Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

পুঁজিবাদ, কুসংস্কার ও মানস অর্থনৈতিক শোষণ

সুকুমার সরকার

সমাজ–র্থনীতি যে এক পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত তা চারিদিকের এতসব কান্ডকারখানা প্রতি মুহূর্তে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে৷ তবু এর থেকে বেরিয়ে আসার বিন্দুমাত্র প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে না সমাজ রাষ্ট্রের যারা হাল ধরে বসে আছেন তাদের মধ্যে৷ বরং লক্ষ্যণীয় এটাই যে, তারাও চাইছেন ঘোলাজলে মৎস্যশিকার করতে৷ নইলে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যাতায়াত ব্যবস্থার এই উন্নতির যুগে এতটা মৎস্যন্যায় অবস্থা হবার কথা নয়৷ তবু হচ্ছে৷

প্রতিদিন পথে ঘাটে হাজারো নারী ধর্ষিতা হচ্ছে, হাজারো মানুষ খুন হচ্ছে৷ সন্ত্রাস হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র–শিক্ষক নিগৃহীত হচ্ছেন৷ নেতা–মন্ত্রীরা কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন৷ তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা হাতের কব্জিতে মঙ্গল সূত্র বেঁধে তত্ত্বের কচকচানি করছেন৷ পক্ষে বিপক্ষে লড়াই হচ্ছে৷ পুলিশ মার খাচ্ছে৷ আদালতকে ভয় দেখাচ্ছে৷ ভয় থেকে বাঁচতে আল্লার নাম লেখা তাবিজ কবজ বিক্রি হচ্ছে৷ হনুমান–যন্ত্র বিক্রি হচ্ছে৷ ধনলক্ষ্মী যন্ত্রে রাতারাতি মানুষ নাকি বড়লোক হয়ে যাচ্ছে৷ বিজ্ঞানের প্রচার যন্ত্রে ফলাও করে তা প্রচার করা হচ্ছে৷ প্রচার করছেন বুদ্ধিজীবী, নায়ক, গায়ক, যাদুকর, জোকাররা৷ পরিশ্রম বিমুখ সাধারণ মানুষ অবাক বিস্ময়ে সে সব দেখছে আর কিনছে৷ তাবিজ কিনছে, কবজ কিনছে, ধনলক্ষ্মী যন্ত্র কিনছে, আল্লার সুরা লিখিত লকেট কিনছে৷ শুধু কেনা আর বেচার গল্প৷ শুধু বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন বিরতি৷ এর থেকে বেরিয়ে আসার বিন্দুমাত্র প্রয়াস কারও মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না৷ 

বর্তমান সময়ের ও বিবিধ সমস্যার মধ্যে এসব কথা অনেকের কাছে ফালতু কথা মনে হতে পারে৷ কিংবা এসব ব্যষ্টিগত ব্যাপার বলে উড়িয়ে দিতে পারেন৷ কিন্তু এত সব ঘটনার নেপথ্য কারণ এগুলোই৷ এই সব কারণগুলি থেকে ব্যষ্টিমানুষ বেরিয়ে আসতে না পারলে সমষ্টি মানুষের কোনো কল্যাণই আসবে না৷ প্রগতি দূর অস্তই থেকে যাবে৷ 

এতসব কথার অবতারণা এই জন্য যে, সমাজ–র্থনীতি আজ যে পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জমান, সেই পঙ্কিল আবর্তের নাম পুঁজিবাদ৷ আর এই পুঁজিবাদের প্রধান অস্ত্র কুসংস্কার৷ আর কুসংস্কারগুলির পেছনে ইন্ধন জোগায় ধর্মমত (ত্মন্দ্বপ্তন্ন্ধন্প্সু)৷ ধর্ম (ড্ডড়্ত্রব্জপ্প্ত্র) নয়৷

এত সব ঘটনার পেছনে পুঁজিবাদ৷ সমগ্র বিশ্বকে আজ পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা গ্রাস করে নিয়েছে৷ আর সেই পুঁজিবাদের প্রচারযন্ত্র, পুঁজিবাদের মাস মিডিয়ার কাছে যদি সমাজ প্রতিকারের আশা করে তা সর্বেব ভুল৷ 

শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু দলতন্ত্র নয়, কুংসস্কারতন্ত্রও এত সুকৌশলে অনুপ্রবিষ্ট করা হয়েছে যে, তথাকথিত প্রগতিবাদী কমিউনিষ্টরাও পুঁজিবাদীদের প্রচার যন্ত্রের বোকা বাক্সে বুলবুলির লড়াইয়ের মতো লড়ে চলেছে৷ তাঁদের তত্ত্বের কচকচানির লড়াই দেখলে বুলবুলির লড়াইয়ে কথাই মনে পড়ে৷ কলা দেখিয়ে দুই বুলবুলের ঝগড়ার মতো বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সঞ্চালক কোনো একটি ইসু ঝুলিয়ে দিয়ে মজা দেখেন, আর দেবনাথ অসীমরা ঘাড় উঁচিয়ে লড়াই করেন৷ আর সে লড়াই দেখতে ঘরে ঘরে টিভির সামনে আম–আদমির ভিড়৷ সেই ভিড়ের মাঝে মুহূর্মুহু পণ্যের বিজ্ঞাপনী বিরতি৷ হঠাৎ কোনো একটি চ্যানেলে না, এক সঙ্গে সবগুলি চ্যানেলে একসঙ্গে বেজে ওঠে বিজ্ঞাপনী বিরতি৷ ‘সব রসুনের এক পুটকি’–চুটকির মতো৷ সকল পুঁজিপতিদের একটাই লক্ষ্য নাচা, গানা, লড়াই যাই দেখো – বিজ্ঞাপনে পণ্য দেখো৷ পণ্য কিনো৷ দরকার থাকলেও কিনো, না থাকলেও কিনো৷ এই হলো পুঁজিবাদ তন্ত্রের মনস্তত্ব৷ আর এই মনস্তত্বকে পুঁজি করে’ যে অর্থনীতি তাকেই বলে মানস অর্থনীতি৷

চারিদিকে আজ যা কিছু ঘটছে, ঘটানো হচ্ছে, তার পেছনে পুঁজিবাদের মানস–র্থনৈতিক শোষণই আসল কারণ৷ এই কারণের প্রতিকার না করে কোনো কিছুতেই সমাজ–র্থনীতির গতি ফিরবে না৷ পঙ্কিল আবর্ত থেকে সমাজ বেরিয়ে আসবে না৷ এই মনস্তত্ব বুঝে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ না করলে সার্কাসের দর্শক হয়েই ভয়ের সঙ্গে বাঁচতে হবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved