Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

শুল্ক যুদ্ধের নেপথ্যে

একর্ষি

 এই পর্বে বিশ্ব জুড়ে বড় বড় সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ হয়েছে, বড় বড় সাম্রাজ্য গড়েও ওঠে, আধিপত্যবাদও ছিল৷ তবে তার চরিত্র বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা৷ সসাগরা পৃথিবীর অধীশ্বর হওয়া বা সর্বশক্তিমান হওয়ার নেশা রাজা-সম্রাট সমাজপতিদের পেয়ে বসত৷ এক এক শাসন কালে সাধারণ মানুষ করের বোঝার চাপে ন্যূব্জ হয়ে পড়লেও , রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণটা যুগের পক্ষে আপাত স্বাভাবিক হলেও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক জীবন দূর- নিয়ন্ত্রিত ছিল না৷ রাজ্য জয়ের বা পররাষ্ট্র দখলের পিছনে সাম্রাজ্য বিস্তার থাকলে নেশা থাকলেও একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল অন্যের সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হওয়া৷ স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় হাত তখনও পরেনি৷ কাঁচামাল রপ্তানি ছিল নগন্য , বাণিজ্য চলত মূলতঃ স্থানীয় কারিগরদের তৈরী জিনিষ নিয়ে৷ মুদ্রামানে লেনদেন জায়গা নিতে শুরু করলেও সরাসরি দ্রব্য বিনিময় ছিল লেনদেনের মাধ্যমে৷ অর্থব্যিবস্থায় এই ধারাটাই পালটে যায় বিশ্বের বাজারে ইউরোপীয় বণিকদের আধপত্য , স্টীম ইঞ্জিন আবিষ্কার ও শিল্পবপ্লবের হাত ধরে৷ ইউরোপের যন্ত্রদানবের পেট ভরাতে এশিয়া , আফ্রিকা , লাতিন আমেরিকাদি অঞ্চল থেকে দু-হাতে নানান সম্পদ লুট করে একদিকে যেমন ইউরোপের শ্রীবৃদ্ধি ঘটিয়েছে , অন্যদিকে কাঁচামাল নিয়ে এসে নিজেদের দেশে শিল্পবিল্পব ঘটিয়েছে৷ নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ শিল্পজাত দ্রব্য সম্ভার বিকোবে কোথায় ? না , সাম্রাজ্যবাদী দেশ কাঁচামাল উৎপাদনকারী দেশেই চড়া দামে বিক্রী করে বাম্পার মুনাফা করেছে৷ এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে মারাত্মক৷একদিকে কাঁচামাল দেশের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কাঁচামাল ভিত্তিক শিল্পায়নের ও স্থানীয় মানুষের কর্মংস্থানের পথ বন্ধ হয়েছে , অন্যদিকে বিদেশের কারখানায় দেশীয় কাঁচামালে তৈরী জিনিষ কিনতে বাধ্য হতে হওয়ায় দেশের অর্থও দেশের বাইরে বেরিয়ে গেল৷ ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ফোঁপরা হয়ে গেল৷ অতি অধিক মুনাফা লাভের লক্ষ্যে বিদেশী বেনিয়ারা আর একটা কাজ করত৷ শিল্পের স্থানীয় কাঁচামাল জোর -জবরদোস্তি করে নামমাত্র মূল্যে বাজার থেকে তুলে নিয়ে স্থানীয় কারিগরদের দিয়েই নাম মাত্র মজুরিতে তৈরী করিয়ে দেশে বিদেশে চড়া দামে বিক্রী করে প্রচুর মুনাফা করত৷ একটা উদাহরণ, -- বাঙলার মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা , --- নীলকর সাহেবদের নীলের ব্যবসা দাদন দিয়ে সবচেয়ে ঊর্বর জমিতে নীল চাষে বাধ্য করানো এবং নামমাত্র মূল্যে সেই নীল আবার নীলকর সাহেবদের কাছেই বিক্রী করতে বাধ্য করা৷ ব্রিটিশ ভারতের দেশীয় বণিকরা আর একটা ভয়ঙ্ক্রর অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হয়েছিল৷ব্রিটিশ বণিকদের শুল্ক ছাড় দিয়ে দেশীয় বণিকদের ওপর চড়া হারে শুল্ক চাপানোর ফলে ব্যবসা বাণিজ্যটাই একচেটিয়া বিদেশীদের হাতে চলে গেল৷সমকালীন বাঙলার অর্থনীতি একটা ভারসাম্য নীতি মেনে চলত৷ কর্ম বিন্যাসটা ছিল এই রকম---৪০ভাগ কৃষিতে , ৪০ ভাগ শিল্পে , অন্যান্য পেশায় শতকরা ২০ ভাগ৷ বেনিয়া ব্রিটিশের কারসাজিতে তা হয়ে দাঁড়াল কৃষিতে ৮০ , অন্যান্য ২০৷ অর্থাৎ একটা কৃষি ও শিল্পে সমৃদ্ধ দেশ কৃষি নির্ভর দেশে পরিণত হয়ে গেল৷ ৪০ ভাগ শিল্প-বাণিজ্যের মানুষগুলো কৃষিতে ভর করায় কৃষি হয়ে গেল অলাভজনক৷ ট্রাম সাহেবের উচ্চ হারে কর চাপানোর পিছনে স্বয়ম্ভরতার ভারসাম্য বিধবংসী বেনিয়া পূর্বসূরীদের এই মোটিভও কাজ করেছে৷ সূত্র হিসেবে বলা যায় , দেশীয় কম্পানির উদ্দেশ্যে ট্রাম্প সাহেবের বার্তা ছিল বাইরে তৈরি করে আমেরিকায় নিয়ে এসে বেচলে চড়া আমদানি শল্ক দিতে হবে৷ ছাড় পেতে হলে আমেরিকাতেই তৈরী করে আমেরিকায় বেচতে হবে৷ অর্থাৎ পুঁজিবাদী ধনকুবের দেশগুলো নীতি দঁড়িয়েছে নিজের দেশের অর্থনীতির স্বয়ম্ভরতা বজায় রেখে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনীতির বূনিয়াদকে পঙ্গু করে পরনির্ভরশীল করা , অনুদানে চলা বা বিদেশী সাহায্যে বেঁচে থাকা দেশে পরিণত করা , ত্রাতা সেজে তাদের ওপর দাদাগিরি করা৷

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved