ এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ বিচারাধীনের নাকি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে৷ কী হয়েছে কেউ জানেনা৷ বাকি অন্তত ৫০ লক্ষ৷ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক মোটামুটি ৭০০ জন৷ প্রত্যেকের ঘাড়ে তাহলে রইল ৭ হাজার কেস৷ হাতে সময় ২১ দিন৷ ছুটিছাটা সব বাদ দিয়ে দিলেও দিনে ৩৩৩ টা কেস৷ গড়ে ৮ ঘন্টা কাজ হবে ধরলে ঘন্টায় ৪১টা৷ এক-একটি কেসের জন্য দেড় মিনিট করে বরাদ্দ৷ সহজ অঙ্কের হিসেব৷ এতে করে কী ‘বিবেচনা’ হবে, তাও অর্ধেক অবাঙালি লোক নিয়ে, সে নিজেরাই ভাবুন৷ এরপরে আছে অ্যাপিল, ট্রাইবুনাল, মান্যবর উকিলদের সেবার জন্য পয়সা খরচ৷ সে কবে হবে কেউ জানেনা৷
সব মিলিয়ে যা দাঁড়াল, রাজ্যের নির্বাচক দরকার নেই, সরকার দরকার নেই৷ শাসনটা রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই চলে যাবে৷ আর শাসিত হিসেবে নির্ঘাত আনা হবে গোবলয়ের অনুগত প্রজাদের৷ এতে লাভ দুটো৷ হিন্দুস্তানের আগ্রাসন পাকাপোক্ত হবে৷ আর সামনেই আসছে ডিলিমিটেশন৷ পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা কমে গেলে আসন কমবে৷ গোবলয়ের আধিপত্যের বন্দোবস্তো চিরস্থায়ী হবে৷
রাজাকারদের কথা ছেড়ে দিন, তারা এই বাজারেও কেউ সোজা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, কেউ ঘুরিয়ে সেটিং এর ঢাক বাজাচ্ছেন৷ কিন্তু বাদবাকি যারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন, ঘুমোবেন না৷ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটাই ধবংসের মুখে কিন্তু৷ তৃণমূল-সিপিএমের চেয়ে অনেক বড় সেটা৷ এরা কতদূর যেতে পারে, সে নিয়ে কোনো ধারণা থাকলে এই সুনামির মধ্যে কেউ মনের আনন্দে নিদ্রা দিতে পারেনা৷
- Log in to post comments