সংবাদ দর্পণ

বিভিন্ন স্থানে আনন্দমার্গের সেমিনার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
Seminar-Anandanagar
অানন্দ নগরের সেমিনার

আনন্দনগর ঃ  গত ২৯, ৩০শে জুন  ও ১লা জুলাই  আনন্দনগরে  আনন্দমার্গের সেমিনার  অনুষ্ঠিত হয়৷  এই সেমিনারে আধ্যাত্মিক  ও সামাজিক অর্থনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন দিকের ওপর ক্লাশ নেন কেন্দ্রীয়  সহকারী প্রকাশন সচিব আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত৷ আনন্দনগর  এলাকার  প্রায়  ১০০ মার্গের কর্মীও অনুগামী এই সেমিনারে  যোগদান করেন৷ আচার্য সর্বাত্মানন্দজী আনন্দমার্গের ব্রহ্মসাধনা ও একজন আনন্দমার্গীর আচরণ কেমন হবে--- এ সম্পর্কে যেমন  আলোচনা করেন,  তেমনি  সামাজিক  সুবিচার ও সুসংবদ্ধ কৃষির  ব্যাপারেও প্রাউটের  নীতির ওপর আলোকপাত করেন৷

রাইগঞ্জ ঃ  গত ২৯, ৩০শে জুন ও  ১লা জুলাই  রাইগঞ্জে আনন্দমার্গের ১ম  ডায়োসিস  স্তরীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হল৷  এইRaiganja Seminar সেমিনারে  আনন্দমার্গের আধ্যাত্মিক  ও সমাজদর্শনের  বিভিন্ন দিকগুলির ওপর আলোচনা করেন আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত৷

রাইগঞ্জের  অতিথি নিবাসে  (মৎসভবন) অনুষ্ঠিত এই সেমিনার উত্তর দিনাজপুর  ও  দক্ষিণ দিনাজপুর  জেলার  বিভিন্ন  ব্লক থেকে  প্রায় ২০০ জন আনন্দমার্গী সমবেত হয়েছিলেন৷ ৩০শে জুন আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে এক বর্র্ণঢ্য শোভাযাত্রারও আয়োজন  করা হয়েছিল৷  এই শোভাযাত্রা রাইগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে৷ মাঝে এক পথসভা  অনুষ্ঠিত  হয়৷  পথসভায় আচার্য সত্যস্বরূপানন্দ  অবধূত ও আচার্য বিশ্বমিত্রানন্দ অবধূত আনন্দমার্গের  আদর্শের  ওপর  বক্তব্য রাখেন৷ আচার্য সত্যস্বরূপানন্দ অবধূত বলেন, মানুষের  জীবনের  লক্ষ্য ব্রহ্মসম্প্রাপ্তি৷ ব্রহ্ম বা ঈশ্বর মানুষের  অন্তরে৷ 

তাই ঈশ্বর সাধনার  জন্যে তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়াতে হয় না, মনকে  অন্তর্মুখী করে অন্তরাস্থিত ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়৷ এজন্যে  প্রয়োজন অষ্টাঙ্গিক যোগ সাধনা৷ যোগের  নিয়মিত অনুশীলনের  মধ্য দিয়ে  মানুষ শারীরিক  সুস্থতা, প্রচণ্ড মানসিক  শক্তি  ও মানসিক শান্তি লাভ করতে পারে ও ক্রমান্বয়ে  আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটাতে পারে৷

আনন্দমার্গের প্রচারকগণ সর্বত্র  এই যোগসাধনা শেখান৷ এজন্যে কোনো  অর্থব্যয় করতে হয় না৷ জাতি-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের  জন্যে আনন্দমার্গের  দ্বার উন্মুক্ত৷

আচার্য বিশ্বমিত্রানন্দ অবধূত বলেন, শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী আধ্যাত্মিক  দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক -অর্থনৈতিক দর্শণও দিয়েছেন--- তার নাম ‘প্রাউট’৷ ‘প্রাউট’ বর্তমান  সমাজে  সমস্ত প্রকারের সামাজিক -অর্থনৈতিক  সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়েছে৷

গুয়াহাটি ঃ গত ২২, ২৩ ও ২৪ শে জুন গুয়াহাটির  জয়নগর আনন্দমার্গ আশ্রমে আনন্দমার্গের  ত্রিদিবসীয়  সেমিনার  অনুষ্ঠিত হয়৷  এই সেমিনারে  অসমের  বিভিন্ন  এলাকা থেকে  প্রায় ২০০ আনন্দমার্গী  যোগদান করেছিলেন৷ সেমিনার ‘ব্রহ্মসদ্ভাব’, ‘সামাজিক  সুবিচার’, ‘সুসংবদ্ধ কৃষি’--- প্রভৃতি  বিষয়ের  ওপর আলোচনা  করেন আচার্য নির্মলশিবানন্দ  অবধূত ও আচার্য  বোধিসত্তানন্দ অবধূত৷

সেমিনারে এই বিষয়গুলির ওপর আলোচনা  ছাড়া ও প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন, মিলিত সাধনা  ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচীও ছিল৷ যেমন ২২ তারিখে সমবেত আনন্দমার্গীরা গুয়াহাটি  রাস্তাঘাটে ‘কালেক্টিভ  স্যোশ্যাল সার্বিস’ (সি.এস.এস) এর কর্মসূচীর  মাধ্যমে রাস্তাঘাট  পরিষ্কার করেন৷ ২৩ তারিখে  হাসপাতালে রোগীদের  মধ্যে ফল বিতরণের কর্মসূচী গৃহীত হয়৷ এছাড়া জনবহুল কামাখ্যা মন্দিরের কাছে  ভক্তমণ্ডলীর  সুবিধার্থে জলসত্রের ব্যবস্থা করা হয়৷ এদিন  বিকেলে  এক সিম্পোসিয়ামের আয়োজন করা হয়৷ তাতে গুয়াহাটির বহু  ছাত্র-যুবা-বুদ্ধিজীবীদের  আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ৷ সিম্পোসিয়ামে  আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ডগমা’৷ এই বিষয়ে  বক্তব্য রাখেন  শ্রী খগেন দাস, আচার্য প্রমথেশানন্দ অবধূত প্রমুখ৷ সভায় সভাপতিত্বের আসন অলঙ্কৃত করেন শ্রী চিদানন্দনাথ৷

আচার্য প্রমথেশানন্দ অবধূত  বলেন, ধর্মের নামে  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে  মানুষ নানারকম  অন্ধবিশ্বাস, যুক্তিহীন ভাবজড়তাকে  মেনে চলে, মানুষের আধ্যাত্মিক  প্রগতির জন্যে  মনকে একাগ্র করে নিজের  অন্তরেই  ঈশ্বরের ধ্যান করতে হবে৷ এজন্যে তীর্থে  তীর্থে মন্দিরে  মন্দিরে ঘোরারও  কোনে প্রয়োজন নেই৷

এই সেমিনারের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিলেন মুখ্যতঃ আচার্য উদিতানন্দ অবধূত ৷

ডিমাপুর ঃ নাগাল্যাণ্ডের রাজধানী ডিমাপুরে  গত ২৯, ৩০ জুন ও ১লা জুলাই  আনন্দমার্গের সেমিনার হয়৷ এখানে আনন্দমার্গ দর্শনের বিভিন্ন দিকের  ওপর  ক্লাস নেন আচার্য নির্ম্মলশিবানন্দ অবধূত ও আচার্য বোধিসত্তানন্দ অবধূত৷ তিন দিন ধরে  সেমিনারের আলোচনা ছাড়াও প্রভাত সঙ্গীত, অখন্ড কীর্ত্তন নগর  কীর্ত্তন প্রভৃতি  মাধ্যমে  এখানে এক অপূর্ব  স্বর্গীয়  পরিবেশের  সৃষ্টি  হয়েছিল৷

‘আনন্দ আহার’ ঃ ডিমাপুরে ১লা জুলাই থেকে স্থানীয় আনন্দমার্গ  ইয়ূনিটের তরফ থেকে এক বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে৷  এর নাম ‘আনন্দ আহার’৷ এই  কর্মসূচীতে  প্রতি রবিবার এলাকার সমস্ত ভিখারীদের মধ্যাহ্ণভোজনের  ব্যবস্থা করা হবে৷  এদিনও সমস্ত ভিখারীদের আমন্ত্রণ  করে মধ্যাহ্ণ ভোজনে  আপ্যায়িত  করা হয়৷ এই সংবাদ দিয়েছেন  এখানকার  আনন্দমার্গের ডিট সেক্রেটারী আচার্য সদ্বোধানন্দ অবধূত৷

নেশার দ্রব্য  পাচার  করতে গিয়ে গ্রেফতার

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

কাফ সিরাপ খেয়ে  নেশা  করার প্রবণতার  জন্যে  নেশার  দ্রব্য হিসেবে  কাফ সিরাপ  পাচার  হচ্ছিল৷ তার  সাথে  ড্রাগ হিসেবে ১৪৫০টি  ট্যাবলেটও৷ বীরপাড়া থানার  ও.সি এই অভিযোগে ৩ জন পাচারকারীকে হাতে নাতে  ধরা হয়েছে  বলে জানান৷

আনন্দমার্গীয় বিধিতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

পাঁশকুড়া ঃ এখানকার বরিষ্ঠ আনন্দমার্গী শ্রী মণিলাল মাইতির ধর্মপত্নী শ্রীমতী গঙ্গারাণী মাইতি গত ৮ই জুন পরলোক গমন করেন৷ মার্গীয় বিধিতে সমস্ত আনন্দমার্গীরা মিলিত হয়ে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন৷ এরপর ১৫ই জুন মার্গীয় বিধিতে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়৷ যথাবিধি কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর আচার্য গোবিন্দ দেবের পৌরোহিত্যে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রঘুনাথবাড়ী আনন্দমার্গী ইয়ূনিটের সেক্রেটারী শ্রী রঞ্জিত রাউত মহাশয়৷

আনন্দমার্গীয় বিধিতে অন্নপ্রাশন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

পাঁশকুড়া ঃ গত ১২ই জুন শ্রীপার্থসারথী পাল ও শ্রীমতী কুন্তলা পালের কন্যার অন্নপ্রাশন ও নাম করণ অনুষ্ঠান আনন্দমার্গীয় বিধিতে অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর অন্নপ্রাশন ও নামকরণ অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন আচার্য গোবিন্দ দেব৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবধূতিকা আনন্দ সুধাকল্পা আচার্যা৷ সবাই মিলে শিশুকন্যার নামকরণ করা হয় ‘তন্নিষ্ঠা’৷

আনন্দমার্গীয় প্রথায় বৈপ্লবিক বিবাহ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৯শে জুন নদীয়া জেলার হবিবপুরের শ্রীতারাপদ বিশ্বাসের পুত্র শ্রীমান সুকান্ত বিশ্বাস ও হাঁসখালি ব্লকের ভৈরবচন্দ্রপুর নিবাসী শ্রীলক্ষ্মণ বিশ্বাসের কন্যা কল্যাণীয়া লিপিকা বিশ্বাসের সঙ্গে শুভবিবাহ আনন্দমার্গের চর্যাচর্য অনুসারে সুসম্পন্ন হয়৷ এই শুভবিবাহে পাত্রপক্ষে পৌরোহিত্য করেন আনন্দমার্গের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য ভাবপ্রকাশানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে পৌরোহিত্য করেন অবধূতিকা আনন্দ বিভুকণা আচার্যা৷ বিবাহ আসরে প্রথমে প্রভাত সঙ্গীত, কীত্রর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পরে আনন্দমার্গের বৈপ্লবিক বিবাহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন আচার্য সৌম্যশুভানন্দ অবধূত৷ সবশেষে সকলকে সাত্ত্বিক আহারে আপ্যায়িত করা হয়৷

 

উত্তর দিনাজপুরের আনন্দমার্গীয় বিধিতে বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

রাইগঞ্জ ঃ উত্তর দিনাজপুরের  কুশমন্ডী ব্লকে গত ১লা জুলাই  আনন্দমার্গের  সমাজশাস্ত্রানুসারে  একটি বৈপ্লবিক বিবাহানুষ্ঠান হয়৷  এই বিবাহানুষ্ঠানে  পাত্র ছিলেন কুশমণ্ডী ব্লকের নিজ উত্তরপাড়া নিবাসী শ্রী জিতেন্দ্রনাথ সরকারের পুত্র ছত্রকুমার  সরকার৷  আর পাত্রী ছিলেন কালিয়াগঞ্জ ব্লকের  ফতেপুর  গ্রাম  নিবাসী গোপাল চন্দ্র সরকারের কণিষ্ঠা কন্যা কল্যাণীয়া  চুক্তি  সরকার৷

এই অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন পাত্রপক্ষে আচার্য  রসবোধানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে  অবধূতিকা  আনন্দ অনিন্দিতা আচার্র্য৷

 এই বিবাহানুষ্ঠানে  আমন্ত্রিত  অতিথি বর্গের সামনে আনন্দমার্গের  বিবাহানুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে  আচার্য রসবোধানন্দজী বলেন, আনন্দমার্গে কোনোপ্রকার  যুক্তিহীন অন্ধবিশ্বাসকে  প্রশ্রয়  দেওয়া হয় না৷  আনন্দমার্গ পণপ্রথারও  ঘোরতর বিরোধী৷

কেরানীতলায় তিন ঘন্টাব্যাপী অখণ্ড নাম সংকীর্ত্তন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২০শে জুন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার  কেরানীতলা আনন্দমার্গ স্কুলের প্রবীণ শিক্ষক শ্রী  বিশ্বদেব মুখার্জীর বাড়িতে  তিন ঘন্টাব্যাপী অখন্ড নামকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ কীর্ত্তনশেষে, মিলিত সাধনা, গুরুপূজা ও স্বাধ্যায়ের পরে আনন্দমার্গ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন  আচার্য চিরাগতানন্দ অবধূত৷ উক্ত অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন কেরানীতলা আনন্দমার্গ স্কুলের প্রিন্সিপাল আচার্য  নিত্যতীর্থানন্দ অবধূত৷ 

ঝাড়গ্রামে ২৪ ঘন্টাব্যাপী অখন্ড নাম সংকীর্ত্তন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৩ ও ২৪শে জুন ঝাড়গ্রামের গড়মোহন ইয়ূনিটে ২৪ ঘন্টা ব্যাপী অখন্ড কীর্ত্তন  অনুষ্ঠিত হয়৷ কীর্ত্তনশেষে উক্ত অনুষ্ঠানে আনন্দমার্গের আদর্শ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন আচার্য কল্পনাথানন্দ অবধূত ও নিত্যতীর্থানন্দ অবধূত৷ অনুষ্ঠানাশেষে প্রায় ২০০ জনকে নারায়ণসেবায় আপ্যায়িত করা হয়৷ 

আনন্দমার্গীয় প্রথায় গৃহপ্রবেশ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

হুগলীজেলা ঃ গত ২৪শে জুন চাপাডাঙ্গার আনন্দমার্গ স্কুলে প্রবীণ শিক্ষক শ্রী রমেন চন্দের নোতুন নির্মিত গৃহে  আনন্দমার্গীয় প্রথায় গৃহপ্রবেশ  অনুষ্ঠিত হয়৷ এই অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন আচার্য সুবিকাশানন্দ অবধূত৷ এরপর তিনঘন্টাব্যাপী  ‘বাবা নাম কেবলম’ অখন্ড নাম সংকীর্ত্তন হয়, কীর্ত্তনশেষে মিলিত সাধনা ও স্বাধ্যায়ের পরে আনন্দমার্গের আর্দশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন আচার্য সুবিকাশানন্দ অবধূত (ডি.এস. হুগলি)৷ সবশেষে প্রায় ২০০ জনকে প্রীতিভোজে আপ্যায়িত করা হয়৷

মেদিনীপুর ঃ গত ১৭ই জুন পশ্চিমমেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড়ের বিশিষ্ট আনন্দমার্গী  শ্রী প্রবাল মাহাতর গৃহে আচার্য নিত্যতীর্থানন্দর পৌরোহিত্যে গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানটি সুসম্পন্ন হয় ও  এই  উপলক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তিনঘন্টা ব্যাপী ‘বাবা নাম কেবলম্’ অখন্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ কীর্ত্তনশেষে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আচার্য নিত্যতীর্থানন্দ অবধূত (ডি.এস.মেদিনীপুর)৷

কোচবিহারে আমরা বাঙালীর  একাদশ কেন্দ্রীয় সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

AB sanmelan 2কোচবিহার ১৫ই জুন ঃ কোচবিহার শহরের কাছারী মোড়ের  সন্নিকটে  জেলা পরিষদের  অতিথি নিবাস হলে গত ১৫ই জুন থেকে ১৭ই জুন  তিন দিন ব্যাপী ‘আমরা বাঙালী’ দলের  একাদশ ত্রৈবার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হল৷ উক্ত অনুষ্ঠানে  পঃবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম,মণিপুর ও ঝাড়খন্ডের   বিভিন্ন এলাকা  থেকে প্রায় তিনশত প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন৷ সম্মেলনে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন হয় ও বকুল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় সচিব রূপে পুননির্বাচিত হন৷

সম্মেলনের প্রথম দিনে অর্থাৎ ১৫ জুন  বেলা  ১২টায় অনুষ্ঠানের  শুরুতে  মিলিত কন্ঠে  ‘বাঙলা আমার দেশ’ প্রভাত সঙ্গীত সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত  হয়৷  এরপর  আমরা বাঙালীর  কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায় ‘আমরা বাঙালী দলের  পতাকা উত্তলন  করেন ও তারপর  প্রাউট দর্শনের  প্রবক্তা পরম শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন৷ তারপর এক এক করে  বাংলার মহান মনীষীদের প্রতিকৃতিতে মাল্যর্পণ  করা হয়, যাঁদের মধ্যে  ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগর, ক্ষুদিরাম বসু ও কোচবিহারের অন্যতম বিশিষ্ট সমাজসেবক ঠাকুর পঞ্চানন বর্র্ম প্রমুখ৷

মিলিত আহারের  পর বেলা ২ টা থেকে ৪টা  পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য AB sanmelan 1শোভাযাত্রা কোচবিহার শহরের বিভিন্ন এলাকা  পরিক্রমণ করে৷ অতিথি নিবাসের সন্নিকটে  অনুষ্ঠিত জনসভায় সকলেই উপস্থিত  হন৷ উক্ত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন  আমরা বাঙালীর  ত্রিপুরা রাজ্যের সচিব  হরিগোপাল দেবনাথ, বক্তাদের মধ্যে  ছিলেন কেন্দ্রীয় সচিব  বকুল চন্দ্র রায়, উজ্জ্বল ঘোষ, সুবোধ বর্মন, কেশব মজুমদার, খুশিরঞ্জন মন্ডল, সাগরিকা পাল ও জয়ন্ত দাস ৷ উক্ত পথসভায় জাগরণী সঙ্গীত  পরিবেশন করেন শ্রীমতী শ্যামা দে৷ পথসভায় বিভিন্ন বক্তা পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলা ভাষী বিভিন্ন এলাকায় বাংলা ভাষার সমস্ত সরকারী ও বেসরকারী কাজের দাবী রাখেন৷ অসমে নোতুন নাগরিকপঞ্জী তৈরীর মাধ্যমে এক কোটি ঊণচল্লিশ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের ভারত থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে৷ এর বাইরেও পুরুষানুক্রমে অসমে বসবাসকারী বাঙালীদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চলছে৷ ‘আমরা বাঙালী’র নেতৃবৃন্দ এর তীব্র প্রতিবাদ করেন ও এর বিরুদ্ধে সমস্ত বাঙালীদের আন্দোলনের আহ্বান জানান৷  সন্ধ্যে ৬টার পর যাত্রী নিবাস হলে মণিপুরে বাঙালীদের ভাষা-সংসৃকতি রক্ষার জন্যে যিনি তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মণিপুর থেকে আগত   সেই ‘আমরা বাঙালী’ সমর্থিত এম.এল.এ মোঃ আদারউদ্দিনকে সংবর্ধনার  আয়োজন  করা হয়৷ উক্ত অনুষ্ঠানের  সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাদল মজুমদার৷  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোঃ আদারউদ্দিন বাংলা ভাষা ও সংসৃকতি রক্ষার্থে মণিপুর, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড সর্বত্রই বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামের আহ্বান জানান৷ এই সভায় কোচবিহারের ৩২ জন ‘আমরা বাঙালী’র একনিষ্ঠ কর্মী যাঁরা বিভিন্ন আন্দোলনে অনেক বার কারাবরণ করেছেন তাদের  সবাইকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে  সম্মানিত করা হয়৷ এরপর মণিপুরের এম.এল.এর উদ্দেশ্যে একটি মানপত্র পাঠ করার পর মানপত্রটি মোঃ আদারউদ্দিন সাহেবের  হাতে তুলে দেন কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায়৷

সবশেষে  সভাপতি  শ্রী বাদল মজুমদার  তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সর্বত্র বাঙালীদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে  দল-মত ভুলে আন্দোলনের ডাক দেন৷ উক্ত অনুষ্ঠানের  সঞ্চালক হিসাবে  উপস্থিত ছিলেন  শ্রী শুভেন্দু  ঘোষ৷

দ্বিতীয় দিনে কেন্দ্রীয় সচিব গত তিন বৎসরের ‘আমরা বাঙালী’-র কাজের  প্রতিবেদন পাঠ করেন৷ আর্থিক প্রতিবেদন পাঠ করেন সহসচিব তারাপদ বিশ্বাস৷ এরপরে এই দুই প্রতিবেদনের  উপর প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশগহণ করেন৷

তৃতীয় দিনে ‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন হয় ও ১৭জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন৷ বকুল চন্দ্র রায় সর্বসম্মতিক্রমে কেন্দ্রীয় সচিব হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন৷

অসমে এন.আর.সি-এর নামে বাঙালী বিতাড়নের প্রতিবাদে কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘আমরা বাঙালীর’ তীব্র প্রতিবাদ

 নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ গত ২৩শে জুন কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘‘হিউম্যান প্রোটেকশন এ্যাণ্ড এ্যাওয়ার নেস অর্র্গনাইজেশন’’ এর পক্ষ থেকে অসমের  রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব নবীকরণ পঞ্জী নিয়ে  এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়৷ এই সভাতে বিভিন্ন বাঙালী গণসংঘটন  ও  রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা যোগদান করেন৷ উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা অরুণাভ ঘোষ, অসম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য, বাংলাপক্ষ সংঘটনের পক্ষ থেকে ডাঃ গর্গ চট্ট্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতা-  প্রদীপ ভট্টাচার্য, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে সায়ন্তন বসু, বিশিষ্ট আইনজীবী কল্লোল বসু , আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায়, আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য, সিপিএমের যুবসংঘটনের প্রতিনিধি ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী আইনজীবী অশোক গাঙ্গুলী, পবিত্র কুমার ঘোষ ও নিতীশ বিশ্বাস মহাশয় প্রমুখ৷

তপোধীর ভট্টাচার্য  তাঁর বক্তব্যে অসমে  বাঙালী নির্যাতনের  নির্মম প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন, তিনি বলেন, আমাদের  নাগরিকত্ত্ব কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র আমরা কোন মতে মেনে নেব না৷  তিনি এই সভায় প্রশ্ণ তোলেন  সর্বানন্দ সনোওয়াল ভারতীয় হলে অর্জুন নমঃশূদ্র  নয় কেন৷  কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষের প্রতিক্রিয়া  মাথার উপর ছাদ হারানোর কষ্ট যারা জানেন  তারাই বোঝেন সে যন্ত্রণা কতটা ভয়ঙ্কর ৷ বিজেপি প্রতিনিধি সায়ন্তন বসু  দেশবিভাগের  ভয়াবহ যন্ত্রণার কথা স্বীকার করেও বলেন যাতে বিদেশীদের হাতে  দেশ না চলে যায়, তাই এন.আর.সি নির্দেশ নিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট৷ আমরা এই প্রক্রিয়াকে নীতিগতভাবে সমর্থন করি৷

তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন অনেকেই, শ্রোতারা প্রশ্ণ তোলেন  বিদেশী কারা?  কিন্তু তিনি তার যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি৷ ‘আমরা বাঙালী’র  সচিব বকুলচন্দ্র রায় বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে  অসমে  বাঙালী নির্যাতনের প্রতিবাদ করে আসছি৷ ইতিমধ্যে আমরা অসম বিদেশ দফতরের সামনে বাঙালী বিতাড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছি, বিভিন্ন জেলায় পথসভা ও মিছিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও অসম সরকারের কাছে এই বার্র্ত দিতে চেয়েছি অবিলম্বে অসমের বাঙালী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে৷ তা না হলে  আমরা তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলবো৷ প্রয়োজনে অসমের যোগাযোগকারী জাতীয় সড়ক অবরোধ করতেও বাধ্য হব৷