সংবাদ দর্পণ

সুইসব্যাঙ্কে ভারতীয় জমা  টাকার  ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

সুইস ন্যাশন্যাল ব্যাঙ্কের তরফে  প্রকাশিত  এক রিপোর্ট থেকে জানা গেছে,  এই ব্যাঙ্কে ভারতীয় জমা  টাকা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ওই  রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতীয়রা যে পরিমাণ  টাকা জমা করেছে তার পরিমাণ  এক লাফে  বেড়ে ২০১৭ সালে সুইসফ্রাঙ্কসের  হিসেবে ১.০১ বিলিয়ন  হয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৭০০০ কোটি  টাকা৷

অথচ ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে ঘোষণা  করেছিলেন, সুইসব্যাঙ্কের কালো  টাকা অবিলম্বে ফিরিয়ে আনবেন৷ শুধু তাই নয়,  ওই টাকা থেকে প্রত্যেক  ভারতীয়ের  এ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা  করে জমা  দেওয়া হবে৷

কিন্তু সুইসব্যাঙ্কের  টাকা ফেরা তো দূরের কথা  সুইসব্যাঙ্কে ভারতীয়দের জমা করা কালোটাকা ৫০ শতাংশ বেড়ে গেল৷  আর এদেশে  ভারতীয়দের  ব্যাঙ্কে  সুইসব্যাঙ্ক থেকে  ফিরিয়ে আনা ১টাকাও জমা পড়ল না৷  বোঝা গেল, পুরোটাই ভাঁওতা৷

২ কুইন্টাল গাঁজা উদ্ধার

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

শিলিগুড়ি ঃ গত ১লা জুলাই  নিউ জলপাইগুড়ি থানার  পুলিশ গোপন  সংবাদ পেয়ে ফুলবাড়ি  এলাকায় তদন্ত করে ২ কুইন্টাল  গাঁজা  উদ্ধার  করল৷ অসমের  নয়াগ্রাম থেকে  উত্তর ভারতে  এই গাঁজা পাচার হচ্ছিল  বলে পুলিশের  অনুমাণ, এই পাচার  কার্যের  সঙ্গে  যুক্ত  থাকার  অভিযোগে পুলিশ  টিটন সাহা, বিজয় চৌধুরী ও স্বপন  দেবনাথকে  গ্রেফতার করেছে৷

শান্তিনিকেতনে আভা সেবাসদনের  উদ্বোধন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বোলপুর ঃ গত ২৯শে জুন বোলপুরের সুভাষ পল্লীতে (শান্তিনিকেতনে) আনন্দমাার্গের  আশ্রমে (জাগৃতি) একটি দাতব্য হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্র ‘আভা সেবা সদনে’র  উদ্বোধন  করা হয়৷ এই অনুষ্ঠানে  পৌরোহিত্য করেন ইমাদপুর মাষ্টার ইয়ূনিটের রেক্টর মাষ্টার আচার্য সৌম্যসুন্দরানন্দ অবধূত৷ সুভাষপল্লীর স্থানীয়  বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রী শিবশংকর রায়  লাল ফিতা কেটে- এই  দাতব্য হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রটির  উদ্বোধন করেন৷ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন  বোলপুরের বিশিষ্ট  আনন্দমার্গী সুব্রত ঘোষাল, অমিয় ঘোষ, বন্দনা দে, ডাক বিভাগের অবসর প্রাপ্ত কর্মী  শ্রী বিনোদ বিহারী মণ্ডল প্রমুখ৷ এদিন পাশ্ববর্তী  বিভিন্ন  গ্রাম থেকে বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷  প্রথম দিন ডাঃ নরেশচন্দ্র দাস ও ডাঃ মিহির কুমার বসাক প্রায় ৫০ জন দুঃস্থ রোগীদের  বিনাব্যয়ে  চিকিৎসা করেন ও ঔষধ প্রদান করেন৷

 

পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৪ ঘন্টাব্যাপী অখন্ড নাম সংকীর্ত্তন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৪ ও ৫ই জুন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার  বয়লাসোল ইয়ূনিটে ২৪ ঘন্টাব্যাপী অখন্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ এই কীর্ত্তনানুষ্ঠানে মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে  প্রায় দুইশতাধিক আনন্দমার্গীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়৷ কীর্ত্তন শেষে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আচার্য অমৃতবোধানন্দ অবধূত, শ্রী রমেন্দ্রনাথ  মাইতি ও শংকর প্রসাদ কুণ্ডু৷ অনুষ্ঠানান্তে প্রায় ২০০০ হাজার গ্রামবাসীকে নারায়ণসেবায় আপ্যায়িত করা হয়৷  সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্ব ছিলেন বয়লাসোল ইয়ূনিটের রাজীব প্রতিহার,বিপ্লব মাইতি, তাপস বেরা প্রমুখ৷

বঙ্গাইগাঁও শহরে আনন্দমার্গী প্রথায় বিবাহ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৮ই জুন সন্ধ্যায়, অসমের বঙ্গাইগাঁও অধিবাসী শ্রী নকুলচন্দ্র সাহা ও শ্রীমতী শুকতারা সাহার প্রথমা কন্যা কল্যাণীয়া নিবেদিতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রঘুনাথগঞ্জ নিবাসী স্বর্গীয় আশুতোষ সরকার ও স্বর্গীয়া জ্যোৎস্না সরকারের কনিষ্ঠ পু অনিন্দ্য সরকারের শুভবিবাহ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী প্রবর্ত্তিত সমাজশাস্ত্রানুসারে এক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন, সাধনা, গুরুপূজার পর শহরের সুসজ্জিত ‘টেরাপন্থ ভবনে’ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শত শত অতিথিবৃন্দ আনন্দমার্গের সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই শুভ বিবাহে পাত্রপক্ষে পৌরোহিত্য করেন আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে পৌরোহিত্য করেন অবধূতিকা আনন্দসুমিতা আচার্যা৷ সমস্ত অনুষ্ঠানটি অতীব সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন শ্রীমতী জয়া সাহা৷

উত্তর দিনাজপুরের আনন্দমার্গীয় বিধিতে বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

রাইগঞ্জ ঃ উত্তর দিনাজপুরের কুশমন্ডী ব্লকে গত ১লা জুলাই আনন্দমার্গের সমাজশাস্ত্রানুসারে একটি বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠান হয়৷ এই বিবাহানুষ্ঠানে পাত্র ছিলেন কুশমণ্ডী ব্লকের নিজ উত্তরপাড়া নিবাসী শ্রী জিতেন্দ্রনাথ সরকারের পুত্র ছত্রকুমার সরকার৷ আর পাত্রী ছিলেন কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ফতেপুর গ্রাম নিবাসী গোপাল চন্দ্র সরকারের কণিষ্ঠা কন্যা কল্যাণীয়া চুক্তি সরকার৷

এই অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন পাত্রপক্ষে আচার্য রসবোধানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে অবধূতিকা আনন্দ অনিন্দিতা আচার্যা৷

 এই বিবাহানুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি বর্গের সামনে আনন্দমার্গের বিবাহানুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আচার্য রসবোধানন্দজী বলেন, আনন্দমার্গে কোনোপ্রকার অন্ধবিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না৷ আনন্দমার্গ পণপ্রথারও ঘোরতর বিরোধী৷

মুরারৈ আনন্দমার্গ স্কুলভবনের নবনির্মিত কক্ষের উদ্বোধন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৭শে জুন বীরভূম জেলার মুরারৈ আনন্দমার্গ স্কুলের নবনির্মিত কক্ষ ও সুতপা সিন্হা স্মৃতিকক্ষের উদ্বোধন করলেন জেলার ভুক্তিপ্রধান শ্রী কেশবচন্দ্র সিন্হা৷

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবীণ আনন্দমার্গী শ্রী অনন্ত মালাকার মার্গগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন৷ এর পর শ্রীমতী প্রতিমা সরকার প্রদীপ প্রজ্বলন করেন৷ উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রথিতযশা গায়ক মোহিনী কুণ্ডু৷ প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীমতী বন্দনা দে ও শ্রীমতী মণিকা ঘোষ৷ তারপর অখণ্ডকীর্ত্তন মিলিত সাধনা, গুরুপূজা ও স্বাধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়৷

মার্গগুরুদেব ও আনন্দমার্গের আদর্শের ওপর বক্তব্য রাখেন অনন্ত মালাকার, সৃষ্টিধর সরকার ও ভুক্তিপ্রধান কেশবচন্দ্র সিন্হা মহাশয়৷ সুতপা সিন্হা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করলেন বিশ্বনাথ দত্ত৷ স্কুলের সভাপতি বাঁশরী মোহন দত্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন৷ সমাপ্তি সঙ্গীত পরিবেশন করেন মোহিনী কুন্ডু, তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেন প্রভাকর চক্রবর্তী৷ মিলিত আহারের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়৷

শিলিগুড়ি আনন্দমার্গের সেমিনার

সংবাদদাতা
পি এন এ.
সময়

গত ২২, ২৩ ও ২৪ জুন ঃ উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে আনন্দমার্গের প্রথম ডায়োসিস স্তরীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী প্রবর্ত্তিত আনন্দমার্গ দর্শনের ‘ব্রহ্ম সদ্ভাব’ ও ‘সামাজিক-অর্থনৈতিক দর্শন---‘প্রাউট’-এর ‘সুসংবদ্ধ কৃষি’, ‘সামাজিক সুবিচার’ প্রভৃতি বিষয় ছিল এই সেমিনারের আলোচ্য বিষয়৷

শিলিগুড়িতে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতনগর আনন্দমার্গ স্কুলে৷ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার থেকে প্রায় ২৫০ জন আনন্দমার্গী ভাই-বেনেরা এই সেমিনারে যোগদান করেন৷

‘ব্রহ্মসদ্ভাব’ বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে আচার্য রবীশানন্দ অবধূত বলেন, সকল বস্তুরই একটা ভিত্তি থাকা চাই৷ জীবন দৃঢ়ভিত্তিক না হলে সামান্য ঝড়েই তা ভেঙ্গে পড়ে৷ ব্রহ্মভিত্তিই দৃঢ়তম ভিত্তি৷ তিনি বলেন, ব্রহ্ম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চরম বিকাশ ঘটাতে পারে, তেমনই সমস্ত প্রকার কুসংস্কার তথা ডগমার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারে৷

তিন দিন ব্যাপী দর্শন ও আদর্শের আলোচনা ছাড়াও প্রতিদিন ভোরে ‘পাঞ্চজন্য’, কীর্ত্তন পরিক্রমা, মিলিত প্রভাতসঙ্গীত, কীর্ত্তন, মিলিত সাধনা প্রভৃতিও ছিল প্রাত্যহিক কর্মসূচীর অঙ্গ৷ এছাড়া দ্বিতীয় দিন আনন্দমার্গীদের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শিলিগুড়ি শহর পরিক্রমা করে৷ মিছিলের পর ইণ্ডোর ষ্টেডিয়ামের সামনে এক ধর্মসভারও আয়োজন করা হয়৷ এই ধর্মসভায় সভাপতিত্ব করে প্রবীণ আনন্দমার্গী কেশব সিন্হা৷ আচার্য বিশ্বমিত্রানন্দ অবধূত, আচার্য কৃষ্ণস্বরূপানন্দ অবধূত প্রমুখ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী সর্বানুসূ্যত আদর্শের ওপর বক্তব্য রাখেন৷ তাঁরা বলেন, আজকের সমাজের সামাজিক-অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক সমস্ত দিকেই মানুষ দিশা হারিয়েছে৷ ফলে দেখা দিয়েছে সর্বক্ষেত্রেই চরম অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা৷ আনন্দমার্গের সর্বানুস্যুত দর্শন প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে তার যথার্থ পথনির্দেশনা দিয়েছে৷

আচার্য কৃষ্ণস্বরূপানন্দজী বিশেষ করে ‘প্রাউট’ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বর্তমান সমাজের সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্ত প্রকার সমস্যারই সমাধান রয়েছে ‘প্রাউটে’৷

বড়তলা  আয়ুষ আনন্দম্’’ কর্ত্তৃক গড়িয়াস্থিত নরেন্দ্রপুর আনন্দমার্গ চিল্ড্রেনস্ হোমের শিশুদের বিভিন্ন উপহার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
Gariya CH feeding

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ উত্তর কলকাতার একটি মহিলা সংঘটন --- ‘‘বড়তলা আয়ুষ আনন্দম্’’ বিভিন্ন সময় দুঃস্থদের মধ্যে  কম্বল বিতরণ, রক্তদান শিবির ও গান-আবৃত্তি -বসে আঁকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে  থাকে৷ গত ১৭ই জুন  এই সংঘটনের সদস্যাবৃন্দ গড়িয়াস্থিত আনন্দমার্গ চিল্ড্রেনস্ হোমে যেখানে ৩৫ জন  ২ থেকে ২০ বছর বয়সী পিতৃমাতৃহীন  ও দুঃস্থ মেয়েরা  পালিত  হচ্ছে,  তাদের ও তিনজন আশ্রমবাসীর জন্যে দুপুরের ভোজনের আয়োজন করেন৷ সংঘটনের সদস্যাবৃন্দ প্রায় ৫০ জনের জন্যে তৈরী করা খাবার রিজার্ভ বাসে করে  বেলা ১২টা নাগাদ গড়িয়ায় আনন্দমার্গ চিল্ড্রেনস্ হোমে নিয়ে যান৷ সেখানে তাঁরা প্রথমে  হোমের শিশুদের কিছু আকর্ষণীয় উপহার  ও জামা কাপড়   দেন৷ এরপর শিশুদের গাওয়া বাংলা-ইংরাজী ও সংস্কৃত ভাষায়  বিভিন্ন প্রভাত সঙ্গীত শোণেন ও কয়েকটি নাচও দেখেন৷  তারপর হোমের শিশুদের ও হোমের অন্য আশ্রমিকদের সঙ্গে  নিজেরাও আহার করেন৷ উক্ত সংঘটনের  সদস্যাবৃন্দ আনন্দমার্গ চিলড্রেন্স হোমের শিশুদের নাচ, গান দেখে ও শুনে অভিভূত হন৷

আনন্দনগর সংবাদ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

 গত ৯ই জুন টাটোয়াড়াতে  এখানকার  বিশিষ্ট আনন্দমার্গী কালাচাঁদ কুমারের বাড়ীতে অখণ্ড কীর্ত্তনের অনুষ্ঠান হয়৷ ‘‘বাবা নাম কেবলম্’’ এই মহামন্ত্রের অখণ্ড কীর্ত্তন পরিচালনা করেন চক্রধর কুমারের হরিপরিমন্ডল গোষ্ঠী৷  কীর্ত্তন শেষে যথারীতি মিলিত সাধনা, গুরুপূজান্তে আচার্য মুক্তানন্দ অবধূত কীর্ত্তন মাহাত্ম্য ও সাধনার ওপর বক্তব্য রাখেন৷ তিনি বলেন সাধনা প্রতিটি মানুষের জীবনের আবশ্যিক কর্ত্তব্য৷ সাধনা অপূর্ণতা থেকে পূর্ণত্ব অর্জনের উপায়৷ আর কীর্ত্তন সাধনার  সহায়ক৷  কীর্ত্তন দেহমনকে পবিত্র করে৷ মনের কলুষতা দূর করে৷

ইমাংদা ঃ আনন্দনগরের নিকটস্থ ইমাংদা গ্রামে গত ১৬ই জুন অখন্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ অখণ্ড কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর আনন্দমার্গের সাধনা ও কীর্ত্তন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন আচার্য মুক্তানন্দ অবধূত৷ এরপর নারায়ণ সেবার (Mass feeding)  বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল৷  এতে প্রায় ৬০০ গ্রাম বাসীকে তৃপ্তি সহকারে মধ্যাহ্ণ ভোজনে আপ্যায়িত করা হয়৷ এর ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রাঢ় হোষ্টেলের অধ্যক্ষা অবধূতিকা আনন্দতীশা আচার্যা৷ সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আচার্য সংশুদ্ধানন্দ অবধূত৷

বৈপ্লবিক বিবাহ অনুষ্ঠান ঃ গত ২৪শে জুন তারিখে পাঠ ঝালদা গ্রামে (ঝালদা ব্লক) আনন্দমার্গীয় রীতিতে এক বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠান হয়৷ জাতিভেদ, পণপ্রথা কুসংস্কার বর্জিত  এই বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠানের পাত্রী ছিলেন পাটঝালদা নিবাসী  বিষ্ণুরাম কুইরীর জেষ্ঠ্যা কন্যা সারদা কুমারী৷ আর পাত্র ছিলেন পুরুলিয়া শহরের  কেতকা এলাকার  স্বর্গীয় জিতেন্দ্রনাথ পালের পুত্র বিদ্যুৎ কুমার পাল৷ পুরুলিয়া শহরের গণপতি লজে এই বিবাহানুষ্ঠান হয়৷ এই বিবাহানুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন পাত্রপক্ষে  আচার্য মুক্তানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে অবধূতিকা আনন্দনুময়া আচার্র্য৷

আচার্য মুক্তানন্দ অবধূত আনন্দমার্গের বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, এই বিবাহানুষ্ঠানে কোনোপ্রকার কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকে প্রশ্রয়  দেওয়া হয়না৷ বৈদিক মন্ত্রপাঠের  পর পাত্র ও পাত্রী দুজনেই পরস্পরের দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির দায়িত্ব গ্রহণ করার শপথ গ্রহণ  করেন৷ অন্যান্য বিবাহানুষ্ঠানে পাত্রীকে কোনো  শপথ  গ্রহণ করতেই হয় না৷  নারীকে কেবল দানের সামগ্রী মনে করা  হয় যা নারীর প্রতি অবমাননাকর৷ আনন্দমার্গে নারী-পুরুষের সমানাধিকার স্বীকৃত৷

চিতমু ঃ আনন্দনগরের সন্নিকটস্থ চিতমু গ্রামেও ১৮ই জুন আনন্দমার্গীয় বিধিতে  এক বিবাহানুষ্টান  হয়৷ এতে  পাত্র ছিলেন চিতমু নিবাসী সীতারাম গরাঞ এর পুত্র  রঞ্জিত গরাঞ ও কন্যা চিলগাড্ডা গ্রাম নিবাসী কপিলা মাহাতর  কন্যা লীলাকুমারী৷ এই বিবাহানুষ্টানের পৌরোহিত্য করেন  পাত্রপক্ষে আচার্য মোহনানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে অবধূতিকা  আনন্দ অনুময়া আচার্যা৷

আনন্দমার্গের বিবাহানুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যের ওপর  বক্তব্য রাখেন আচার্য মোহনানন্দ অবধূত৷

রোলা ঃ গত ২৩শে জুন ভলেণ্টিয়ার্স সোস্যাল সার্ভিসের তরফ থেকে আচার্য সংশুদ্ধানন্দ অবধূত পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসীকে নারায়ণ সেবায় আপ্যায়িত করেন৷ এর আগে সবাইকে নিয়ে অখণ্ড কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনা করেন৷

জেড়াডি ঃ সিদি অঞ্চলের জেড়াডি গ্রামে ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়৷ এই অখণ্ড কীর্ত্তনের আয়োজন করেন সুরেশ কেওট৷ তাঁকে সহযোগিতা করেন কৌশিক সিং ও অন্যান্য মার্গীভাইবোনেরা৷ কীর্ত্তনের মাহাত্ম্যের ওপর বক্তব্য রাখেন আচার্য সংশুদ্ধানন্দ অবধূত৷ এরপর গ্রামবাসীদের নারায়ণ সেবার মাধ্যমে মধ্যাহ্ণ ভোজনে আপ্যায়িত করা হয়৷