Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

স্রোতের বিপরীত মুখে ১৫ বছর ও এক ব্যতিক্রমী সমাজতন্ত্রের রূপরেখা

বিশ্বজিৎ পান

সাধারণত যুগের গতি যে অভিমুখে, তার সম্পূর্ণ বিপরীতে হেঁটেছেন মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভালো-মন্দ মিলিয়েই একজন মানুষ, আর একজন প্রশাসক হিসেবে তাঁর সাফল্য এবং ব্যর্থতা দুই-ই বিদ্যমান৷ আজ ৩ বার সরকারে থাকা তাঁর সেই সামগ্রিক অবদান এবং ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক চরিত্রটি নিয়েই আলোচনা করা যাক৷

তাঁকে নিয়ে প্রায়শই বলা হয় তিনি ‘পপুলিস্ট’ বা জনমোহিনী রাজনীতি করেছেন৷ কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে বিষয়টি ঠিক উল্টো৷ তিনি আসলে বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে অপ্রচলিত এবং কঠিন পথটি যাকে বলা যা The most unconventional route’৷

প্রতিষ্ঠান ও পুঁজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ:-চলতি পথে শাসকেরা সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ও পুঁজিপতিদের হাতে নিয়ে চলেন৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেই সম্পূর্ণ উল্টো পুরাণ গাইলেন: *মিডিয়ার সাথে সংঘাত: আজকের যুগে মিডিয়া জনমত গঠনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার৷ সাধারণত ক্ষমতাসীন দল মিডিয়াকে নানাবিধ সুবিধা দিয়ে হাতে রাখে, যাতে সামান্য বিরোধিতার আড়ালে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকে৷ কিন্তু তিনি এসেই প্রথম সারির মিডিয়া হাউসগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন৷ ফলে, জনমানসে ভুল কারণেও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা (Anti -incumbency) বাড়তে শুরু করল৷

*শিল্প ও জমির নীতি: সিঙ্গুরে আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি সারা দেশের জন্য ১৮৯৪ সালের জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ নীতি বদলে দিতে বাধ্য করলেন৷ তিনি স্পেশাল ইকোনমিক জোন (SEZ) তুলে দিলেন এবং নিয়ম করলেন সরকার নয়, শিল্পপতিদেরই বাজারদরে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরাসরি মালিকের থেকে জমি কিনতে হবে, সরকার শুধু মধ্যস্থতা করবে৷ কর্র্পেরেট বা বিশ্বপুঁজি এই নীতি কোনোদিনই পছন্দ করেনি৷ কর্র্পেরেটদের জন্য সাবসিডি বা ঋণ মকুব তাঁর পথ নয়৷ 

*নিউটাউনের জমি পুনরুদ্ধার: ক্ষমতায় এসেই তিনি নিউটাউনে বাম আমলের হুজুরপতি ও প্রভাবশালীদের উপহারস্বরূপ দেওয়া জমি কেড়ে নিতে দ্বিধা করেননি৷

সরকারি কর্মচারী ও মধ্যবিত্তের ক্ষোভ: রাজা সাধারণত রাজকর্মীদের সন্তুষ্ট রেখে রাজ্য চালান৷ কিন্তু তিনি সরকারি কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করলেন, অথচ তাঁদের পাওনা মহার্ঘ ভাতা (DA) ও পেকমিশনের বিষয়ে বঞ্চিত রাখলেন৷ উল্টে প্রতিবাদীদের প্রতি তাঁর কিছু মন্তব্য কর্মচারীদের ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিল৷

মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের করের টাকায় তিনি একের পর এক প্রান্তিক মানুষের প্রকল্প চালাতে লাগলেন৷ আপনার ডিএ কেটে যখন আপনার বাড়ির পরিচারিকাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তখন সেই পরিচারিকা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে৷ সে আগের মতো আর ‘পাত্তা’ দিচ্ছে না, মুখের ওপর কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছে৷ মধ্যবিত্তের করের টাকায় ‘মা-ক্যান্টিন’-এ ৫ টাকায় পেট পুরে খাচ্ছে রিকশাওয়ালা বা পথের ভিখারি৷ উচ্চ-মধ্যবিত্ত এই ব্যবস্থায় নিজেকে বঞ্চিত ও অসহনীয় বোধ করতে শুরু করল৷

এমনকি ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যখন মধ্যবিত্তের ঘরে পৌঁছাল, তার চাবিকাঠিও রইল বাড়ির মহিলাদের হাতে৷ ফলে পরিবারের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতেও কোথাও একটা সূক্ষ্ম বিড়ম্বনা তৈরি হলো৷

*স্বাস্থ্য ও খাদ্যে বিকল্প মডেল: কর্র্পেরেটের মাথাব্যথা ফেয়ার প্রাইস ও বিনামূল্যে চিকিৎসা: সরকারি হাসপাতালে সমস্ত চিকিৎসা এমনকি হার্টের স্টেন্ট বসানোও বিনামূল্যে করে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিয়ে এলেন ‘ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ’৷ ফার্মা কর্র্পেরেটগুলো রে-রে করে উঠলেও, আজ দেশে যে জেনেরিক ওষুধের রমরমা, তার গোড়াপত্তন কিন্তু বাংলায় তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল৷ পরবর্তীতে কেন্দ্র সরকারও এই মডেল অনুকরণ করতে বাধ্য হয়৷

স্বাস্থ্যসাথী: এই প্রকল্প এনে তিনি সরাসরি আঘাত হানলেন কর্র্পেরেট স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের কায়েমি স্বার্থে৷ বাইপাসের বড় বড় নার্সিংহোমগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এই প্রকল্প তাঁদের মনে কী পরিমাণ ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল৷ আজ সরকার বদল হতেই স্বাস্থ্যসাথী বাতিল করার ঢল নেমে এসেছে৷ 

খাদ্যসাথী ও নগদ হস্তান্তর: কেন্দ্রের ‘ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ আসার আগেই তিনি বাংলায় ‘খাদ্যসাথী’ চালু করেন৷ একের পর এক ডিরেক্ট ক্যাশ ট্রান্সফার (Direct Cash Transfer) স্কিম রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি পায়৷ এর ফলে দেশের বাকি রাজ্যগুলো এবং স্বয়ং কেন্দ্র সরকারও এই ধরনের ভাতা প্রকল্প চালু করতে বাধ্য হয়৷

ভারসাম্যহীনতা এবং ন্যারেটিভের লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে চলতে পারেননি৷ তাঁর আর্থিক নীতি ও সামাজিক অভিমুখ সম্পূর্ণভাবে ঢলে পড়েছিল গরিব, অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণিদের দিকে৷ শুধু ভাতা নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তিনি বিনামূল্যে ছাগল, গরু, বীজ, মুরগি এবং অন্যান্য সুবিধা ও ছাড় বিলিয়েছেন, যার ফলে প্রায় ৮০ লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর হয়েছেন৷

কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, সমাজের মুখপাত্র কিন্তু এই প্রান্তিক মানুষেরা নন মুখপাত্র হলো সেই ক্ষুব্ধ মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত এবং ক্ষমতাশালী প্রতিষ্ঠানগুলো৷ ওরাই সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘ন্যারেটিভ’ বা জনমত তৈরি করে৷ কিছু ফিল্ম বা টেলিভিশন শিল্পীকে পুরস্কার-ভূষণে ভূষিত করে এই খামতি ঢাকা দেওয়া যায়নি৷

আমার কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হঠাৎ ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়াটা বিস্ময়ের নয়৷ বিস্ময় জাগায় অন্য একটি বিষয় পুঁজিবাদ ও কর্র্পেরেটের পথে কাঁটা বিছিয়ে, সমাজের সবচেয়ে প্রভাবশালী শ্রেণির ক্রমবর্ধমান প্রত্যাখ্যান এবং মিডিয়ার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে টানা ১৫ বছর সরকার চালিয়ে গেলেন!

আজ তিনি চলে যেতেই একদিকে যে শ্মশানের নীরবতা, আর অন্যদিকে ‘হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম’ মার্কা স্বাধীনতার উল্লাস দেখছেন তার কারণ এটাই৷ যাঁরা সমাজের প্রকৃত জনমত গঠন করেন, তাঁরা তাঁর রাজত্বে ‘লবডঙ্কা’ পেয়েছিলেন, তাই আজ তাঁদের উল্লাস৷ আর যাঁরা তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন (প্রান্তিক মানুষ), তাঁরা আজ দিশেহারা ও উদাস৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাজনৈতিকভাবে ফিরবেন কিনা জানি না৷ তবে ফিরে আসাটা অত্যন্ত কঠিন৷ কারণ, তিনি যে ঘরানার সমাজতন্ত্রের আমদানি করেছিলেন, যার প্রভাব গোটা দেশে পড়ছিলো৷ তাতে বিশ্বপুঁজি ও কর্র্পেরেট দুনিয়া অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েছিল৷ এবার হয়তো সুকৌশলে তাঁর সৃষ্ট এই রাজনৈতিক ঘরানাকেই এদেশ থেকে ক্রমশ মুছে দেওয়ার চেষ্টা হবে৷ তবে প্রান্তিক মানুষের অন্দরে যে ‘মমতা’ ঢুকে গেছে তাকে রাতারাতি ঝেড়ে ফেলা অসুবিধার৷ 

আজ এই সম্পুর্ণ প্রতিকূল অবস্থাতেও বিদ্রুপ ও ‘জনরোষের’ সম্ভাব্য আঘাতের ঝুঁকি নিয়েও লিখে যাচ্ছি একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ নিয়েই গবেষণা হবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved