নোতুন এক বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনন্দমার্গ দর্শনের প্রবক্তা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রাউট দিয়েছেন৷ ঐ তত্ত্বের মধ্যেই শোষক সম্প্রদায় তাদের বিনাশ দেখতে পেয়েছিল৷ তারা বুঝে গিয়েছিল এই প্রাউটের প্রচার ও প্রসার যত বাড়বে তত দ্রুতই তাদের পতন ঘটবে৷ একারণেই শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার ১৯৫৫সালে আনন্দ মার্গ প্রচারক সংঘ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় বিরোধিতা৷ ভয় পেয়েছিল কংগ্রেস, কম্যুনিস্ট, জনসংঘ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক শক্তি৷ তারা বুঝেছিল যত বেশি আনন্দ মার্গ দর্শনের প্রচার ও প্রসার ঘটবে ততই তাদের মুখোশ খুলে যাবে৷ আনন্দ মার্গের পথ চলা শুরু হতেই শোষক শ্রেণীর মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়ে যায়৷ নানান ভাবে বিরোধিতা চলতে থাকে৷ প্রথম প্রথম সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতে থাকে৷ সেসবে ভালো কাজ দেয়নি৷ অশুভ শক্তি অনেক পরিকল্পনা করে নানা ছক সাজিয়ে আনন্দ মার্গ দর্শনের প্রবক্তা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারকে জেলে আটক করে৷ মিথ্যা মামলা সাজিয়ে জেলে আটকে রেখে তাঁকে ও তাঁর এই সংস্থাকে সাধারণ মানুষের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়৷ তারা ভেবেছিল এই কাজে তারা সফল হবে৷ সাথে সাথে সংঘের প্রধানকেই যদি হত্যা করা যায় তাহলে সবকিছু তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে৷
মিথ্যা মামলায় তাঁকে আটক করে বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার পাশাপাশি ১৯৭৩সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি পটনা বাঁকিপুর সেন্ট্রাল জেলে ওষুধের নাম করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে সিবিআই অফিসার ইনজেকশনের নাম করে তাঁর শরীরে ভয়ানক বিষ প্রয়োগ করে৷ তারা ভেবেছিল সব শেষ হয়ে যাবে৷ তাঁকে সেদিন তীব্র বিষ প্রয়োগ করা হলেও মেরে ফেলতে পারে নি৷ জঘন্যতম এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে মার্গগুরুদেব সরব প্রতিবাদ জানিয়ে জেলের মধ্যেই অনশন শুরু করেন৷ দীর্ঘ ৫বছরের অধিক সময় দিনে এক কাপ ঘোল খেয়ে অনশন চালিয়ে যান৷ কোনোভাবেই অশুভ শক্তির কাছে তিনি মাথা নত করেননি৷ তাদের সব রকম কুপ্রস্তাব তিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন৷ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৭৮সালে তিনি মাথা উঁচু করে মিথ্যের জাল ছিঁড়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন৷ সেদিন পাপশক্তির পরাজয় ঘটেছিল৷ সেদিন যার অঙ্গুলি হেলনে এত কাণ্ড ঘটেছিল ভবিষ্যতে তার ও তার পরিবারের পরিনতি কি হয়েছিল তা সকলেই জানেন৷ সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে নোতুন সমাজ ঘটনে তিনি যে কাজ শুরু করছিলেন জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দ্বিগুণ গতিতে তিনি সেই কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন৷ তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর সর্বক্ষণের কর্মীদের হত্যা করার পরিকল্পনা৷ পশ্চিমবঙ্গে তখন চলছিল কম্যুনিস্ট পার্টির সরকার৷ বিজন সেতুতে ১৭জন আনন্দ মার্গ প্রচারক সংঘের সর্বক্ষণের কর্মী তথা সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীকে হত্যা করা হয় ছেলে ধরার মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে৷ এছাড়া আনন্দ নগরসহ পশ্চিমবঙ্গ , ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মার্গের কর্মীদের হত্যা করা হয় ও ব্যাপক হামলা চালানো হয়৷ এই হামলা চালিয়ে যারা ভেবেছিল আনন্দ মার্গ প্রচারক সংঘকে শেষ করে দেবে তারা নিজেরাই আজ পশ্চিমবঙ্গের ও ত্রিপুরার মাটিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে৷ আনন্দ মার্গ দর্শন ও প্রাউট তত্ত্ব আজ ব্যষ্টি ও সমষ্টি জীবনে ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে৷ আজ সমস্যা সঙ্কুল বিশ্বকে একমাত্র রক্ষা করতে পারে শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার এর দর্শন ও তাঁর নিজের হাতে তৈরি সংঘটন৷
অতীতে আনন্দ মার্গ ও তার প্রবক্তার ক্ষতি করতে গিয়েছিল যারা অর্থাৎ যে পাপশক্তি তাদের সর্বনাশ বিশ্ববাসী দেখেছে৷ বর্তমানে বা ভবিষ্যতে যদি কোনো শক্তি আনন্দ মার্গ প্রচারক সংঘের প্রচার ও প্রসারের অগ্রগতি রুদ্ধ করার চেষ্টা করে তাদের পরিণতি আরও ভয়ঙ্কর হবে৷ যুগের প্রয়োজনেই আনন্দ মার্গ ও প্রাউটের আবির্ভাব৷ বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ মানুষের উচিত ভালো ভাবে আনন্দ মার্গ দর্শনকে জানার চেষ্টা করা ও প্রাউটের অর্থনৈতিক গণতন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট হওয়া৷৷
- Log in to post comments