বিংশ শতাব্দীর ঠিক প্রাকমূহুর্তে আলালের ঘরের দুলাল হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন -- সর্বজন শ্রদ্ধেয় বীর বিপ্লবী সৈনিক ওরফে খ্যাতনামা দেশপ্রেমিক নেতাজী সুভাষচন্দ্র যিনি আই সি এস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করেও আলালত্ব ও দুলালত্বের মিথ্যা মোহ ত্যাগ করে, লোভনীয় ও বিশেষ রূপে সম্মানীয় সরকারি পদের মায়াজাল ছিন্ন করে, সুখ স্বাচ্ছন্দ্যময় আরামবহুল জীবন যাপনের অতি মসৃণ পথ ত্যাগ করে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন৷ ত্যাগ তিতিক্ষার অনুপমেয় নিদর্শন ও পৌরুষের বজ্রকৌস্তুভ সুভাষচন্দ্রের একমাত্র স্বপ্ণ ছিলো -- সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসক গোষ্ঠীর দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত করা৷ তিনি জানতেন যে দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গ করা মানেই, সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের সুখময় জীবন যাপনের পথ ত্যাগ করে অতি কষ্টময় কণ্টকাকীর্ণ পথ বেছে নেওয়া৷ তিনি এটাও জানতেন -- দেশপ্রেমিকদের বিপ্লবমুখী জীবনযাত্রার পথ সুমসৃণ নয় বরং জটিলতা ও কঠিনতার মণিকাঞ্চন যোগ৷ বিপ্লবের পথ সদা সর্বদাই কণ্টকাকীর্ণ ও বাধাবিপত্তিতে ভরা বন্ধূর পথ যা অতিক্রম করার জন্য জীবন উৎসর্গ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই৷ তবুও তিনি সুখ সমৃদ্ধির আরামবহুল পথ পরিত্যাগ করে দুঃখের অথৈ সাগরে পাড়ি দিয়েছিলেন৷ কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, মানব জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ -- দাসত্বের বন্ধন৷ সুতরাং তিনি একদিন এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন --
ভুললে চলবে না যে একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় অভিশাপ হলো -- দাসত্বের বন্ধন৷ সবচেয়ে জঘণ্য অপরাধ হলো -- অন্যায় ও অবিচারের সঙ্গে আপোষ ........ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নৈতিক গুণ হলো যে কোনো মূল্যে অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা৷
নেতাজির এই বক্তব্য থেকে এটাই স্পষ্ট প্রমাণিত যে, তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের পরিদর্শিত পথকেই অনুসরণ করে এগিয়ে গেছিলেন৷ এই সম্বন্ধে বিশ্বকবি রচিত নিম্নলিখিত কবিতাটি অবশ্যই স্মরণীয়:--
‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে,
তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সম দহে৷’
স্বাধীনতা সংগ্রামের সুবিশাল রণপ্রাঙ্গনে বহুসংখ্যক বীর বিপ্লবী সৈনিক তাঁদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন ও হাসিমুখে ধরাপৃষ্ঠ থেকে বিদায় নিয়েছেন৷ তাঁরা সকলেই চিরস্মরণীয় ও চিরবরণীয়৷ কিন্তু নেতাজি সুভাষচন্দ্র এমনই এক ব্যষ্টিত্ব যিনি স্বাধীনতা প্রাপ্তির সঠিক ও অমোঘ অস্ত্রটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন৷ আর এটাই একমাত্র কারণ যে, তিনি ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসের হাড়কাঁপানো শীতের রাতে মহানিষ্ক্রমণের পথে বেরিয়ে গেলেন তাঁর স্বপ্ণের ভারতবর্ষকে খুঁজে বের করার জন্য৷ অতিকষ্টে শীতসঙ্কুল পথ বেয়ে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন জার্মানির নাজীবাদী দুর্ধর্স শাসক হিটলারের সঙ্গে৷ তাঁরই জেলখানায় বন্দি ভারতীয় যুদ্ধবন্দীদের উৎপ্রেরিত করেছেন -- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করতে৷ এই কাজ যদিও সহজ ছিল না তবুও নেতাজী সুভাষচন্দ্র তাঁর দুরদর্শিতা ও অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন৷ সুদূর জার্মান থেকে বিপদসঙ্কুল সমুদ্র পথে সাবমেরিনে চড়ে পাড়ি দিয়েছেন -- সিঙ্গাপুর ও জাপানের পথে -- কেবলমাত্র দেশমাতৃকার চরণযুগলের আশ্রয় নিয়ে৷
নেতাজির দুর্দমনীয় সাহসিকতা ও বর্ণনাতীত স্বদেশপ্রেমের উন্মাদনাই তাঁকে পেশোয়ার থেকে কাবুলের পথ ধরে প্রচন্ড হিমশীতল পরিস্থিতিতেও তাঁর অপ্রতিরোধ্য মানসিকতাকে পরাজয় স্বীকার করতে দেয় নি৷ কারণ তিনি এগিয়ে চলেছিলেন -- এক নব্য নতুন বাধাসঙ্কুল পথ ধরে এক নতুন বিশ্বের সন্ধানে৷ আর তারই ধারাবাহিকতায় তিনি সৃষ্টি করেছেন -- এক অজেয়, অকল্পনীয় ও অচিন্ত্যনীয় এক নোতুন ইতিহাস যা আজও ভারতীয় জনগণের চিন্তায় ও ভাবনায় -- এক অভিনব বিস্ময়৷ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর করাল কবল থেকে ভারতকে মুক্ত করার জন্য বহু বিপ্লবী জীবনের মোহ ত্যাগ করে কারাবরণ করেছেন, হাঁসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন কিন্তু বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর রাহুগ্রাস থেকে ভারতকে মুক্ত করার যে পথ সুভাষের সৃষ্টি, তা ছিল সত্যিই অপ্রতিরোধ্য ও অভাবনীয়৷ তাঁর এই অপ্রতিরোধ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন -- স্বয়ং তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড ক্লিমেণ্ট এটলি৷ ১৯৫৬ সালে তিনি ভারত সফরে এসে পশ্চিম বঙ্গের রাজভবনে আতিথ্য গ্রহণ স্বীকার করেন ও তৎকালীন পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল ফণীভূষণ চক্রবর্তী মহাশয়ের একটি প্রশ্ণের জবাবে বলেছিলেন -- ইংরেজদের ভারত পরিত্যাগের একমাত্র কারণ -- নেতাজী সুভাষচন্দ্রের নব্য নোতুন ধারাল হাতিয়ার যা ছিল সত্যিই অপ্রতিরোধ্য৷ কারণ তিনি ভারতীয় সৈনিকদের মনকে দেশপ্রেমের পবিত্র ভাবনায় উদ্বেলিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন৷ আর সুভাষচন্দ্রের এই নব্য নোতুন পরিকল্পনার কাছে ব্রিটিশ সরকার হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন৷
১৯৪৫ সালের অগাস্ট মাসে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবসান ঘটে৷ চারিদিকে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে -- মিত্র পক্ষ জয়লাভ করেছে -- অক্ষশক্তি পরাজিত হয়ে বশ্যতা স্বীকার করেছে৷ কিন্তু ক্রুর বুদ্ধি সম্পন্ন আমেরিকা তাঁর শেষ চেষ্টায় জাপানকে বিধবস্ত করার জন্য ৬ই আগষ্ট ও ৯ই আগষ্ট ক্রমশঃ হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা নিক্ষেপ করে -- দুটি শহরকে আর্থিক ও সামাজিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে৷ আমেরিকার ক্রুর দৃষ্টিতে হারিয়ে গেল দুটি উন্নত শহর৷ এমনই এক অশুভ মূহুর্তেই হারিয়ে গেলেন বিশ্ববরেণ্য নেতাজী সুভাষচন্দ্র৷ চারিদিকে সংবাদ ছড়িয়ে গেল -- ১৮ই আগষ্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি মৃত্যুবরণ করেছেন৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত এই সত্য উদঘাটিত হয় নি৷ সর্বজনশ্রদ্ধেয়, মহান দেশপ্রেমিক ও রাজনীতির আকাশে জ্বলন্ত ধূমকেতু সম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৩০ বছর পরেও অনেকেই স্বীকার করেন -- তিনি বেঁচে আছেন৷ সুতরাং মহান দেশপ্রেমিক ও বাংলা মায়ের দামাল ছেলে সুভাষচন্দ্র বিশ্বের ইতিহাসে চির অমর ও এক মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ৷ হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও পৌরাণিক কাহিনীতে বর্ণিত আছে যে, রামায়ণের পরশুরাম ও পবন নন্দন হনূমান সহ মহাভারতে উল্লিখিত দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামা চির অমর৷ এদের মৃত্যু হয় নি, হবেও না৷ কলিযুগের ইতিহাসে এমনই এক ব্যষ্টিত্ব -- পৌরুষের বজ্রকৌস্তুভ সুভাষচন্দ্র৷ কারণ তিন-তিনটি সরকারি কমিশন নেতাজির মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে অপারগ৷ সুতরাং চিরস্মরণীয় ও চিরবরণীয় সুভাষকে মৃত্যুঞ্জয়ী সুভাষ বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না৷
স্বাধীনোত্তর ভারতে সংঘটিত তৎকালীন সরকার অনিচ্ছাসত্ত্বেও ১৯৫৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত তিনটি কমিশনকে নেতাজীর মৃত্যু রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু তিনটি কমিশনই অসফল ও নিরাশ হয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন৷ ১৯৫৬ সালে ঘঠিত প্রথম কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন -- তৎকালীন যোগাযোগ ও রেল দপ্তরের পরিষদীয় সচিব শাহনেওয়াজ খান৷ সঙ্গে ছিলেন আন্দামন দ্বীপপুঞ্জের মূখ্য কমিশনার এস এন মৈত্র ও সুভাষ অগ্রজ শরৎচন্দ্র বসু৷ কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই কমিশনকে তাইহোকুতে যেতেই দেয় নি৷ বরং ভারতবর্ষের পবিত্র মাটিতে বসেই অপবিত্র কাজের মিথ্যা দলিল তৈরি করে তাঁদের মধ্যে দুইজনকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে তিনি ক্ষান্ত হন৷ শরৎচন্দ্র বসু একটি নিজস্ব প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের নিকট জমা করেন৷ কিন্তু এই ব্যাপারে সংসদের বাইরে ও ভেতরে কোথাও কোনো চর্চা হয় নি৷
১৯৭০ সালে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে ১১ই জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব টি সি এ শ্রী নিবাস বর্ধন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাঞ্জাব হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জিডি খোসলাকে সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব দেন৷ কিন্তু এখানেও তথৈবচ৷ কারণ এটা ছিল নেহরু কন্যা অভিনীত একটি অভিনব প্রহসন৷ কারণ একটাই -- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর জারজ সন্তান হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী কোন মতেই বীর বিপ্লবী সৈনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে ইতিহাসের পাতায় যথাযোগ্য সম্মান দিতে চায় নি৷ কারণ তাঁরা স্পষ্টভাবেই জানেন যে, নেতাজির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হলে গান্ধীজির শ্রেষ্ঠত্ব হ্রাস পাবে৷ অতএব সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করে তাঁরা তাঁদের পূজনীয় মহাত্মা গান্ধীর ছবি মোটেই ধূমিল করতে চাইবে না৷ অর্থাৎ যেনতেন প্রকারেণ তাঁর মৃত্যু রহস্য উন্মোচন না করে অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখাই শ্রেয়৷ এটা অবশ্যই সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর একটা কুটিল চক্রান্ত৷
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকন্যা ইন্দিরা গান্ধী উভয়েই নেতাজির রহস্যমূলক ঘটনাটিকে রহস্যের অন্তরালেই রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করে গেছেন৷ কিন্তু সত্যকে কোন মতেই চাপা দেওয়া যায় না, যাবে না৷ ঘন মেঘের আড়ালে সুর্যকে ক্ষণিকের তরে ঢেকে রাখা যায়, চিরতরে নয়৷ সুতরাং নেতাজি রহস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই উন্মোচিত হবে-- একথা নির্দ্ধিধায় বলা যায়৷
১৯৯৯সাল৷ মাননীয় শ্রীটলবিহারী বাজপেয়ী তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি নেতাজির মৃত্যু রহস্য উন্মোচনের জন্য তৃতীয় কমিশন গঠন করেন৷ কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন -- বিচারপতি মনোজ কুমার মুখার্জি৷ তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে তাইহোকু বিমান বন্দরে পৌঁছান ও যথাযথ খবর সংগ্রহ করে ভারতে ফিরেন৷ কিন্তু তিনি জানতে পারেন ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট তারিখে তাইহোকূ বন্দরে কোন বিমান দুর্ঘটনা ঘটে নি৷ ১৯৯৯ সালে গঠিত এই কমিশন ২০০৫ সালে মনমোহন সিংয়ের প্রধানমন্ত্রীত্ব কালে তাঁদের প্রতিবেদন জমা করেন৷ কিন্তু তিনিও সংসদে একটি দায়সারা বক্তব্য রেখেই ক্ষান্ত হন৷ অর্থাৎ নেতাজির মৃত্যু রহস্য আজও অনুদঘাটিত৷ কারণ হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর সমস্যা নেতা-নেত্রী একই বিচারধারায় প্রবাহিত৷ অতএব মুখার্জি কমিশনের প্রতিবেদনটিও অপ্রকাশিতই থেকে গেছে৷
উপরিউক্ত ঘটনা সমূহ থেকে এটাই স্পষ্ট যে, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী মূলতঃ বাংলা বিরোধী মনোভাবাপন্ন রোগে আক্রান্ত৷ সুতরাং নেতাজির অবর্ণনীয় অবদানের কথা তাঁরা মোটেই স্বীকার করতে চায় না৷ অর্থাৎ নেহরু শাসনকালে যে ভাবে বাঙালী মানসিকতাকে আহত করার বীজ বপন করা হয়েছিল, পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী ও মনমোহন সিং সেই বীজোৎপন্ন বৃক্ষটিকে যত্নপূর্বক সিঞ্চন করে বর্ধিত করেছেন৷ ২০১৪ সালে মাননীয় নরেন্দ্র মোদীজী প্রধানমন্ত্রীর আসনে উপবিষ্ট হওয়ার পর বাঙালী জনগোষ্ঠীর মনে নোতুন আশার সঞ্চার হয় -- কিন্তু পরিণাম ফলপ্রসূ হয় নি৷ কারণ একটাই পশ্চিমোত্তর ভারতের প্রত্যেকটি নেতাই একই ধাতুতে গড়া৷ অর্থাৎ বাঙালী বিরোধিতা তাঁদের রক্তসঞ্জাত৷
যাই বা হোক অবশেষে এটাই স্পষ্ট যে, স্বাধীনোত্তর ভারতের কোন সরকার বীর বাঙালী সৈনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ নেতাজীকে যথার্থ সম্মানের আসনে উপস্থাপিত করতে নারাজ৷ বরং জগত বাসীকে অন্ধকারে রেখেই নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির পথ পরিষ্কার করতে চায়৷ কিন্তু মেঘ যতই ঘন কুয়াশাবৃত হোক তেজোদীপ্ত সূর্যকে চিরতরে ঢেকে রাখতে পারে না -- সে তার নিজের প্রভাতেই পূনঃ প্রভাবিত হয়৷ অতএব জাতির কল্যাণে ও বৃহত্তর স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য একদিন না একদিন অবশ্যই উদঘাটিত হবেই হবে -- এই পবিত্র আশা নিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করছি৷
- Log in to post comments