আপনার ঘরে যে পোষ্য সারমেয়টি আছে, হতে পারে তার জিনে এখনও রয়ে গিয়েছে নেকড়ের ডিএনএ! নেকড়ে থেকেই পৃথিবীতে কুকুরের আবির্ভাব৷ ফলে প্রাথমিক ভাবে মনে হতেই পারে, এটি নেকড়ের ডিএনএ-র কিছু অবশিষ্টাংশ৷ কিন্তু নয়া জিন গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, এটি কোনও অবশিষ্টাংশ নয়৷ বর্তমানে পৃথিবীতে যত ধরনের কুকুর রয়েছে, তার প্রায় দুই তৃতীয়াংশের জিনেই কিছু না কিছু মাত্রায় নেকড়ের ডিএনএ পাওয়া গিয়েছে৷
দীর্ঘ দিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল, ১৮৩৭-১৯০১ সালের মধ্যে সারমেয়দের কিছু প্রজাতিকে গৃহপালিত করা হয়৷ তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পরিবর্তন এসেছে অন্তত ১০ হাজার বছর আগে৷ এ বার জানা গেল, কুকুরদের বেশিরভাগ প্রজাতির জিনেই এখনও নেকড়ের ডিএনএ রয়ে গিয়েছে৷ সারমেয়দের জিন নিয়ে এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস৷ গবেষকদের দাবি, এটি নেকড়ে থেকে কুকুরে বিবর্তনের সময় থেকে যাওয়া কোনও জেনেটিক অবশিষ্টাংশ নয়৷ তাঁদের অনুমান, গৃহপালিত কুকুর এবং বন্য নেকড়ের মধ্যে গত কয়েক হাজার বছর ধরে প্রজনন হয়েছে৷ সম্ভবত ওই আন্তঃপ্রজননের কারণেই এখনও কুকুরের বেশির ভাগ প্রজাতির মধ্যে কিছু না কিছু মাত্রায় নেকড়ের ডিএনএ রয়ে গিয়েছে৷
বিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক সারমেয়দের বিভিন্ন প্রজাতির জিনে উপস্থিত নেকড়ের এই ডিএনএ-ই তাদের আকার, ঘ্রাণশক্তি, এমনকি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকেও প্রভাবিত করে৷ কুকুর এবং নেকড়ের মধ্যে আন্তঃপ্রজনন সম্ভব৷ জিনগত ভাবে বেশ কিছু সাদৃশ্য থাকায় এদের আন্তঃপ্রজননে জন্ম নেওয়া শাবকও প্রজননে সক্ষম হয়৷ তবে কুকুর এবং নেকড়ের আন্তঃপ্রজননকে এতদিন পর্যন্ত এক বিরল ঘটনা বলেই মনে করতেন বিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ৷ নয়া জিন গবেষণা সেই ধারণাকে নিয়েই প্রশ্ণ তুলে দিল৷
কুকুরদের জিন নিয়ে এই গবেষণার জন্য লিন এবং তাঁর গবেষকদল হাজার হাজার কুকুর এবং নেকড়ের জিনোম বিশ্লেষণ করেন৷ তাতে দেখা যায়, কুকুরের ৬৪ শতাংশেরও বেশি আধুনিক প্রজাতি ‘নেকড়ের বংশধর’৷ এমনকি ছোটখাট চেহারার চিহুয়াহুয়া কুকুরের মধ্যেও প্রায় ০.২ শতাংশ নেকড়ের ডিএনএ আছে৷ চিহুয়াহুয়া কুকুর পোষ্য হিসাবে বেশ জনপ্রিয়৷ বিশেষ করে এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য৷
নেকড়ের ডিএনএ সবচেয়ে বেশি কার শরীরে---গবেষণায় দেখা গিয়েছে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নেকড়ের ডিএনএ রয়েছে দুই প্রজাতির উল্ফডগের (গৃহপালিত কুকুর এবং বন্য নেকড়ের আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে উদ্ভূত প্রজাতি) মধ্যে৷ চেকোশ্লোভাকিয়ান উল্ফডগ এবং সারলুস উল্ফডগ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নেকড়ের ডিএনএ পাওয়া যায়৷ যে প্রজাতিগুলিকে সাধারণত পোষ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নেকড়ের ডিএনএ মিলেছে গ্র্যান্ড অ্যাংলো-ফ্র্যাঙ্কাইস ট্রাইকালার হাউন্ডের মধ্যে৷ এদের জিনে প্রায় পাঁচ শতাংশ নেকড়ের ডিএনএ মেলে৷ সালুকি এবং আফগান হাউন্ডও এই তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে৷
মনুষ্যবসতির মধ্যে বাস করে, কিন্তু পোষ্য নয় গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো এমন কুকুরদের যে নমুনাগুলি পরীক্ষা করা হয়েছে, দেখা গিয়েছে ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই তারা ‘নেকড়ের বংশধর’৷ কখন, কী ভাবে নেকড়ে এবং আধুনিক কুকুরের মধ্যে আন্তঃপ্রজনন হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷