স ঃ (১) ‘সৃপ্ ধাতুর অর্থ ৰুকে ভর দিয়ে চলা৷ তাই যে সকল জীব ৰুকে ভর দিয়ে চলে তাদের সরীসৃপ reptile) ৰলা হয়৷ ‘সৃপ ধাতুর অপর অর্থ হ’ল এঁকেবেঁকে চলা zigzag way or serpenting style)৷ ‘স্প+ ‘ঘঞ’ করে যে ‘সর্প’ শব্দ পাচ্ছি তার মানে যা ৰুকে ভর দিয়ে চলে বা এঁকেবেঁকে চলে serpentine শব্দটিserpent থেকে এসেছে যার মানে সাপ৷serpentine-এর সংস্কৃত ‘সর্পিল’)৷ এই ‘স্প ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘স’ শব্দটি পাচ্ছি তার ভাবারূঢ়ার্থ হ’ল ‘যা ৰুকে ভর দিয়ে চলে, যোগারূঢ়ার্থ হ’ল ‘সরীসৃপ’৷
(২) ‘স্প ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে ‘স’ শব্দের দ্বিতীয় অর্থ হ’ল যা সর্পিল গতিতে চলে অর্থাৎ ‘সর্প’৷ (৩) বৈদিক ‘সু’ ধাতুর অর্থ তৈরী করা৷ এই ‘সু+ ড’ করে যে ‘স’ শব্দটি পাচ্ছি তার ভাবারূঢ়ার্থ হ’ল স্রষ্টা, জনক বা পিতা, যোগারূঢ়ার্থে ‘শিব’৷ (৪) ওই ‘সু’ ধাতু+ ‘ড’ করে যে ‘স’ শব্দ পাই তার অন্য অর্থ ‘সূর্য’৷ (৫) ওই ‘সু’+ ‘ড’ করে যে ‘স’ শব্দ তার আর একটি অর্থ হ’ল ‘জল’৷ (৬) ‘সল্ ধাতুর অর্থ এগিয়ে চলা, অনুপ্রবিষ্ট হওয়া, কোন কিছুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করা (সেঁদিয়ে যাওয়া৷ যার সাহায্যে চোর ঘরের ভেতর সেঁদিয়ে যায় তাকে ৰলি সিঁদ৷ এই ‘সল+ ‘ইলচ্’ প্রত্যয় করে যে ‘সলিল’ শব্দ পাই তার অর্থও হ’ল জল৷ যিনি সব কিছুতেই অনুপ্রবিষ্ট হয়ে আছেন এই অর্থে ‘সল’ ৰলতে বিষ্ণুকে ৰোঝায়৷
‘‘বিস্তারঃ সর্বভূতস্য বিষ্ণোবিশ্বমিদং জগৎ৷
দ্রষ্টব্যমাত্মবৎ তস্মাদভেদেন বিচক্ষণৈঃ’’৷৷
এই ‘সল্’+ ‘ড’ করে যে ‘স’ শব্দ পাই তার অর্থ বিষ্ণু৷ ‘সল্’ ধাতুজাত ‘স’ শব্দের অর্থ জলও বটে৷ (৭) ‘সৃজ ধাতুর অর্থ কোন কিছু প্রস্তুত করা, নূতন মোড় ঘোরানো, নব ভাবে ভাবিত করা৷ এই ‘সৃ+‘ঘঞ’ করে যে ‘সর্জ’ শব্দ পাই তার অর্থ সৃষ্টিকর্তা বা পৌরাণিক দেবতা ব্রহ্মা৷ ‘সৃজ্+ ড’ করে যে ‘স’ শব্দ পাই তার অর্থ ‘ব্রহ্মা’৷ (৮) ‘সর্জ’ শব্দের অপর একটি অর্থ হ’ল ‘শাল বৃক্ষ’৷ এর পর্যায়বাচক নাম হচ্ছে শাল, সর্জ, গজারি, ইন্দ্র (বাঁকুড়া জেলায় শাল অরণ্য-অধ্যুষিত এলাকার একটি স্থানের নাম ইন্দ্রপুর ইঁদপুর)৷ তাই ‘সৃজ্+ ‘ড’ করে যে ‘স’ শব্দ পাই তার একটি অর্থ শাল বৃক্ষ৷ (৯) ‘সৃ’ ধাতুর অর্থ সরে যাওয়া৷ স্বভাবগত ভাবে যা সরে যায় এতদর্থে ‘সৃ’ ধাতু বিশেষ ভাবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে৷ তাই ‘সৃ’ ধাতু+ ‘ঘঞ্’ প্রত্যয় করে যে ‘সর’ শব্দ পাই তার অনেকগুলি অর্থের মধ্যে প্রধান হচ্ছে বায়ু, দ্রুতবেগে প্রবাহিত বায়ু বা ঝড়, উল্কা, ঝর্ণা, ৰদাম, পরমপুরুষ, সার সত্তা যেমন দুধের সর, জল, শুভ্রজ্যোতি, বিদ্যা প্রভৃতি৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)