আমাদের দেশের গোপীনগরে হরি ঘোষাল বলে একজন নিম্নমধ্যবিত্ত চাষী বাস করতেন৷ তাঁর এক বিচ্ছু জিদে পোকা ছেলে ছিল নাম পাঁচু৷ পাঁচু অদ্ভূত সব স্বপ্ণ দেখে মাঝে মাঝে৷ কোন কোন দিন মাঝ রাতে স্বপ্ণ দেখে সে এমন চিৎকার করে ওঠে যে প্রতিবেশীরা অনেকেই ঘুম ভেঙে উঠে বসে পাঁচু স্বপ্ণের জ্বালায় বাড়ির লোক তো বটেই প্রতিবেশীরাও মাঝরাতে অস্থির হয়ে উঠত৷
একবার পাঁচুর বাড়িতে এক আধ্যাত্মিক গুরু এসেছিল পাঁচু তার বাবা মাকে গুরুর খাতির যত্ন করতে দেখে তারও মনে আধ্যাত্মিক গুরু হওয়ার খুব বাসনা হয়েছিল৷ একদিন সে সত্যিই সত্যিই ঘুমের ঘোরে স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণকে স্বপ্ণে দেখে মনে মনে ভাবলো তাঁদের মতো সে হবে৷ তাই সেও গেরুয়া কাপড় পরতে লাগলো ও নিজেকে সন্ন্যাসী বলে অদ্ভুত আচরণ করতে আরম্ভ করলো৷ তার বাবা তাকে পড়াশুনায় মন দিতে বললেন৷ কে কার কথা শোণে! তাই নিজে তার বাবাকে জানিয়ে দিল সে একজন সন্ন্যাসী ও গুরু৷ তার বাবা তো অবাক! তিনি তাকে বললেন যদি পড়তে না চাস তো চাষের কাজে চল৷ সে বলল আমি পড়াশুণা তো করি তাই গুরু গিরি করবো আর পড়বো৷ তাই তাঁর বাবা হাল ছেড়ে দিল৷ সেই ছেলে বড়ো হয়ে কালী মন্দিরে গিয়ে একেবারে কালীর ভক্ত হয়ে কালীকানন্দ বলে নিজের পরিচয় দিতে থাকে৷ পরে একটি নোতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক নেতা হয়ে বসে৷ আর সেই কালী মায়ের ভক্ত হয়ে দলের নেতা হয়ে যায়৷ সকলেই তাকে মানতে থাকে ও অনুগত হয়৷ নিজে চাঁদা তুলে পাশের গ্রামে একটি কালীমন্দির করে বসেন৷ (১) অনেকেই মন্দিরের প্রতি আকৃষ্ঠ হয়৷ এই সুযোগে সে লোক দেখলেই বলে ওঠে--- বল, জয় মা কালী৷ কেউ না বললে তাকে ভর্ৎসনা করতে মারতে উদ্যত হতো৷ নিজেকে গোঁড়া হিন্দু বলে প্রচার করতো৷
জনগণ এই দেশটাই এক অদ্ভুৎ! না বুঝে সুঝে তাকেই পরে দেশ নেতা করে৷ তখন তার সুবিধা হল সে এক নতুন দেশের স্বপ্ণ মনে মনে ভাবলো আর সেই দেশের ভাগ্য বিধাতা হতে এমন সব কাণ্ড করে বসলো যা অতি মারাত্মক! সেই স্বপ্ণের দেশটাকে কব্জায় করতে ও রাজাধিরাজ হয়ে বোটারদের বোট কেড়ে নিয়ে এক ফন্দি করে বসলো৷ বোটারদের বোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে বোটার কমিয়ে রাজা হতে৷ সেই সুন্দর স্বপ্ণের দেশের বোটার বোট কেড়ে নিতেই একজনকে ডেকে আনলো যে লোকটি খুবই বুদ্ধিমান ফলে বোটার বোটে কেড়ে নিয়ে মিথ্যে নির্বাচন করে৷ সেই স্বপ্ণের দেশের লোকদের পূজার ও বসার যে স্থান সেইগুলি ধবংস করতে ও তাদের নিরাশ্রয় করতে লোক দিয়ে আগুন লাগিয়ে আতঙ্কে সৃষ্টি করে বসলে ও স্বপ্ণের দেশটিকে ধবংস করে শ্মশানে পরিণত করলো৷ এই হলো সেই ভণ্ড কালী ভক্তের জনগণের সেবা৷ তাই যদি এই ধরণের কিছু ঘটে বাস্তবে তা হলো সেই ভণ্ড ভক্ত রাজনৈতিক নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের উচিত শিক্ষা সেই ক্ষতিগ্রস্তদের অবশ্যই এক হয়ে অতি সত্ত্বর সুশিক্ষা দেওয়া সামাজিক কর্ত্তব্য ও এইসব লোককে মানবতাবাদী হতে চাপ সৃষ্টি করা৷ তবে পাঁচুর কথা শুনে মনে হলো এই পাঁচু এমন ধরণের স্বপ্ণ দেখলো কি কারণে? তাঁর উদ্দেশ্যটাই কি?
- Log in to post comments