Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

কঃ পন্থাঃ

শ্রীসুভাষ প্রকাশ পাল

মহাভারতের একটি উপাখ্যান দেখতে পাই--- বহুরূপী ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ণ করছেন---‘ক ঃ পন্থা’ তার উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন---‘‘বেদঃ ভিন্না স্মৃতয়ো ভিন্নাঃ নাসৌ মুনির্যস্য মত্যং ন ভিন্ন্‌ম, ধর্মস্য তত্ত্বং নিহিতং গুহায়াং মহাজানো যেন গতঃ সঃ পন্থাঃ’ অর্থাৎ চারটি বেদ, (ঋক, সাম, যজু অথর্ব) ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছে৷ মনু, যাজ্ঞবল্ক প্রভৃতি রচিত স্মৃতিশাস্ত্রগুলির মধ্যে অনেক অমিল দেখতে পাই, মুনিদের মধ্যেও মত পার্থক্য রয়েছে-৷ ধর্মের প্রকৃত অর্থ সবসময় বোধগম্য নয়, তাই মহাপুরুষরা যেমন যেমন আচরণ করেছেন, যেভাবে জীবন অতিবাহিত করেছেন, সাধারণ মানুষজন সেইভাবেই নিজেদেরকে গড়ে তুলবেন, কবির ভাষায়--- মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন সেই পথ অনুস্মরি স্বীয় কীর্তি ধবজা ধরি আমরাও হব বরনীয়’৷

আমাদের রাজ্যে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গেও সাধারণ মানুষ অন্ধকার পথহারা হয়ে পথ খুঁজছেন৷ অধিকাংশেরই মনে প্রশ্ণ--- কর পন্থাঃ? কোন পথে হাঁটব কাকে বিশ্বাস করব কার কথা শুনব প্রধানমন্ত্রীর কথা না মুখ্যমন্ত্রীর কথা বিভিন্ন দলের নেতা-নেত্রীরাও পরস্পর বিরোধী কথা বলে চলেছেন, যাঁরা কোনো দলের অন্ধ ভক্ত তাঁদের একটা সুবিধা আছে৷ তাঁরা তাঁদের দলের নেতা-নেত্রীরা যা বলেন, তাই বিশ্বাস করেন এবং অন্ধভাবে তা মেনে চলেন৷ নিজস্ব বিবেক বা বিচারবুদ্ধির সেখানে কোন স্থান নেই, কিন্তু যাঁরা অন্ধ ভক্ত নন, নির্দিষ্ট কোন দলের সক্রিয় সদস্য নন, নিজস্ব বিচার বুদ্ধি দ্বারা সব কিছু জানার বা বোঝার চেষ্টা করেন--- বিপদটা তাঁদেরই, এদের জন্যই কোটি কোটি টাকা খরচ করে গণতান্ত্রিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়৷

বর্তমানে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই আদর্শের তোয়াক্কা না করে, ন্যায়নীতি বিসর্জন দিয়ে ভোটের স্বার্থে জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন যার খুব কমই বাস্তবে কার্যকরী করা হয়৷ যেন তেন প্রকারেন ভোট পাওয়াটাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য, দলীয় স্বার্থে নিজের ভাইকে খুন করতেও পিছু পা হন না, অর্থাৎ স্বার্থসিদ্ধিটা হল লক্ষ্য, জনসেবা হল উপলক্ষ্য, সাধারণ নেতা-নেত্রীরা রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে কিছুটা ন্যায়-নীতির পথ ধরে চলার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু সম্মুখে কোন বৃহৎ আদর্শ না থাকায় ক্রমশঃ তাঁরা আত্মসুখসর্বস্ব হয়ে পড়েন, নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, পাপ কাজে লিপ্ত হন৷ জন সাধারণকে তার ফল ভোগ করতে হয়৷ কথায় বলে--- রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট৷

বাস্তবক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যাদের লোকবল আছে, প্রভূত ধন-সম্পদ আছে, ভাল বক্তব্য রাখতে পারেন, বাক্‌-চাতুর্য আছে, মিথ্যাভাষনে পারদর্শী, লোকঠকানোতে ওস্তাদ--- এরকম লোকেরাই ভোটে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ লাভ করেন৷ রাজনৈতিক দলগুলিও দলীয় স্বার্থে ভোটের স্বার্থে এধরণের লোককে এম.এল.এ / এম.পি হওয়ার টিকিট প্রদান করে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের লক্ষ্য থাকে স্বীয় স্বার্থসিদ্ধি বা দলীয় স্বার্থসিদ্ধি, কিন্তু যাঁরা সত্যই মানুষের কল্যাণ চান, তাঁদের চরিত্র হতে হবে নিষ্কলুষ৷ যারা হবেন উদার হৃদয়, নারায়ণজ্ঞানে মানুষের সেবাই হবে তাঁদের ধ্যান জ্ঞান, এদেরকেই বলা হয় সদ্‌বিপ্র, প্রাউট প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার ভাষায়---

‘যারা যম-নিয়মে প্রতিষ্ঠিত-যারা ভূমার সাধক---তারাই সদ্‌বিপ্র৷ মানুষের প্রতিনিধিত্ব কেবল তারাই করবে, নিঃস্বার্থভাবে জীবসেবা কেবল তারাই করবে৷ নিঃস্বার্থভাবে জীব সেবা কেবল তারাই করতে পারে৷ মানুষ সদ্‌বিপ্রকে চিনে নেবে তার আচরণ থেকে, তার সেবা পরায়ণতা থেকে, তার কর্মনিষ্ঠা থেকে, তার চারিত্রিক দৃঢ়তা থেকে৷’’

এই সদ্‌বিপ্ররা দৃঢ়কন্ঠে ঘোষনা করবে---‘সবল মানুষের এক জাত, প্রত্যেক মানুষেরই সমান অধিকার, ‘মানুষ মানুষ ভাই ভাই৷ এরা বজ্রকন্ঠে সমাজ শোষকদের জানিয়ে দেবে---‘মানুষকে শোষন করা চলবে না’, ধর্মের নামে ভণ্ডামি চলবে না৷’ শতধা বিচ্ছিন্ন মানুষ সমাজকে সেবা-ত্যাগের প্রতীক গৈরিক পতাকার নীচে আহ্বান জানিয়ে তারা উদাত্তকন্ঠে বলবে--- ‘দুনিয়ার মানুষ এক হও’

সেজন্য বলা যায় --- সমাজ সবাইকার৷ কিন্তু এর অধিনায়কত্ব করবে সদ্‌বিপ্ররা ভোগ করার অধিকার সবার৷ কিন্তু সমাজ শাসনের অধিকার থাকবে কেবল সদ্‌বিপ্র অর্থাৎ নীতিবাদীর হাতে৷ সবার কল্যাণার্থে ভোটযুদ্ধ এদেরকেই আমাদের জিতিয়ে আনতে হবে,সদ্‌বিপ্ররা শাসনব্যবস্থায় এলে ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ব্রাহ্মণ-চণ্ডাল, মুচি মেথর সবাই উপকৃত হবে হবেন৷ ফলতঃ রামরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে৷ নান্যঃপন্থা বিদ্যতে অয়নায়

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved