(১২) ‘রণ্’ ধাতুর অর্থ স্পষ্ট ভাষায় আহ্বান জানিয়ে বিধিবদ্ধভাবে সংগ্রাম করা৷ মনে রাখতে হবে, রণের প্রথম আবশ্যক্য হচ্ছে তাকে প্রকাশ্যে আহ্বান জানানো হয়, লুকিয়ে চুরিয়ে চোরাগোপ্তাভাবে কিছু করা হয় না৷ সেইজন্যে রণের আহ্বানকে রণহুঙ্কার বলা হয় (‘হুং’ হচ্ছে সংগ্রামের বীজ)৷ দ্বিতীয় আবশ্যক হচ্ছে এটি খেলাধূলার sports) মতই বিধিবদ্ধভাবে করা হয়---যেমন সূর্যাস্তের পর রণ হবে না ভোজনকালে রণ হবে না পতিপক্ষ নিদ্রিত অবস্থায় থাকলে রণ হৰে না প্রতিপক্ষ শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও নপুংসক হলে রণ হবে না৷ প্রতিপক্ষ সংগ্রাম করতে না চাইলে রণ হবে না অথবা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে রণ হবে না, গদা যুদ্ধে নাভির নীচে আঘাত করা চলবে না৷ তাই সেকালে রণ ছিল এক ধরণের বিপজ্জনক খেলাধূলা৷ এই ‘র’ ধাতু থেকে যে অর্থে ‘রণ’ শব্দটি পাচ্ছি, সেই অর্থেই ‘রণ’ ধাতু + ‘ড’ প্রত্যয় করে ‘র’ শব্দটিও পাচ্ছি৷ তাই ‘র’ শব্দের একটি অর্থ হ’ল ‘বিধিবদ্ধ সংগাম’৷
(১৩) ৰলেছিলুম, ‘রা’ ধাতুর অর্থ হ’ল প্রদান করা, দ্রুত চলা, দ্রুত ৰলা৷ আলোক অত্যন্ত দ্রুতগামী৷ তাই ‘রা’ ধাতু + ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘র’ শব্দ পাই তার একটি মানে ‘আলোক’৷
(১৪) ওই একই কারণে যে বস্তু থেকে জেল্লা ঠিকরে পড়ে ভাবারূঢ়ার্থে তাকেও ‘র’ ৰলা হয় যোগারূঢ়ার্থে ‘র’ মানে প্রোজ্জ্বল হীরক (মুখ্যতঃ কাটার গুণেই হীরকের ঔজ্জ্বল্য নির্ভর করে)৷
(১৫) পৃথিবীর সর্ব দেশেই সর্ব কালেই নারীরা আভূষণ ও প্রসাধনপ্রিয় ছিলেন৷ এখনও তাঁরা তা আছেন কি না এর সদুত্তর তাঁরাই দিতে পারবেন৷ এককালে যেমন নারীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের কবরী রচনার (খোঁপা) প্রথা প্রচলিত ছিল, তেমনি সেই সময় প্রচলিত ছিল খোঁপাকে জাল দিয়ে ঘিরে রেখে জালের ভেতরে কিছুসংখ্যক খদ্যোৎকে (জোনাকী, বাংলায় ‘জোনাই’, ‘জুনি’, উর্দূতে ‘জুগ্ণু’, বিহারে ‘ভগ্জুগনী’) ছেড়ে দেওয়া হত৷ খদ্যোতেরা খোঁপার জালের ভেতর অন্ধকারে ঘুরে বেড়াত আর হাওয়া লেগে সেগুলি চক্চক্ করত৷ এই খদ্যোতের আলোয় চক্চক্ করা খোঁপাকে বা কৰরীকে ‘র’ ৰলা হত৷ এটাও ‘চক্চকে্’ এই ভাবারূঢ়ার্থ থেকেই এসেছে৷
(১৬) ‘রম্’ ধাতুর অর্থ খেলা করা, আনন্দ বিধান করা, আনন্দ দেওয়া বা আনন্দ পাওয়া৷ যোগীরা সাধকেরা তাঁদের আনন্দের উপকরণ হিসেৰে কেবলমাত্র পরমপুরুষকেই দেখে থাকেন৷ তাই ‘রমন্তে যোগিনঃ যস্মিন্’ এই অর্থে ‘রম্ +‘ঘঞ্’ করে যে ‘রাম’ শব্দ পাই তার অর্থ হ’ল পুরুষ৷ এই ‘রম্’ ধাতু থেকেই ‘রমা’ শব্দ পাচ্ছি যার অর্থ পরমা প্রকৃতি৷ এই ‘রম ধাতু থেকেই ‘রম্য’ শব্দ পাচ্ছি যার অর্থ আনন্দদায়ক (যেমন সুরম্য উপৰন)৷ এই ‘রম্ + ‘ড’ করে যে ‘র’ শব্দ পাচ্ছি তার একটি অর্থ ভালবাসা to love) ও ভাল লাগা to like)৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)