Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রাউট ও নব্যমানবতাবাদ

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

মানুষ জড়জগতের ঠিকমত যত্ন নেয় নি৷ যেমন মানুষ অনেক পাহাড় ও পর্বতের ক্ষতি ও ধ্বংসসাধন করেছে৷ তোমরা অবশ্যই পাহাড়–পর্বত ধ্বংস করবে না৷ নচেৎ বৃষ্টিপাত বিঘ্ণিত হবে৷ তোমরা ভূ–গর্ভস্থ জল ব্যবহার করবে না বা গভীর–গভীর নলকূপ ব্যবহারে উৎসাহ দেবে না কারণ এই ধরনের কূপের ওপর অতিনির্ভরতার ফলে জলের স্তর একদম নীচে নেবে যাবে ও তার ফলে ওপরের মৃত্তিকা স্তর শুষ্ক হয়ে গাছপালার মৃত্যু ঘটাবে৷ বৃষ্টির জল ও নদীর জল ব্যবহার করা সবচাইতে ভাল৷ ভূ–গর্ভস্থিত জল ব্যবহার না করে জলাধারে সঞ্চিত বৃষ্টির জল ব্যবহার করা উচিত৷ দৃষ্টান্ত হিসেবে বলছি, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় গত কয়েক বৎসরে ভূ–গর্ভস্থ জল ১৫ ফুটের মত নীচে নেবে গেছে৷ যদি এরকম চলতে থাকে তবে আগামী ১০০ বৎসরের মধ্যে নদীয়া জেলা মরুভূমি হয়ে যাবে৷ নদীয়া জেলায় অনেক নদী আছে, যেমন ভৈরব, খড়ে, ভাগীরথী ইত্যাদি৷ এই সব নদীর জল খাল ও উপখালের মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে তোলা সেচ ও পাম্পের সাহায্যে ব্যবহার করা উচিত৷ নদীয়া, খুলনা ও যশোর জেলায় জলসেচ ব্যবস্থা এরকই হওয়া দরকার৷ অতীতে রাজা, জমিদারেরা জলসঞ্চয় করতে বড় বড় সায়র ও জলাধার তৈরী করতেন৷ গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে এখনও এরকম অনেক জলাধার দেখতে পাওয়া যায়৷ নদীর জল ও ভূতলের উপরস্থ জল ব্যবহার করার যথাসাধ্য চেষ্টা তোমরা করবে৷

কীভাবে মানুষ এই জড়জগতকে ধ্বংস করছে তার আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে পারমাণবিক বোমার ক্রমাগত বিস্ফোরণ৷ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ভূত্বকের ওপরে ও অভ্যন্তরে সৃষ্টি করছে বিশাল বিশাল গহবর৷ আবহমণ্ডলে সৃষ্টি করছে ধূসর মেঘ ত্ব্প্ত্ত্রন্তুন্স ন্তুপ্তপ্সব্ভস্তুব্দগ্গ্ ও পরিবেশের বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য ন্দ্বন্তুপ্সপ্তপ্সন্ধন্ ত্ব্ত্রপ্ত্ত্রুন্তুন্দ্বগ্গ নষ্ট করে দিচ্ছে৷ এই জড়জগতও পরমপুরুষের সৃষ্টি৷ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষ পরমপুরুষের মানস কল্পনাকে আহত করছে, আর এটা পৃথিবীর বাস্তুতান্ত্রিক তথা পরিবেশগত ভারসাম্যকে ন্দ্বন্তুপ্সপ্তপ্সন্ধন্ ত্ব্ত্রপ্ত্ত্রুন্তুন্দ্বগ্গ সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷

সমগ্র সৃষ্টির মঙ্গল সাধনে নব্যমানবতাবাদী নীতি হ’ল মানুষের কল্যাণ করতে হবে প্রথমে, তারপর মনুষ্যেতর জীবের, তারপর উদ্ভিদ জগতের ও তারপর অপ্রাণীন বস্তুর৷ একমাত্র আমিই বাঁচব এই উদ্দেশ্যে জীবজগতের অন্যান্য প্রাণীদের হত্যা করা মানুষের উচিত হবে না৷ নিজে বাঁচবে বলে মানুষ যদি একটি গোরুকে হত্যা করে তাহলে একটা মানুষকে মেরে একটা গোরুকে কেন বাঁচতে দেওয়া হবে না মানুষের জন্যে গোরু কেন মরবে গো যদি মাতা হয় তাহলে যেসব মানুষ গোদুগ্ধ পান করে তারা কি গোবৎস মহিষী ও ছাগদুগ্ধ তো অনেক মানুষ পান করে তা বলে তারাও কি মাতৃপদবাচ্য হবে গোহত্যা বন্ধ করা উচিত কারণ গোরু উন্নততর জীব, গোমাতা এই জাতীয় ভাবাবেগের কারণে নয়৷ এই একই কারণে মহিষ ও ছাগ হত্যা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত৷

মানুষ অন্য মানুষের দুঃখ ও কষ্ট অনুভব করতে শিখেছে কিন্তু যখন একটি কুকুর কষ্ট পায় তখন কেউ তার দিকে নজর দেয় না৷ মানুষ ভাবে কুকুরের যেন কোনো দুঃখ–কষ্ট বোধ নেই৷ যেদিন মানুষ ৰুঝতে শিখবে যে অন্যান্য প্রাণীরাও আনন্দ ও কষ্ট অনুভব করে, সেদিন তার সামনে প্রজ্ঞার এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হবে৷ মানবিক কর্ত্তব্যৰোধ ও আমাদের উচ্চতর ভাবনার কারণেই সকল প্রাণীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে৷

সাধারণ নিয়মে কোনো অবস্থাতেই মানুষ জীবহত্যা করবে না৷ তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম মানুষের জীবন বিপন্ন হলেই হবে৷ যেমন, যদি তুমি কোনো বাঘের সম্মুখীন হও ও তোমার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে তবে আক্রান্ত হওয়ার আগেই তুমি তাকে অনন্যোপায় হয়ে হত্যা করতে পার৷ সেই রকম সিংহ, সাপ, হাতি প্রভৃতি তোমাদের লোকালয়ে ঢুকে পড়লে মানুষদের জীবনের নিরাপত্তার জন্যে তোমাদের সর্বশেষ উপায় হতে পারে এই সব জীবদের হত্যা করা৷ কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতেই পশুদের হত্যা করা উচিত, নতুবা নয়৷ এর থেকে এটাই সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে পশুদের স্বাভাবিক বাসস্থানে তাদের তোমরা হত্যা করবে না৷ জঙ্গলে সিংহ, বাঘ, সাপ প্রভৃতি কত রকম জীবই না আছে কিন্তু তাদের সেই স্বাভাবিক বাসস্থানে তাদের হত্যা করা উচিত নয় কারণ সেখানে তারা মানুষের জীবন বিপন্ন করছে না৷ যদিও কোনো কোনো বাঘের মানুষকে আক্রমণ করার স্বভাব আছে তবুও শুধুমাত্র এই কারণেই সব বাঘকে হত্যা করা উচিত নয়৷ আমরা নিশ্চয়ই ভুলে যাব না যে লুপ্তপ্রায় পশুদের ও বিপন্ন প্রাণী–উদ্ভিদ প্রজাতিদের সংরক্ষণ করতে পরিবেশ সহকার কানন ব্দ্ত্রুন্তুব্ধব্ভ্ত্রব্জন্ তৈরী করা মানুষের অবশ্য কর্ত্তব্য৷ এটাই নব্যমানবতাবাদের বাস্তবসম্মত জীবন দর্শন৷ পশু ও উদ্ভিদ জীবনের প্রতি এটাই হচ্ছে নব্যমানবতাবাদের গৃহীত নীতি৷

নব্যমানবতাবাদ মনের অধিক্ষেত্র, ৰুদ্ধির অধিক্ষেত্র প্রসারিত করে৷ নব্যমানবতাবাদের চিন্তাধারা বাস্তব জীবনে রূপায়িত করার দায়িত্ব প্রাউটের৷

প্রাউট, নব্যমানবতাবাদ ও আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকবেই৷ এই ত্রয়ীর ভারসাম্য মানবীয় সংরচনাকে সত্ত্বাগত পরমাস্থিতিতে ড়ন্ন্ধড়ন্দ্বব্দব্ধ ন্দ্বপ্রন্ব্দব্ধনুব্ধন্ ব্দব্ধ্ত্রব্ধব্ভব্দগ্গ উন্নীত করবে৷ আমরা প্রাউটকে, নব্যমানবতাবাদকে কিংবা আধ্যাত্মিক সাধনা কোনোটাকেই অবহেলা করতে পারি না৷ এই ভারসাম্য সকলের জন্যে বজায় রাখতে হবে৷ এতে শুভচেতনা জাগবে ও মানুষের (নৈতিক) মান আরও উন্নত হবে, যার ফলে মানুষ আরও সেবাকাজ করতে পারবে৷

আধ্যাত্মিকতার পথ জাগতিক ও মানসিক জগতের চউকাঠকে অতিক্রম করে চলে৷ এটা দর্শনের একটি নূতন দিক, মানুষের প্রজ্ঞাসম্পদের একটা নূতন শাখা৷ আধ্যাত্মিকতা একটা মধ্যবর্ত্তী পথ যা দক্ষিণ ও বামদিক–প্রাউট ও নব্যমানবতাবাদের মধ্যে সন্তুলন রক্ষা করে চলেছে৷ প্রাউট, নব্যমানবতাবাদ ও আধ্যাত্মিকতাকে তন্ত্রের পক্ষীরূপের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে৷ তন্ত্রের একটা ডানা নিগম ও অপরটি আগম৷ আধ্যাত্মিকতা এই তন্ত্রপক্ষীর তুল্য যার একটা ডানা প্রাউট আর অপরটি নব্যমানবতাবাদ৷ এই পাখি তার ডানা মেলে উড়ে চলেছে আনন্দের পথ ধরে পরমপুরুষের পানে৷

২৫ অক্টোবর ১৯৮৯, কলিকাতা

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved