প্রবীন আমরা বাঙালী নেতা জয়ন্ত দাশ বলেন দিল্লির নেতা মন্ত্রীরা স্বনির্ভর হলেই দেশ স্বনির্ভর হবে না৷ প্রতিটি রাজ্য আর্থিক দিক থেকে স্বনির্ভর হলে তবেই দেশ স্ব-নির্ভর হবে৷ পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থায় তা কখনও সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন আত্ম নির্ভর ভারত স্বনির্ভর ভারত এসব কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখেই শোভা পাবে বাস্তবে কখনও হবে না৷ পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুঁজিপতিরা ও তাদের অর্থপুষ্ট রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীরাই শুধু স্ব-নির্ভর হবে৷
শ্রী দাশ আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বনির্ভর নন, পুঁজিপতি নির্ভর তিনি দেশকে স্বনির্ভর করবেন কি করে? দেশকে স্ব-নির্ভর করতে হলে পুঁজিবাদ নির্ভর কেন্দ্রিত আর্থিক কাঠামো আগে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রীর দলই তো পুঁজিবাদ নির্ভর৷ এই দলের পক্ষে কোন দিন সম্ভব হবে না পুঁজিবাদের বিলোপ করা৷ গত ১১ বছরে আম্বানি আদানি জয় সাহাদের কত সম্পদ বেড়েছে আর সাধারণ মধ্যবিত্তের আর্থিক হাল কি হয়েছে তার তথ্যটা কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ করলেই দেশের আর্থিক হালের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে৷
দেশকে স্বনির্ভর করতে হলে প্রথমেই রাজনৈতিক প্রদেশগুলির সীমানা পুনর্গঠন করতে হবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ভৌগোলিক দৃষ্টি কোন থেকে ও প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ভাষা কৃষ্টি সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে৷ গড়ে তুলতে হবে একাধিক সামাজিক অর্থনৈতিক অঞ্চল৷ প্রতিটি অঞ্চলের আর্থিক ব্যবস্থা রূপায়নের দায়ীত্ব তুলে দিতে হবে ওই অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হাতে৷ আর্থিক ব্যবস্থার প্রাথমিক স্তর হবে প্রাউটের নির্দেশিত পথে ব্লক ভিত্তিক পরিকল্পনা রূপায়ন করা৷ এই আর্থিক পরিকল্পনা রূপায়নে বহিরাগতের কোন স্থান হবে না৷
এর পর শ্রী দাশ পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে বলেন স্বাধীনতার পরও খণ্ডিত পশ্চিমবঙ্গ ঔপনিবেশিক শোষনের হাত থেকে মুক্তি পায় নি৷ পরাধীন ভারতে বিদেশী ব্রিটিশ শোষন করতো, স্বাধীন ভারতে স্বদেশী শোষকরা বাঙলার সম্পদ লুন্ঠন করে পশ্চিম ভারতীয় পুঁজিপতিরা সমৃদ্ধ হচ্ছে৷ বিধান রায় থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাঙলার কোন মুখ্যমন্ত্রী দিল্লির শোষনের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেন নি৷ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দিল্লির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করলেও আর্থিক শোষন ও লুন্ঠন নিয়ে নীরব আছেন৷ শ্রী দাশ বলেন এখন বাঙলায় যে সম্পদ আছে খনিজ কৃষিজ বনজ তা যদি দিল্লির লুন্ঠনের হাত থেকে বাঁচান যায় তবে বাঙলায় সম্পদেই বাঙলা স্বনির্ভর হয়ে উঠবে৷ বাঙলাকে কারো কাছে হাত পাততে হবে না৷