Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সমানম্ এজতি ইতি সমাজঃ

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘‘সমানম্ এজতি ইতি সমাজঃ’’ অর্থাৎ সবাই মিলে যখন ঠিক করলে যে তারা একসঙ্গে চলবে, সুখে–দুঃখে একসঙ্গে থাকবে তখন তাদের মিলিত নাম হলো সমাজ৷ কেউ হয়তো অনেকটা এগিয়ে গেছে, কেউ বা পেছিয়ে পড়েছে, কারো পা ব্যথা করছে বলে হাঁটতে পারছে না, কেউ বা মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে৷ তাদের দিকে না তাকিয়ে যে চলে গেল সে সমাজের লোক নয়৷ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে, আর তাদিকে নিয়ে চলতে গেলে একটা বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে৷ যেমন যে লোকটা চলতে পারছে না৷ তাকে তুলে নিতে হবে যাতে চলার ছন্দ এক হয়৷ এখন আমাদের গোটা বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে সব কিছু দেখতে হবে৷ গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নাই বা পারি কিন্তু এই সৌর জগৎটাকে একভাবে দেখে দেখিয়ে যেতে হবে৷ পরে ভবিষ্যতে অন্যান্য গ্রহ–উপগ্রহেও যেখানে যত মানুষ আছে তাদিকেও সঙ্গে নিতে হবে৷ তাদিকে নিয়েই আমাদের সমাজ গড়ে উঠবে৷ আজকের দিনে অন্ততঃ এই পৃথিবীটাকে এক অখণ্ডভাবে নিতে হবে৷ 

আমরা কী দেখছি কারো ঘরে প্রাচুর্যের স্রোত বয়ে যাচ্ছে, কেউ বা অনাহারে শুকিয়ে মরছে৷ সমাজের একটা অংশ আলো হাওয়ায় ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে, আর একটা অংশকে অর্থাৎ শতকরা পঞ্চাশ জন মানুষকে ঘরের মধ্যে বদ্ধ করে রেখে দেওয়া হয়েছে৷ একটা অংশ যা ইচ্ছে করে যাচ্ছে, নিন্দে করার কেউ নেই৷ আর একটা অংশ যদি অজ্ঞাতসারেও কোন ভুল করে ফেলে সমাজ তার প্রতি অত্যন্ত কঠোর আচরণ করছে৷ এ রকম করলে তো চলবে না৷ অনেক দিন ধরে এইভাবে চলতে চলতে আজ তফাৎটা খুব বেশী হয়ে পড়েছে৷ একজন শিক্ষিত আর একজন অশিক্ষিতের মধ্যে ব্যবধানটা অনেক বড়৷ একজন পুরুষ খুব শিক্ষিত আর তার স্ত্রী হয়ত অশিক্ষিতা, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত বেশী৷ এই রকম নানান ধরণের অসুবিধা রয়েছে৷ তা করলে তো চলবে না৷ যদি বুঝি যে গতিতে দ্রুতি নেই তা হলেও যারা আস্তে আস্তে চলছে, যারা পেছিয়ে পড়ছে, তাদের সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে৷ আর এই চলতে গিয়ে যদি আমার গতি কিছুটা কমেও যায়, তাও স্বীকরণীয়৷ কিন্তু সবাইকে নিয়েই চলতে হবে৷ এইটাই হলো বড় কথা৷ যারা সবাইকে নিয়ে চলতে চায়৷ তাদের নিজেদের চলতে গেলে যতটুকু পায়ের জোর থাকা দরকার, যতটুকু মনের জোর থাকা দরকার সেটুকু তো চাই–ই, আবার যারা পেছিয়ে পড়ছে তাদের বোঝা বইবার জন্যেও আরও খানিকটা বাড়তি শক্তি সঞ্চয় করতে হবে৷ সেইজন্যে আমি তোমাদের বলি, ঠিক সাধারণ মানুষের মত হলে চলবে না৷ তার চেয়েও কিছুটা বেশী হতে হবে৷ নিজেকে নিয়ে চলতে পারটাই যথেষ্ট নয়, আরও দু’–একজনকে সঙ্গে নিতে হবে, নিয়ে চলার সামর্থটা অর্জন করতে হবে ও সেইভাবে নিজেকে তৈরী করে নিতে হবে৷ কিছুদিন আগে বলেছিলুম – ‘‘ত্রিবিধ দুঃখস্য আত্যন্তিকী নিবৃত্তিঃ পরমার্থঃ’’৷ অর্থাৎ যার সাহায্যে দুঃখের নিবৃত্তি ঘটে তাকে বলি অর্থ৷ বস্ত্র নেই, শীত করছে৷ পয়সা থাকলে বস্ত্র কেনা যাবে অন্ন নেই, ক্ষুধা পাচ্ছে পয়সার সাহায্যে অন্ন ক্রয় করে ক্ষুণ্ণিবৃত্তি করা যাবে, সেই দুঃখটা দূর হবে৷ তাই যার দ্বারা দুঃখ দূর হয় তাকে বলি অর্থ৷ যেহেতু টাকার দ্বারা অন্ন কেনা যায়, সেইজন্যে টাকাকেও সংস্কৃতে ‘অর্থ’ বলা হয়৷ কিন্তু সেটা অর্থ ই, পরমার্থ নয়৷ পরমার্থ হলে যার দ্বারা দুঃখ একবার জয় হলো তো আর দ্বিতীয়বার এলো না৷ টাকা দিয়ে অন্ন কেনা হলো কিন্তু কালকে আবার তো খিদে পাবে৷ সুতরাং টাকা অর্থ, পরমার্থ নয়৷ পরামার্থ হচ্ছে যার দ্বারা ত্রিবিধ দুঃখের আত্যন্তিকী নিবৃত্তি হয়৷ মানুষের তিনটে দুঃখ – জাগতিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক অথবা আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক৷ ভৌতিক জগতে যা কিছু দুঃখ – অন্নের অভাব, বস্ত্রের অভাব, এগুলো হলো আধিভৌতিক দুঃখ, ফিজিক্যাল দুঃখ৷ এই দুঃখ দূর করতে অর্থ কতটুকু পারে সাময়িকভাবে দুঃখ দূর হলো ঠিকই কিন্তু পরের দিন সেই দুঃখটা আবার ফিরে এল৷ আর স্থায়ীভাবে দুঃখ দূর করতে হলে চাই পরমার্থ৷ পরমার্থের সাহায্যে মানুষ এমনভাবে সামাজিক ব্যবস্থা তৈরী করবে যাতে কোনদিনই মানুষের অন্নাভাব, বস্ত্রাভাব না হয় – একটা rudimental change অর্থাৎ মূলেতেই পরিবর্ত্তন এনে দেওয়া হলো৷ আর এ কাজটা করতে গেলে যাঁরা এর অগ্রপথিক ন্ধব্ভ্ত্রব্জস্তুগ্গ হবেন তাঁদের কী করতে হবে! তা’দিকে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশী শক্তি অর্জন করতে হবে৷ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গাড়ী চালিয়ে নিয়ে যেতে হলে যাঁরা আগে যাবেন তাঁদের জঙ্গল কেটে পথ তৈরী করে তবে গাড়ী চালাতে হবে৷ আর যাঁরা পেছনে আসবেন তাঁরা খুব সহজেই গাড়ী চালিয়ে চলে আসবেন, তাঁদের জঙ্গল কাটতে হচ্ছে না পথ তৈরী করতে হচ্ছে না৷মানসিক দুঃখগুলো কেমন ধরা যাক, জাগতিক দুঃখগুলো আমরা দূর করেই ফেললুম, ওগুলো একেবারেই নেই৷ প্রাউট থিয়োরীটা তৈরী করা হয়েছে এজন্যেই – যাতে করে জাগতিক দুঃখগুলো দূর হয়, যাতে মানুষের পরমার্থ লাভ হয়৷ আমি কোথাও বলিনি যে সব মানুষকে প্রচুর টাকা দাও৷ আমি বলেছি, প্রতিটি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়িয়ে দাও৷ চালের দাম ২০০ টাকা হোক, ক্ষতি নেই যদি প্রতিটি মানুষের আয় ১০০০ টাকা হয়ে যায়৷ সুতরাং বেশী টাকা পাওয়া বড় কথা নয় বা কম টাকা পাওয়াও বড় কথা নয়, মূল কথা হল ক্রয়ক্ষমতা চাই৷ ক্রয়ক্ষমতাটা যদি প্রতিটি মানুষের মধ্যে এসে যায়, তাহলে তো আর তার আধিভৌতিক দুঃখটা থাকছে না৷ ফিজিক্যাল দুঃখটা থাকছে না৷

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved