গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় সমাজতন্ত্র আসাটা কঠিন কারণ জনগণের সচেতনতার অভাবে দলতন্ত্রের ওপর ধনতন্ত্র চেনে বসে৷ তখন শাসকে ‘ব’ কলমে রাষ্ট্র চালায় ধনকুবেররা৷ তবে ধীরে ধীরে সমাজব্যবস্থাকে সার্থক করে তুলতে সৎ নীতিবাদী শাসক যদি কিছুটা হয়,তাহলে হয়তো কিছুটা বাঁচার অধিকার দরিদ্র নাগরিকগণ পেতে পারে৷ আজ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সারা পৃথিবীর মানুষ জীবন সংগ্রাম করে একটি কথা হাড়ে হাড়ে অন্তরের সঙ্গে বুঝেছেন বিশেষ করে বিজ্ঞানের উন্নতিতে তাহলে সারা পৃথিবীটাই হলো সভ্য মানুষের কাছে একটি বৃহৎ পরিবার৷ তাই মানুষের মানুষের ভেদাভেদটা প্রায় মুছে গেছে যাচ্ছে৷ পৃথিবীর যেকোন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হলে নানা দেশে সেই দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহায্য পাঠান৷ যোগাযোগের চরমতম সুবিধা হওয়াতে মানুষের বন্ধুত্ব ও মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয় ফলে তারা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয় তাতে জাত পাতের সংকীর্ণ ভেদাভেদটা আর থাকে না৷ তাদের সন্তান-সন্ততিও যে দেশে জন্মাক না কেন তারা সেই দেশের নাগরিক হন৷ তাই এই অগ্রগতিকে কেউই অমান্য করতে পারে না ফলে এই কারণে বিশ্বের রাষ্ট্রই গড়ে উঠেছে মানুষের সমাজ হয়ে গেছে যেন একটি বৃহৎ পরিবার৷ তাই আমাদের অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে যাতে এই স্থুল শরীরের মধ্য দিয়ে আমরা সেই মানসিক ও আর্থিক সেই সম্বন্ধে জ্ঞাত হই৷ প্রত্যেক মানুষের তিনটি বিশেষ দিক আছে--- শরীর, মন ও আত্মা৷ এই তিনটির সম্বন্ধে আমরা যেন অবশ্যই সচেতন হই যদি তা না হয় তাহলে এই আপেক্ষিক জগতে সভ্য সচেতন মানুষ ও কর্মক্ষম মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবেন না৷ অপূর্ণতার কারণে মানুষ হয়েও পিছিয়ে পড়বে ৷ আজ শোনা যায় এই ভারতের বুকে বিশেষ কোনো শাসকদলের মাধ্যমে গীতার আদর্শে নাকি তারা দেশ শাসন করবেন৷ গীতার মুখ্য লক্ষ্যই হলো নিজেকে জানো অর্থাৎ আত্মানাং বৃদ্ধি৷ নিজেকে জানার অর্থই হলো মানুষ হওয়া যে মানুষের মনে কোন ছোট বড় ভেদাভেদ থাকবে না সবাই তার কাছে আপনজন সবাই কে সে বাঁচার অধিকার দেবেন৷ সেই শাসককে হতে হবে সৎনীতিবাদী আধ্যাত্মিক সাধক৷ প্রত্যেক মানুষের তিনটি বিশেষ দিক আছে--- শরীর, মন ও আত্মা৷ সেখানে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার তিল মাত্র শোষণের নীতি থাকবে না৷ যাকে বলা হয় সার্থক সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা৷ এটাই ভারতের গণপরিষদ যে সংবিধানের আদর্শ ও লক্ষ্য ধর্ম নিরপেক্ষতা ও গোষ্ঠী নিরপেক্ষতা৷সেই ভারত যুক্ত রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শাসনে এই মহান ভারত যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের প্রায় সব কটি সরকার তো দলীয় স্বার্থে সেই মহান সংবিধানের নীতিগুলির প্রায় ১১০ বার সংশোধন করেছে৷ দলীয় স্বার্থসিদ্ধিকেই বাস্তবায়িত করা হয়েছে৷ আর কোটি কোটি অভাবী গরিব মানুষকে চরমদ্রব্য মূল্য বৃদ্ধিতে ও বেকার সমস্যায় একেবারে অর্ধামৃত হয়ে বাস করতে হচ্ছে৷ তাদের জীবন যাপনের মানটাকেও পাশের ছোট ছোট রাষ্ট্রের জীবন যাপনের চেয়েও অনেক নিম্নে রয়ে গেছে৷ তাই শুধু কথায় তো কাজ হয় না, বাস্তবে সেটা দেখাতে হবে৷ তাই উৎপাদিত সামগ্রী রক্ষন করে প্রতিটি নাগরিক যাতে পান তার একটা সু-ব্যবস্থা করতে হবে যা খুব কম স্থানে আছে, প্রতিটি দোকানে ন্যায্য মূল্যের তালিকা টাঙ্গানো বাধ্যতামূলক করতে হবে৷ সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য লোকাল ট্রেন বাড়াতে হবে ভারতের মতো দেশে চরম গতিশীল ট্রেন দিয়ে চমকটা কম দিয়ে সেই নরনারায়নদের সেবা করতে হবে৷ পরিশেষে বিবেকানন্দের কথায় বলি--- বহুরূপে সম্মুখে ছাড়ি কোথা খুজিছ ঈশ্বর, জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর৷ তাই শাসক কথা ছেড়ে কাজে নামুন৷
- Log in to post comments