রাজনীতির খেলা অনেক হয়েছে, ক্ষমতার দলবদল হয়েছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গবাসীর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি৷ বাঙালী বিদ্বেষী দিল্লি সরকার এতদিন বাঙলার ধন-সম্পদ লুটে নিয়ে গেছে এবার তারা বাঙালী জাতিটাকে বিলুপ্ত করার খেলায় নেমেছে৷ রাজনীতির এই খেলায় দলদাস নির্বাচন কমিশনার স্বয়ং মাঠে নেমেছে কেন্দ্রের শাসক দলের ১২ নম্বর খেলোয়াড় হয়ে৷
গণতন্ত্রের বেদীতে স্বৈরাচারী শাসকের এই হিটলারী আচরণ নতুন নয়৷ দালাল মিডিয়া ও পোষ্য আমলাদের সাহায্যে গণতন্ত্রকে পদদলিত করে সারাদেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চাইছে বিকৃত হিন্দুত্বের ধবজাধারী ভারতীয় জনতা পার্টি৷ তার এই উদ্দেশ্য সাধনে সবথেকে বড় প্রতিবন্ধক পশ্চিমবঙ্গ৷ পশ্চিমবঙ্গ দখল না করা পর্যন্ত বিজেপির উদ্দেশ্য সাধন হবে না৷ ২০১৯ থেকে বারবার চেষ্টা করে আসছে বাঙলা দখলের৷ কিন্তু বাঙলার উদার অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা বিজেপির বাঙলা দখলের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তাই এবার বাঙালী জাতিটাকেই বিলুপ্ত করার খেলায় নেমেছে বিজেপি৷ ৭৮ বছর ধরে নেহেরু থেকে নরেন মোদি সরকার বাঙলার খনিজ সম্পদ, কৃষিজ সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে বাংলার উন্নত শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিকে ধবংস করতে অতি নিম্নমানের হীন রুচির অশ্লীল হিন্দি ভাষা সাহিত্য চলচ্চিত্র অবাধে বাংলার বুকে ছড়িয়ে দিয়ে ছাত্র যুব সমাজকে নৈতিক অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে৷
রাজ্যের বর্তমান শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপিকে রুখতে, বিজেপির বিরুদ্ধাচারণ করলেও দিল্লির শোষণ বঞ্চনা ও বাঙলার বুকে হিন্দি অসংস্কৃতির প্রসারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন না৷ বরং ভোট রাজনীতির স্বার্থে রাজ্যে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে বাঙলায় হিন্দি অসংস্কৃতির প্রসারে উদার হস্ত হয়েছেন৷
এই পরিস্থিতিতে বাঙালী আজ ভয়ংকর হিংস্র দুঃসময়ের পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়েছে৷ বাঙলার তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দলীয় স্বার্থের ঊধের্ব উঠে সার্বিকভাবে বাঙালী জাতির অস্তিত্ব রক্ষার কথা কোনদিনই ভাবেনি আজও ভাবে না৷ এই অবস্থায় বাংলা ও বাঙালীর স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল আমরা বাঙালী লড়ছে৷ জনসমর্থন ও রাজনৈতিক শক্তি আমরা বাঙালীর পাশে না থাকলেও আমরা বাঙালীর আদর্শ ও চিন্তা ধারা কতটা বাস্তবসম্মত তা আজ প্রমাণিত৷ কারণ দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমরা বাঙালী সমগ্র বাঙালী জনগোষ্ঠীকেে সতর্ক করে আসছিল আজকের এই ভয়ংকর দুঃসময়ের আগাম বার্তা দিয়ে৷ সেদিন বাঙলার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলি আমরা বাঙালীকে প্রাদেশিক সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে প্রচার করে বাঙালার জনগণকে আমরা বাঙালী থেকে দূরে রেখেছিল৷ কিন্তু সেদিন আমরা বাঙালী যে কথাগুলো বলেছিল আজ সর্বভারতীয় দলের তকমা লাগানো দলগুলি সেই কথাগুলি বলছে৷ কিন্তু এটা কতটা দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে, কতটা বাঙালী জাতির সার্বিক কল্যাণে এ বিচার করার সময় এখন বাঙালীর কাছে নেই৷ কারণ বাঙলার দুয়ারে সমন প্রবেশ করেছে আর্যবর্গীর বেশে৷ তাই বাঙালী কে আজ সবার আগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুকে নিকেশ করতে হবে৷ তারপর রাজনীতির ভাঙ্গা গড়ার হিসেব হবে৷ ইতিমধ্যেই প্রায় এক কোটি বাঙালীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিয়েছে দিল্লির দলদাস নির্বাচন কমিশনার৷ তবু এখনো সময় আছে বাঙালী যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়তে পারে তবে তবে বাঙলায় তার অস্তিত্ব রক্ষা হবে নতুবা পশ্চিমবঙ্গ হবে আর একটা হিন্দিভাষী রাজ্য৷
তাই ক্ষমতার হাত বদলের রাজনৈতিক খেলা অনেক হয়েছে৷ এবার শুরু হোক অর্থনৈতিক হাত বদলের রাজনীতির খেলা৷ শোষক পুঁজি-পতিদের তৈরি কেন্দ্রিত অর্থনীতির বুনিয়াদ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্বের প্রদর্শিত পথে বিকেন্দ্রিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে বাঙলার সম্পদ বাঙালীর হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে৷ তবেই বাংলা বাঁচবে বাঙালী বাঁচবে৷
- Log in to post comments