আজ যাঁরা প্রবীন তাঁরা হতবাক হয়ে যাচ্ছেন সাম্প্রদায়িকতায় সিদ্ধ হস্ত মিথ্যাচারী দল শাসনক্ষমতায় এসে সেই মহান গণতন্ত্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা অধঃপতিত করে দলবাজি করে চলেছে৷ তাই একজন তৃণমূলের এম.এল.এ নাম সেই হুমায়ুন যিনি মুসলীম ভাই তিনি তৃণমূল ত্যাগ করে নাকি একটি নোতুন দল ঘটন করে হুংকার দিচ্ছেন নিজেরই ছেড়ে আসা দল তৃণমূলকে৷ তিনি নোতুন দলের নাম করণ করেছেন ‘জনতা উন্নয়ণ দল’৷ তবে তাঁর আগে জনতা দল ভেঙ্গেই আর.এস.এস সেবামূলক সংঘটনই সৃষ্টি করেন ভারতীয় নাম দিয়ে ভারতীয় জনতা দল৷
তবে গত বার বছরে সেবার যা নমুনা দেখাচ্ছে---অটলজি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় কিছু ভাল কাজ করেছিলেন৷ কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় বসার আগে সুইসব্যাঙ্কের কালো টাকা ফিরিয়ে আনা, বছরে দু-কোটি চাকরী, শূন্য অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ অজস্র প্রতিশ্রুতির বহর শুনিয়ে ছিলেন৷ কিন্তু গত ১২ বছরের নিট ফল শূন্যেরও নীচে৷ সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইনইকোয়ালিটি ল্যাবের সমীক্ষার প্রতিবেদনে মোদি জমানায় ধনী দরিদ্রের বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে৷ দেশের জাতীয় সম্পদের ৬৫ শতাংশ দখল করে বসে আছে মাত্র ১০ শতাংশ ধনী৷ অপরদিকে নীচের ৫০ শতাংশের হাতে ৬ শতাংশের কম সম্পদ আছে৷
তাই মহান ‘জনতা’ আজ ধান্দাবাজদের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের বলি হচ্ছে৷ তবে নিরপেক্ষভাবে বলা যায় একটি কথা যদিও তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস করে সেটার ঘটনের অন্য কারণ ছিল৷ এই মমতাজী তখন সেই কংগ্রেসের মহিলা কংগ্রেস দলের নেত্রী হয়ে শক্তিশালী সিপিএম দলের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জীবনমরণ সংগ্রাম করছেন৷ এদিকে তখন কংগ্রেস কেন্দ্রের শাসক আর সেই সিপিএম হলো ‘ইস্যুভিত্তিকে’ সেই কংগ্রেসকে সমর্থন করে পশ্চিম বাংলা একোচ্ছত্রভাবে শাসন চালাচ্ছেন! তাই মমতাজীকে ও তার সমর্থকদের উপর সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুর দলের ক্যাডারগণ ও পুলিশ বাহিনী চরম হিংসাশ্রয়ী হয়ে তাঁদের চরম অত্যাচার করেন! তাতে মমতাজী প্রায় অর্দ্ধমৃত হন ও তাঁর প্রায় ১১ জন ক্যাডারকে হত্যা করে৷ অত্যন্ত আশ্চর্যের দুঃখের ও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় কেন্দ্রের শাসক দলের মুখ থেকে একটি কথাও বাহির হয়নি৷ এমনই সেই স্বেচ্ছাচারী গদী লোভী কংগ্রেস শাসক সেদিনের যুব নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দল থেকে তাড়াতে ঘৃণ্য চক্রান্ত করে৷ সেই পশ্চিম বাঙলার কংগ্রেস নেত্রী দলত্যাগ করে তৃণমূল দল ঘটন করেন! একরকম বাধ্য হয়েই তিনি নতুন দল তৈরী করেন৷ সেই তৃণমূলনেত্রী আজও নিজের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন এই পশ্চিমবাঙলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেই! তিনি কিন্তু সেই কংগ্রেস দলকে ত্যাগ করেও তাঁদের পাশে আজও আছেন৷
কিন্তু কংগ্রেস কখনই দলীয় স্বার্থের উর্ধে উঠে তাঁর সঙ্গে উচিত ব্যবহার করেনে৷ আর আজ কেন্দ্রের মোদি পরিচালিত বিজেপি সরকার এই রাজ্যে বার বার রাজনৈতিক লড়াইতে পরাজিত হয়ে বাঙলার প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে মিথ্যে অছিলায় বাঙলাকে বঞ্চনা করে চলছে৷ গণতন্ত্রের বেদীতে বসতে বহুক্ষেত্রেই স্বৈরাচারী আচরণ করছে৷ ভাবতে অবাক লাগে এই দলেরই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে যিনি ছিলেন শ্রদ্ধেয় আজ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে নরেন মোদি যেভাবে এস.আই.আরের নামে সংখ্যা গরিষ্ঠের মস্তানিতে নিয়ম পরিবর্তন করে দলদাস নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করে যেভাবে ৬০ লক্ষেরও বেশী নাম বাদ দিয়ে প্রায় সমসংখ্যক বোটারকে বিচারাধীন রেখে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরী করছে তা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র করে না৷ নরেনমোদির লক্ষ্য৷
এই রাজ্যের যাঁরা বোটার তাঁদের বোটার তালিকা থেকে কোটি বোটারদের সংখ্যা তিনি কমিয়ে দেবেন ও এই রাজ্যের সরকার কেউ উৎখাত করবেন৷ বিশেষ করে সেই পূর্ববঙ্গ থেকে যাঁরা অবৈধভাবে এদেশে এসেছেন তাঁদের বিশেষ করে মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারীদের৷ তাই এস.আই.আর৷
তাই দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি আজ ‘আমরা কোথায় এ কেমন স্বাধীন দেশে আমি বাস করি৷ এইসব কাণ্ডে আন্তর্জাতিক স্তরেই বা কি সংবাদ যাচ্ছে অতীতের সেই মহান ভারতবর্ষ সম্পর্কে৷ মনে রাখা দরকার বাঙালী জনগোষ্ঠী ছিল কাল এই রাজ্যের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছেও অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রাণ দিয়েছেন স্বাধীনতার জন্যই৷ কিন্তু কারা দেশ শাসক করছেন৷ যাঁরা সম্মান দিতে জানেন না মানুষকে৷ স্বেচ্ছাচারিতার স্থান এই ভারতযুক্তরাষ্ট্রে নেই বিশেষ করে চিরবঞ্চিত এই নির্যাতিত ও অত্যাচারিত এই বাঙলায়৷ ভবিষ্যৎ বলবে সেই নির্বাচনে! এই আশা এই বাঙলার প্রবীনগণ করেন৷ সত্যের জয় হবে!
- Log in to post comments