পরিবেশ শব্দের অর্থ -- আমাদের পারিপাশর্িক স্থিতি যা আমাদের চারিদিকে অবস্থিত ও যার প্রভাবে মানব ও মানবেতর প্রাণীসমূহ ওতপ্রোতভাবে প্রভাবিত৷ জীবজগতের উপর পরিবেশের প্রভাবকে মোটেই অস্বীকার করা যায় না৷ কিন্তু এই পরিবেশের প্রভাব অন্যান্য প্রাণী সমূহকে যতটা প্রভাবিত করে তার তুলনায় মনুষ্যজাতি অনেক অধিক প্রভাবিত৷ কারণ মানুষের দৈহিক গঠন, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-আশাক, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও জীবন-যাপন পদ্ধতি সবকিছুই পরিবেশ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত৷ সুতরাং একটা কথা অবশ্যই স্মর্তব্য যে, এই প্রাণীজগৎ পরিবেশের সৃষ্টি৷ আর মনুষ্য জাতি সকলের ধর্তা-কর্তা৷ সুতরাং সমস্ত রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাতাবরণকে রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের পবিত্র কর্তব্য৷ কারণ পর্যাবরণকে অবহেলা করে মনুষ্যজাতির অস্তিত্ব বজায় রাখা অসম্ভব৷
পরিবেশকে মূলতঃ দুইভাগে ভাগ করা যায় -- (ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ ও (খ) মানবসৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ৷
*(ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ*:-- প্রাকৃতিক পরিবেশ মানে ভৌগোলিক পরিবেশ যা ঈশ্বর সৃষ্ট বলেই স্বীকৃত৷ কারণ কোন স্থানের প্রকৃতি প্রদত্ত পরিবেশের আরেক নাম -- ভৌগোলিক পরিবেশ৷ এই প্রকৃতি প্রদত্ত পরিবেশ এমন একটা জিনিস যা কোন স্থানের জলবায়ু ও বাতাবরণকে প্রভাবিত করে৷ অর্থাৎ আমাদের চারি পাশে অবস্থিত ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, পাহাড় পর্বত, বন-জঙ্গল, নদ-নদী, সাগর, মহাসাগর, খাল-বিল, ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে যে প্রকৃত সৃষ্ট পারিপাশর্িক অবস্থা তারই নাম -- প্রাকৃতিক পরিবেশ৷
*(খ) মানবসৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ:-* বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ তৈরি করেছে গ্রাম-শহর, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ইত্যাদি৷ তাছাড়া জীবনের সুখ-সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য ও প্রয়োজনীয় বস্তু উৎপাদনের জন্য নানা রকম কল-কারখানা নির্মাণ করেছে আর নিজেদের সুবিধার্থে একটা অপ্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করেছে৷ কারণ আধুনিকতাকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে মানুষ শিল্পায়নকে আপন করে নিয়েছে৷ নিজেদের গতি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দ্বিচক্রযান থেকে শুরু করে বহুচক্রযান নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছে৷ এই কৃত্রিমায়নের ফলে মানুষের জীবন যাপন পদ্ধতি অবশ্যই অত্যধিক সুখকর ও আরামদায়ক হয়ে গেছে কিন্তু এই আধুনিকতার আস্বাদ গ্রহণ করতে গিয়েই আমরা আমাদের স্বাভাবিক পরিবেশকে হারাতে বসেছি৷ কারণ নগরায়ণ ও শিল্পায়নের উন্নতিকল্পে বন-জঙ্গল, নদ-নদী ও পাহাড় পর্বতকে ধবংস করে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করেছি৷ অতএব আমরা নিজেরাই আমাদের ক্রমান্বয়িক ধবংসের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছি৷ আমরা আমাদের ব্যষ্টিগত স্বার্থে বন উজাড় করেছি, যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করে পারিপাশর্িক উষ্ণতা বৃদ্ধি করেছি আর নদ-নদীর পথ রুদ্ধ করে তার নিম্নস্থ ভূপ্রকৃতিকে মরুভূমিতে পরিণত করেছি৷ অতএব আমাদের অবিমৃশ্যকারিতার জন্যই আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ গুরুতরভাবে বিপর্যস্ত৷ দোষ আমাদের৷ সুতরাং বিশ্ব পরিবেশকে মহতী বিনাশের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব৷ অতএব এতদর্থে প্রতিটি মানুষকে সচেতন করে তোলা একান্ত কর্তব্য৷ তা যদি না করা হয় -- তাহলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বিশ্বের সমস্ত প্রাণীকূল ধবংস হয়ে যাবে আর মনুষ্যজাতিও এই ধবংসলীলার হাত থেকে রেহাই পাবে না৷ সুতরাং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন থেকে মুক্তি প্রাপ্তির জন্য অবশ্যই পুনর্বনায়ন ও সবুজায়নের পথ বেছে নিতেই হবে৷
আজকের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমশঃ অবক্ষয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে৷ সুতরাং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে অবশ্যই বনোচ্ছেদন বন্ধ করতে হবে আর অন্যদিকে নোতুনভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নোতুন নোতুন বনসর্জন করতে হবে৷ কারণ উষ্ণায়নের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার -- সবুজায়ন৷ সবুজায়ন ব্যতিরেকে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করার কোন উপায় নেই৷ কারণ সবুজায়ন হচ্ছে -- উষ্ণায়ন থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র মকরধবজ৷
সুসম্পন্ন পরিবেশের মাধ্যমেই মানব সভ্যতা এগিয়ে এসেছে আর স্বাভাবিক পরিবেশকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতে মানব সভ্যতা আরো দ্রুততর গতিতে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে৷
মনুষ্য জাতিই হচ্ছে -- প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি৷ তাই মানবজাতিকে বলা হয় -- বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী৷ সুতরাং অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় বিশ্ব পরিবেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব মনুষ্য জাতিকেই বহন করতে হবে৷ আর এতদর্থে উষ্ণায়নের করাল গ্রাস থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক৷ আর উষ্ণায়ন থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় -- নোতুনভাবে বনসর্জন অর্থাৎ পুনর্বনায়ন৷ বনায়ন শব্দের অর্থ -- অধিক মাত্রায় বৃক্ষরোপণ৷ বৃক্ষরোপণ সম্বন্ধে শাস্ত্রে কথিত আছে --’বৃক্ষো রক্ষতি রক্ষিতঃ’ উপরিউক্ত শ্লোকটিতে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে যে, যে গাছপালাকে রক্ষা করে, গাছপালাও তাকে রক্ষা করে৷ অতএব বৃক্ষজগতের এই কৃতজ্ঞতা অবশ্যই অস্বীকরণীয় নয়৷ নব্যবনায়ন সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও পরিবেশ জ্ঞাতা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার তাঁর রচিত *’কৃষিকথা’* শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন:--
’বনসর্জন পরিকল্পনা সফলীভূত করার জন্য ভূপৃষ্ঠস্থ জলের সংরক্ষণ করতেই হবে৷ এর সর্র্বেত্তম উপায় হলো মজুত জলভাণ্ডারের জলধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে চলা আর সেই সঙ্গে নোতুন জলভাণ্ডার সৃষ্টি করা৷ এর জন্য সুলভতম ও সহজতম পন্থা হলো -- অধিক সংখ্যায় ছোট ছোট পুষ্করিণী ও জলাশয় তৈরি করা৷’
উপরিউক্ত উদ্ধৃতি থেকে এটাই সুস্পষ্ট যে, ক্রমিক অবক্ষয়ের করাল গ্রাস থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুরক্ষিত করার জন্য -- ভূপৃষ্ঠস্থ জলকে অবশ্যই সংরক্ষিত করতে হবে৷ কারণ রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে এক ব্যাপক ও বিজ্ঞান সম্মত বনসর্জন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতেই হবে৷ চলুন, এবার আসি বেদ ও উপনিষদের তত্ত্বকথায়৷ কারণ ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্যে প্রকৃতি ও পর্যাবরণকে ঈশ্বরের মূর্ত রূপ বলেই স্বীকার করা হয়েছে৷ এতদর্থে অথর্ববেদে বলা হয়েছে -- *মাতা ভূমিঃ পুত্রোহহং পৃথিব্যাঃ*
অর্থাৎ পৃথিবী আমাদের জন্মদাত্রী মাতা ও আমরা সবাই তাঁর সন্তান৷ শাস্ত্রে এটাও বলা হয়েছে যে, মানুষ হচ্ছে - অমৃতের সন্তান৷ সুতরাং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হাত থেকে বিশ্বকে বাঁচানোর একমাত্র দায়িত্ব -- মনুষ্য জাতির৷
ভারতীয় শাস্ত্রে আবার বলা হয়েছে:--
*অহিংসা সর্বভূতেষু, যথাহস্মাকং সুখং প্রিয়ম*
অর্থাৎ প্রতিটি জীবের প্রতি প্রেম ও প্রীতিময় ব্যবহার করাই মানবোচিত কর্ম৷ অকারণে কাউকে কষ্ট না দেওয়া আমাদের পরম কর্তব্য৷ যারা প্রতিটি জীবকে মনে প্রাণে ভালোবাসে তাঁরা অবশ্যই উদ্ভিদ জগৎকেও ভালোবাসে৷ আর যারা উদ্ভিদ জগৎকে ভালোবাসে তাঁরা পক্ষান্তরে প্রকৃতিকেই ভালোবাসে৷ সুতরাং যারা প্রকৃতিকে মনে প্রাণে ভালোবাসে তাঁরা অবশ্যই জ্ঞাতসারে প্রকৃতিকে প্রদৃষিত হতে দিতে চাইবে না৷ অর্থাৎ তারাই প্রকৃতির বাস্তব বন্ধু৷ প্রতিটি মানুষের উচিত, তাঁরা যতটা নিজেকে ভালোবাসে ততটা যেন অন্যান্য জীব জন্তুকেও ভালোবাসে৷ সুতরাং আজকের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত শ্লোকটি অবশ্যই নিয়মিত স্মর্তব্য৷
*সর্বে ভবন্তু সুখিনো সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ*
উপরিউক্ত শ্লোকটিতে বলা হয়েছে -- সবাই সুখী হউক, সবাই ভালো থাকুক, সবাই রোগমুক্ত জীবন যাপন করুক৷ কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশকে অবজ্ঞা করে সুস্থ ও সুখময় জীবন যাপন মোটেই সম্ভব নয়৷ সুতরাং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেই প্রতিটি মানুষ সুস্থ জীবনের অধিকারী হতে পারে৷ অন্যথা নয়৷ অতএব যেনতেনভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করাই আমাদের পবিত্র কর্তব্য৷
উপরিউক্ত শ্লোকটি কোন সংস্থাগত প্রতিষ্ঠানের ধ্যেয় বাক্য নয়৷ এটা হচ্ছে -- মানবজাতির প্রতি পরমপুরুষের পরম আশীর্বাদ৷ কিন্তু এখানে আরেকটা কথা অবশ্যই স্মরণীয় যে, রোগমুক্ত ও ভয়মুক্ত জীবন যাপন করতে হলে প্রতিটি মানুষকেই মনে প্রাণে লোভমুক্ত হতে হবে৷ কারণ লোভ এমন একটা জিনিস যা মানুষকে অসত্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিতে চায়৷ একজন লোভী মানুষ প্রকৃতির সবচেয়ে বড় শত্রু৷ কারণ তাঁরা নিজেদের স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করে নিজেদের ধনভাণ্ডার পূর্ণ করতে চায়৷ অতএব প্রতিটি লোভযুক্ত মানুষ জড়জগতকে আত্মসাৎ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পথে বিরাট বাধা৷ এরা জড়বাদী আদর্শে প্রভাবিত তাই জড়বাদকেই আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টায় নিমগ্ণ৷ লোভ শব্দের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে প্রাউট প্রবক্তা ও নব্যমানবতাবাদের প্রবর্তক শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন --
*’ জড়জগতের আত্মসাতের বা আত্মস্থীকরণের বা নিজীকরণের বা সহজভাষায় যে যুক্তি বর্জিত এষণা তাকেই বলে লোভ’*৷
সুতরাং মনে রাখতে হবে যে জড়জগতকে আত্মসাৎ করার প্রবল ইচ্ছা মানুষকে বিভ্রান্ত করে ৷ এই ধরণের মানুষ কোনদিন কোন মতেই আত্মিক জগতের অভিমুখে যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হয় না কারণ জড়জাগতিক স্পৃহা ভাব জগতের পথ বন্ধ করে দেয়৷ কারণ জড়জগতের ঊধর্ে এঁরা পদক্ষেপ করতে সক্ষম নয়৷ আর এদেরই কলুষিত হাত পরিবেশকে মহান ধবংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ কারণ জড়বাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষের দল নিজেদের ধনভাণ্ডারকে পরিপূর্ণ রাখার জন্য পরিবেশগত ভারসাম্যের কথা মোটেই ধ্যান দেয় না৷ বাস্তব পক্ষে এই ধরণের মানুষ গুলো কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশের শত্রু নয়, এরা অবশ্যই মানবতার শত্রু, মানব সভ্যতার শত্রু, মানব সংস্কৃতির শত্রু৷
সুতরাং পরিবেশ সংরক্ষণের কথা মনে রেখেই, প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই জড় জাগতিকতার ঊধর্ে আত্মিক ভূমিতে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে৷ আত্মিক ভূমিতে সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো মানুষ জগৎ কল্যাণের কথা চিন্তা করতে পারে না৷ তাই জগদগুরু শ্রী শ্রী আনন্দমূর্তিজী তাঁর শিষ্যদের বলেছেন -- তোমাদের লক্ষ্য হবে -- *আত্মমোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ*৷ অর্থাৎ আত্মিক মুক্তির পথ অবলম্বন করেই জগতের কল্যাণ করা সম্ভব৷ ধার্মিক ব্যষ্টি ব্যতীত জগতের সেবা করা সম্ভব নয়৷ সুতরাং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে ধার্মিক ব্যষ্টির ভূমিকা একান্তই কাম্য৷ কারণ শাস্ত্রে বলা হয়েছে -- ’ধর্র্মে রক্ষতি রক্ষিতঃ’৷ অর্থাৎ যে ধর্মকে রক্ষা করে ধর্ম তাকে অবশ্যই রক্ষা করে৷ বাস্তব পক্ষে ধর্ম একজন ধার্মিক ব্যষ্টিকে সর্বতোভাবে সাহায্য করে ও যে কোন প্রকার আপত্তি ও বিপত্তি থেকে রক্ষা করে৷ একথা নিদর্িধায় বলা যায়৷ কিন্তু পরমপুরুষের এই অসীম ও অযাচিত কৃপা বহির্জগতে মোটেই পরিলক্ষিত হয় না ৷ অতএব ধার্মিক ব্যষ্টির উপর পরম করুণাময়ের অসীম কৃপা জনসাধারণের পরিধির বাইরেই থেকে যায়৷ কারণ ধর্মের চলমানতা ও গতিশীলতা মূখ্যতঃ সূক্ষ্ম স্তরেই থেকে যায়৷ অতএব একজন আত্মিক ভাবাপন্ন মানুষ পরমপুরুষের কৃপাধন্য হয়ে ভাবজগতেই থেকে যায়৷ কারণ পরমপুরুষের কৃপা ভাবজগতেই উপলব্ধ আর ভাবজগতেই সীমাবদ্ধ৷ সুতরাং অন্যান্যদের গোচর বহির্ভূত৷
আজকের আলোচ্য বিষয় -- পরিবেশ সংরক্ষণ ওরফে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা যা ধার্মিক ব্যষ্টিদের দ্বারাই সম্ভব৷ সুতরাং এতদর্থে মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারে উক্তি একান্তই উল্লেখযোগ্য৷ কারণ তিনি বলেছেন:--
*’মানুষের গতি হচ্ছে পরিবেশগত ভারসাম্য অর্জনের দিকে অর্থাৎ চরম সংশ্লেষণাত্মক স্থিতির দিকে৷ অন্তর্জগতে সমতা বজায় রাখতেই হবে৷ কারণ এর ফলে আধ্যাত্মিক প্রগতি সম্ভব হবে৷ পরিবেশগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা শুধু এই গ্রহের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য৷ আর তা বাইরে ও ভেতরে দুদিকেই বজায় রেখে চলতে হবে৷ কোন জ্যোতিষ্কের কৌণিক স্থানচ্যুতি যেমন মানুষের মনকে প্রভাবিত করে, তেমনি বহির্জগতের দিক থেকে বিশ্বকেও প্রভাবিত করে৷ তাই বহির্জগতে ও অন্তর্জগতে সমতা অক্ষুণ রাখতে হবে৷ মানুষের জীবনের সর্ব ক্ষেত্রেই এই সূক্ষ্ম সমতা বোধ বজায় রেখে চলতে হবে -- এটাই হলো সত্যিকারের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা৷’
- Log in to post comments