এই পৃথিবীতে কেউ ইচ্ছা করুক বা না করুক প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই পৃথিবী এগিয়ে যাবে৷ কালের এই গতি রুদ্ধ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়৷ তবু মানুষের দুর্বুদ্ধি যুগে যুগে এই চেষ্টাই করে গেছে৷ পরিনামে মানব সভ্যতার ইতিহাসে রচিত হয়েছে অনেক পাশবিক, মর্মান্তিক রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত অধ্যায়৷
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রসঙ্গেই আসা যাক৷ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় শাসক সাধারণত দলীয় মানসিকতার উধের্ব উঠে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারে না বা করতে চায় না৷ তাই রাষ্ট্রের নাগরিকদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচার বিভাগ৷ মহান আদালতগুলি সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে বিচার করে নাগরিকদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেন৷ কিন্তু শাসকের প্রভাবে আদালত যদি নিরপেক্ষতা হারায় শাসক যদি দলীয় স্বার্থে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে তবে ধাক্কা তাকে একদিন খেতেই হবে৷ তখন নিরীহ দুর্বল নাগরিকগণ রক্ষা পান৷
আমাদের দেশের শাসকগণ গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিৎকার করে, কিন্তু অপ্রিয় সত্য কথাটা হলো একবার শাসন ক্ষমতার দখল নিতে পারলে দলতন্ত্রের উপরে উঠে আর গণতন্ত্রকে মান্যতা দিতে চায় না৷ তাই যুক্তিবাদী শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ রাজনীতির প্রতি, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছেন৷ তবু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলেও যেমন মন্দের ভালো তেমনি সব দলেই কিছু সৎ মানুষ আছেন৷ এদেরই সম্মান জানাতে ওই সৎ মানুষেরা ভোট দিয়ে থাকেন৷ সেখানে জয় পরাজয়ের কোনো প্রশ্ণ ওঠে না৷ অতি লজ্জা ও দুঃখের কথা ওই মানুষেরাই পাপচক্রী শাসকের হাতে অত্যাচারিত হয়, অনেক সময় প্রাণও যায়৷
গণতন্ত্রের মোড়কে ওই শাসকেরাই স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে গণতান্ত্রিক বিধানের অপব্যবহার করে, জরুরি অবস্থা জারি করে দলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করে বিরোধীদল ও সংবাদমাধ্যমের কন্ঠরুদ্ধ করে৷ অথবা শাসকের হয়ে মিথ্যা প্রচার করতে বাধ্য করে নতুবা নানা অছিলায় গারদে ভরে দেয়৷ এটাই এই মহান ভারতের শাসকগণ করে চলেছে৷ শুধু রাজনৈতিক দলই নয়,বিভিন্ন সেবামূলক সামাজিক সংঘটনের উপরও এরা নানাভাবে অত্যাচার দমন চালিয়ে শাসকের আসন কে কলঙ্কিত করে চলেছে৷ জনগণ কখনোই এটাকে পছন্দ করেনি৷ ভয় ভেঙে একদিন যদি পথে নামে জনগণ, বিচার ব্যবস্থাও তখন বিবেকের তাড়নায় অত্যাচারী শাসকের ক্ষমতার অন্যায় আস্ফালনে লাগাম টানে একদিন এইসব দলগুলি ধবংস হয়ে যায়, ধবংস হয়ে গেছে৷
আজকের পৃথিবীর মানুষ জ্ঞানে বিজ্ঞানে বুদ্ধিতে বধিতে অনেক এগিয়ে গেছে৷ আজ আর সে শাসকের অত্যাচার সহজে মেনে নেবে না৷ প্রত্যেকের মনে কিছুটা মানবিক মূল্যবোধ জাগছে, তাই শাসককেও মানবতাবাদী হয়ে শাসনকার্য চালাতে হবে দেশের সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে৷ কিন্তু নির্লজ্জ শাসক সেটাকে উপেক্ষা করে, পরিহাস করে বলে শাসকের আবার মানবিকতা, এতটাই শাসকের স্পর্ধা৷
তবুও শাসক কে থামতেই হয়, পাঠকের বুঝতে দুটি উদাহরণ- অসমের ডবল ইঞ্জিন সরকার কিছু মানুষকে বিদেশি বলে চিহ্ণিত করেছিল, অত্যাচারিত সেই মানুষগুলিকে সুপ্রিম কোর্ট দেশের নাগরিক বলে স্বস্তি দিয়েছে৷ আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্ত নাকচ করে দিয়েছে৷ রাষ্ট্রসংঘ শক্তিশালী দেশগুলিকে বেশি মান্যতা দেয় না৷ ছোট ছোট দেশগুলি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে৷ তাই ক্ষমতার মদমত্ততা একদিন শেষ হবেই৷ একের স্পর্ধারে কভু নাহি দেয় স্থান দীর্ঘকাল নিখিলের বিরাট বিধান৷ সব স্বৈরাচারী শাসকেরই শেষের করুন পরিণতি ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে৷ তবু শাসক বদলায় না৷ বাংলায় প্রবাদ আছে ---স্বভাব যায় না মলে, ইজ্জত যায়না ধুলে৷
- Log in to post comments