Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

স্বাধীনতায় বলি প্রদত্ত বাঙালী

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭, মধ্যরাতের অন্ধকারে স্বাধীনতা নামক ক্ষমতার হস্তান্তর হলো বিদেশী শ্বেতাঙ্গ শাসকের হাত থেকে স্বদেশী বাদামী শাসকের হাতে, যে বাঙালীর রক্তে রঞ্জীত হয়েছিল স্বাধীনতার বেদীমূলে, সেই বেদীমূলে প্রতিষ্ঠিত হলো বাদামী শোষক---দেশীয় পুঁজিপতি৷ পরাধীনতার অন্ধকার থেকে তমসাবৃত স্বাধীনতায় বাঙালীর জীবনে শুরু হলো নতুন করে শোষন, নিপীড়ন, বঞ্চনা, অবহেলা৷ 

ভারতের স্বাধীনতার জন্যে সংঘটিত ভাবে প্রথম প্রবল আন্দোলন শুরু হয়েছিল এই বাঙলায়৷ শ্রী অরবিন্দের নেতৃত্বে ইংরেজ শাসকের বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাবকে উপলক্ষ্য করে ব্রিটিশ বিরোধী সেই আন্দোলন কাঁপিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিৎ৷ ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডের উদ্দেশ্যে বোমা মারতে গিয়ে শহীদ হন ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্লচাকী ৷ সেদিন ওই গাড়ীতে কিংসফোর্ড ছিলেন না৷ তাই তিনি বেঁচে গেলেন৷ বোমা মেরে দুই বিপ্লবী পালিয়ে যান৷ ঘটনাটি ঘটে ১৯০৮ সালের ৩০ শে এপ্রিল৷ প্রফুল্ল চাকীকে যখন পুলিশ ধরতে যায়, তখন তিনি নিজের রিভলবার দিয়ে ‘আত্মহত্যা করে শহীদ হয়ে যান৷ ক্ষুদিরামের হাত থেকে রিভলভার পড়ে যাওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে৷ ক্ষুদিরাম কিংসফোর্ডের বদলে ভুল করে দুই ইংরেজ রমণীকে বোমা মেরে হত্যার দায় আদালতে স্বীকার করেন৷ বিচারে তাঁর ফাঁসীর হুকুম হয়৷ ১৯০৮ সালের ১১ই আগষ্ট দেশের কনিষ্ঠতম শহীদ ক্ষুদিরামের ফাঁসী হয়৷ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী সেই বিপ্লবে অনেকের ফাঁসী, অনেকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অনেকের দীপান্তর হয়৷ তারপর থেকে বাঙলায় বাঘাযতীনের নেতৃত্বে, মাষ্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে ও এইভাবে অনেকেই সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশের স্বাধীনতা আনয়নের জন্যে জীবনপণ করেছিলেন৷ দলে দলে জীবন উৎসর্গ করেছেন৷ বাঙালীর গৌরব নেতাজী সুভাষচন্দ্রের বীরত্বের কাহিনী কে না জানে!

ব্রিটিশ শাসককে ভারতের মাটি থেকে তাড়াতে সব চেয়ে বেশী রক্ত দিয়েছে এই বাঙলার মানুষ৷ বাঙালীর বীরত্বকে ব্রিটিশ চরমভাবে ভয় করতো৷ তাই বাঙালী জাতিকে খন্ড বিখন্ড করে, এই বাঙালী জাতিকে দুর্বল করার কূটকৌশল প্রথমে ইংরেজরাই নেয়৷ তারপর ভারত স্বাধীন হয়৷ স্বাধীন ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারও ইংরেজ শাসকের সেই ট্র্যাডিসন মেনে চলে ও বাঙালী জাতিকে খন্ড-বিখন্ড করে দুর্বল করার সেই কৌশলী নীতি অনুসরণ করে৷

স্বাধীনতার সময়, পঞ্জাব ও বাঙলা এই দুটি রাজ্য বিভক্ত হয়৷ পশ্চিম পঞ্জাব পড়ে পাকিস্তানে আর পূর্ব পঞ্জাব পড়ে ভারতে৷ স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে দ্রুততার সঙ্গে লোক বিনিময়ের কাজ শেষ করা হয়৷ পাকিস্তানের হিন্দুরা নিরাপত্তার কারণে চলে আসে ভারতে৷ এখানকার বহু মুসলমানও পাকিস্তানে চলে যায়৷ পশ্চিম পঞ্জাব থেকে যে সব পঞ্জাবী ভারতে চলে আসে তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়৷

কিন্তু বাঙলার ক্ষেত্রে ওপার বাঙলা থেকে যারা অত্যাচারিত হয়ে এপার বাঙলায় বা অসম, ত্রিপুরা প্রভৃতি উত্তর পূর্র্বঞ্চলের রাজ্যে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়, তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থাই হ’ল না৷ উদ্বাস্তু হয়ে তাদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জীবন ধারণের জন্যে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়৷ দলে দলে তাদের দন্ডকারণ্যের জঙ্গলে ও নানান উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়৷

এছাড়াও, বাঙলার বহু অংশকে পাশ্ববর্তী রাজ্য অসম, বিহার, ওড়িশার সঙ্গে যুক্ত ক’রে বাঙালীদের অবশিষ্ট নিজস্ব বাসভূমিরূপে চিহ্ণিত পশ্চিম বাঙলার এলাকাকে আরও ক্ষুদ্র ক’রে দেওয়া হ’ল৷ 

তারফলে, ছিন্নমূল যে বাঙালীরা বিভিন্ন রাজ্যের উদ্বাস্তু শিবিরে বাঁচার জন্যে সংগ্রাম করছে, তারা ছাড়াও পাশ্ববর্তী রাজ্যগুলিতেও স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাঙালীদের নিজভূমে পরবাসী হয়ে বাস করতে বাধ্য হতে হচ্ছে৷ যেমন, প্রাক্তন বিহার বর্তমান ঝাড়খন্ডের অন্তর্ভুক্ত বাঙলার নিজস্ব এলাকার আদি বাসিন্দা বাঙালীদের মাতৃভাষা বাঙলা কেড়ে নেওয়া হ’ল৷ আগে যারা বাঙলা স্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ পেত, যে সব এলাকায় আগে সরকারী কাজকর্ম বাংলায় হ’ত --- এখন সেই বাংলাকে উৎখাত করে জোর করে হিন্দি চালানো হচ্ছে৷ বিহারের অবশিষ্ট এলাকার বাঙালীদেরও সেই অবস্থা৷ যেমন বিহারের কাটিহার, কিষাণগঞ্জ প্রভৃতি জেলা পুরোপুরি বাঙালী অধ্যুষিত হলেও সেগুলি বিহারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে ওখানকার বাঙালীরা মাতৃভাষা থেকে যেমন বঞ্চিত তেমনি চাকুরী-চাকুরীর ক্ষেত্রেও চরম বঞ্চনার শিকার৷ ইংরেজ শাসক আগেই তাদের শাসনকার্যের সুবিধার অজুহাতে গোয়ালপাড়া, শ্রীহট্ট প্রভৃতি সহ বাঙলার বিস্তীর্ণ এলাকাকে অসমের সঙ্গে যুক্ত করে৷ এরপর ভারত ভাগের সময়ও বাঙলার বহু এলাকা অসমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়৷ তারপর স্বাভাবিকভাবে স্বাধীনতার পর উদ্বাস্তু হয়েও অনেকে অসম-ত্রিপুরায় চলে আসে৷ 

আজ তো বাঙালীর সামনে নিজভূমে পরবাসীর হুংকার৷ ৭৮ বছর ধরে একাধিক প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করার পর তাকে প্রমাণ দিতে হবে সে ভারতীয়৷ তার ঘাড়ের কাছে এন.আর.সি, সিএএ এস আই আরের উদ্যোত খাড়া৷ বাঙালী স্বাধীনতার জন্যে অনেক আত্মত্যাগ অনেক প্রাণবলি দিয়েছে, এবার স্বাধীনতার যুপকাষ্ঠে তাকে বলি দেবার আয়োজন চলছে৷ বাঙালীর সামনে ভয়ঙ্কর দুঃসময়৷ 

বাঙালীদের এই দু:সময়ে সমস্ত বাঙালীদের সব রকমের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাঙালী জাতির বিরুদ্ধে সমস্ত অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করতে হবে৷ আর বাঙলা ভাগ নয়, বরং খন্ড-বিখন্ড বাঙলাকে সংযুক্ত করে বাঙালী জাতির হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved