Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

টুসু সত্যাগ্রহঃ মানভূম ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

মনোতোষ মণ্ডল

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে -- বারো মাসে তেরো পার্বণ৷* আবার প্রাচীন বাংলায় বারো মাসের বিভিন্ন পর্ব-পার্বণ নিয়েও একটি ছড়া আছে৷ ছড়াটির শুরুতেই বলা হয়েছে -- 

*অঘ্রাণেতে বছর শুরু, নবান্ন হয় মিঠে৷*

*পৌষেতে আউলি বাউলি, ঘরে ঘরে পিঠে৷৷*

উপরিউক্ত ছড়াটি থেকে এটাই স্পষ্ট প্রমাণিত যে, প্রাচীন কালে বাংলায় বছর শুরু হতো অগ্রহায়ণ মাসে৷ অর্থাৎ পৌষ মাস ছিল -- তৎকালীন সময়ে বছরের দ্বিতীয় মাস৷ এটা সকলেরই জানা যে, অঘ্রাণ মাসে গ্রাম গঞ্জের মানুষ মূলতঃ চাষের কাজে ব্যস্ত থাকে৷ কারণ তদানীন্তন সময়ে বাংলা ছিল সম্পূর্ণতঃ কৃষিনির্ভর দেশ৷ আজোও বাংলার ৭০ শতাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি৷ সুতরাং অঘ্রাণ মাসে প্রতিটি মানুষ অত্যধিক ব্যস্ত থাকে৷ অতি ব্যস্ততার মধ্যেও কোন একদিন সময় বের করে নবান্ন উৎসবটি অতি আনন্দের সাথেই পালন করে নেয়৷ কিন্তু পৌষ মাসটি বাঙালীর জীবনে বিশেষ মহত্ত্বপূর্ণ৷ কারণ এই মাসটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামে গঞ্জে শুরু হয়ে যায় -- টুসু পূজার প্রাত্যহিক অনুষ্ঠান৷ টুসু পূজা মূলতঃ পশ্চিম রাঢ়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ তবুও আজকের পরিপ্রেক্ষিতে সারা বাংলা টুসু উৎসবের প্রভাবে প্রভাবিত৷ হিন্দু শাস্ত্র মতে পৌষ মাসকে খরমাস বলা হয়৷ অতএব পৌষ মাসে কোন পৌরাণিক দেব দেবীর পূজো হয় না৷ সুতরাং পৌষ মাসের একমাত্র অনুষ্ঠান -- টুসু পূজা৷ 

টুসুপূজা মূলতঃ নারীকেন্দ্রিক৷ আর এই পূজা বিশেষ ভাবে অবিবাহিত মেয়েরাই অংশ গ্রহণ করে৷ অবশ্য বড়রাও বাচ্চাদের সাথে সহযোগিতা করে৷ 

অঘ্রাণ সংক্রান্তিতে গ্রাম গঞ্জের মেয়েরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রকমের ফুল সংগ্রহ করে ঘরের কোণে টুসুকে প্রতিষ্ঠা করে ও প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় টুসুকে গানের মাধ্যমে আরাধনা করে ও টুসুর প্রতি তাঁদের অন্তরের মর্মবেদনা প্রকাশ করে৷ পুরো একমাস জুড়ে গ্রাম গঞ্জের মেয়েরা টুসুকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে৷ বাস্তব অর্থে টুসু কোন দেবতা নয়৷ টুসু ছিলেন মানভূমের রাজকন্যা৷ 

মানভূম নামক সামন্ত রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানসিংহ দেব নামক জনৈক সামন্ত রাজা৷ আর তাঁরই একমাত্র কন্যা ছিলেন -- টুসুদেবী৷ পিতার মৃত্যুর পর মানভূম রাজ্যের দেখাশোনা তিনিই করতেন৷ তাঁর শাসনকালে জনগণ অতি আনন্দেই দিন কাটাতেন৷ কারণ তাঁর সুতীক্ষ্ন মেধাশক্তি তাঁকে সুযোগ্য প্রজাপালক রূপে প্রতিষ্ঠিত করে তুলে৷ সুতরাং তাঁর মৃত্যুর পরেও মানভূমের জনসাধারণ তাঁকে ভূলতে পারে নি৷ তাই গ্রাম গঞ্জের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার নিমিত্তেই টুসুর আরাধনা শুরু করে৷ মূলতঃ এই টুসু উৎসব পশ্চিম রাঢ়ের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ যদিও মকর সংক্রান্তির দিন টুসু উৎসবের অন্তিম পর্ব পালিত হয় ও পারম্পরিক প্রথা অনুযায়ী নিকটস্থ নদী অথবা কোন বৃহৎ জলাশয়ে নিমজ্জিত করা হয়, তবুও টুসু অনুষ্ঠানের প্রভাব গ্রামে গঞ্জে মাঘমাসে অনুষ্ঠিত শ্রী পঞ্চমী তিথি পর্যন্ত থেকেই যায়৷ সুতরাং মানভূমের বঙ্গভূক্তি আন্দোলনকে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ও গ্রামে গঞ্জে আন্দোলনের প্রভাব বিস্তার করার জন্য ১৯৫৪ সালে সত্যাগ্রহীরা টুসু গানকে কেন্দ্র করে টুসু সত্যাগ্রহ শুরু করে, যা পরবর্তীতে মানভূম ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রূপে পরিগণিত হয়৷ হ্যাঁ, আমার আজকের প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় -- টুসু সত্যাগ্রহ৷ 

*প্রেক্ষাপট*

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গ ভঙ্গ আইন পাস হওয়ার পর বাঙালী জনগোষ্ঠী এর তীব্র প্রতিবাদ করে৷ ফলতঃ ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ আইন বাতিল করা হয়৷ কিন্তু ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে প্রশাসনিক সুবিধার দোহাই দিয়ে ব্রিটিশ সরকার বিহার ও উড়িষ্যা নামক একটি সংযুক্ত প্রদেশ গঠন করে৷ সেই সময় মানভূমকে বিহারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ আর সেই সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় -- বিহারের বাঙালী অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দি হিন্দির আধিপত্য বিস্তার করার অপচেষ্টা৷ হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী বিহারের সীমানা থেকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমূলে উৎপাটন করার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নামে৷ সুতরাং বাঙালী জনগোষ্ঠীও হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের ডাক দেয়৷ কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের তীব্রতার অন্তরালে ভাষা আন্দোলন ক্রমশঃ স্তিমিত হয়ে যায়৷ 

১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের *নাগপুর অধিবেশনে* ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি আনুষ্ঠানিক ভাবেই স্বীকৃত হয়৷ সুতরাং ভাষা আন্দোলনকারীদের মধ্যে নোতুন আশার সঞ্চার হয়৷ কিন্তু স্বাধীনতা প্রাপ্তির পূর্বেই ১৯৩৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস বিহার প্রদেশে মন্ত্রীত্ব লাভ করে ও তার অব্যবহিত পরেই ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে মানভূম বিহারী সমিতি গঠিত হয়৷ আর এরই প্রতিবাদে বাঙালী জনগোষ্ঠীর বিশেষ প্রতিনিধি পি আর দাসের সভাপতিত্বে ঘঠিত হয় -- *’মানভূম বাঙালী সমিতি’*৷

প্রতিবাদের বাণী স্তম্ভিত করার উদ্দেশ্যে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী গুপ্ত ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয় ও তৎকালীন বিহার সরকারের সহযোগিতায় আদিবাসী ও উপজাতি বহুল এলাকায় হিন্দি মাধ্যমের প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করা হয়৷ বাঙালী জনগোষ্ঠীও ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকে নি৷ বরং তাঁরাও হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বাংলা স্কুল খোলা শুরু করে৷ আজো তৎকালীন সময়ে নির্মাণ করা বাংলা স্কুল সমূহ বিদ্যমান কিন্তু সেখানে বাংলার বদলে কেবল হিন্দি পড়ানো হয়৷ কারণ হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী আজো আগেকার মতোই সক্রিয়৷ কিছু কিছু মানুষ ভেবেছিল, হয় তো ঝাড়খণ্ড রাজ্য নির্মাণের পর বাংলা স্কুল সমূহের কিছু সুরাহা হবে৷ কিন্তু তা দিবাস্বপ্ণই থেকে যায়৷ কারণ ঝাড়খণ্ড রাজ্য নির্মাণের পর হিন্দি আগ্রাসনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় ও তাদের দাপাদাপি উগ্র রূপ ধারণ করে৷ 

 *স্বাধীনোত্তর ভারত বনাম মানভূমের বঙ্গভূক্তি আন্দোলন* ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি ঐতিহ্যময় শুভদিন৷কারণ এই দিনটিতেই ভারতবর্ষের মাটি পরিত্যাগ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী তাদের নিজেদের দেশে প্রস্থান করে৷ আর এই সঙ্গেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর অপশাসনের সমাপ্তি ঘটে৷ কিন্তু হায়রে কপাল! যে বাঙালী জনগোষ্ঠী স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ স্বাধীনোত্তর ভারতে তাঁরাই বেশি অবহেলিত ও অবজ্ঞেয়৷ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী অবশ্যই বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে কিন্তু ভারতের মাটিতে ছেড়ে গেছে তাঁদেরই জারজ সন্তান হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ৷ আর এই জারজ সন্তানদের বজ্রপ্রহারে বিশেষ ভাবে জর্জরিত তৎকালীন বিহারে বসবাসকারী বাঙালী জনগোষ্ঠী৷ অর্থাৎ ইংরেজের দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রাপ্ত বাঙালী জনগোষ্ঠী হিন্দি আগ্রাসনের দাসত্বের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে৷ আসুন এই দাসত্বের দৃঢ় শৃঙ্খল কীভাবে বাঙালী জনগোষ্ঠীকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে -- তাঁর আলোচনা করি৷

স্বাধীনোত্তর ভারতে বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন- হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের পৃষ্ঠপোষক ও স্বার্থান্বেষী স্বজনপোষক মাননীয় শ্রী কৃষ্ণ সিং৷ ১৯৪৮ সালের শুরুতেই তিনি ঘোষণা করেন -- সমগ্র বিহারের একমাত্র রাজভাষা হবে -- হিন্দি৷ সরকারি ও বেসরকারি কার‌্যালয় সহ অফিস আদালতের কার‌্যকারি ভাষা হবে -- হিন্দি৷ বিহার রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজে পড়াশোনার একমাত্র মাধ্যম হবে -- হিন্দি৷ সুতরাং বিহার সরকারের এই নির্দেশ বাঙালী জনগোষ্ঠী মাথায় তুলে নিতে পারে নি৷ শুরু হয় -- মানভূমের বঙ্গভূক্তি আন্দোলন৷ ১৯১২ সালে যে অগ্ণিশিখা প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল, দীর্ঘ ছত্রিশ বছর পর তীব্র রূপ ধারণ করে৷ প্রতিবাদের প্রতিধবনি গ্রামে গঞ্জে ও শহরে ছড়িয়ে পড়ে৷ হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে -- প্রতিটি গ্রাম ও শহর৷ চারিদিকে শুরু হয় -- গণবিক্ষোভ সহ যত্রতত্র প্রদর্শন ও সত্যাগ্রহ৷ এই আন্দোলনকে আমরা তিনটি পর্যায়ে ভাগ করতে পারি৷ 

১৷ সত্যাগ্রহ আন্দোলন ( ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১)৷

২৷ হাল জোয়াল সত্যাগ্রহ 

৩৷ টুসু সত্যাগ্রহ ( ১৯৫৪) 

আজকের আলোচ্য বিষয় -- টুসু সত্যাগ্রহ যা শুরু হয় -- ১৯৫৪ সালের ৯ই জানুয়ারি৷ অতএব মানভূমের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ৯ই জানুয়ারি স্মরণীয় দিন৷ প্রতি বছর পৌষ মাসে অনুষ্ঠিত একমাসের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাংলা ভাষা আন্দোলনকারীদের প্রচেষ্টায় সত্যাগ্রহের রূপ ধারণ করে ও তার প্রভাব গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে৷ বিভিন্ন ভাষাপ্রমিক গণ আন্দোলনকেন্দ্রিক নোতুন নোতুন টুসু গান রচনা করতে শুরু করেন৷ তাঁদের মধ্যে মাননীয় ভজহরি মাহাতো, মধুসূদন মাহাতো, অরূপ চন্দ্র ঘোষ ও জনৈক জগবন্ধু ভট্টাচার‌্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য৷ 

এই সত্যাগ্রহ ৯ই জানুয়ারি থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একি গতিতে এগিয়ে যায় ও ৮ই ফেব্রুয়ারি এর সমাপ্তি ঘটে৷ কিন্তু এর তীব্র প্রভাব আন্দোলন কারীদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট খোরাক যোগায়৷ টুসু সত্যাগ্রহের প্রভাবে বিহার সরকারের সিংহাসন কম্পিত হয়ে ওঠে৷ আর শুরু হয় হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের দমন নীতি৷ কারারুদ্ধ করণ সহ নানান ভাবে অত্যাচার ও নির‌্যাতন হয়ে ওঠে আন্দোলন কারীদের নিত্য সঙ্গী৷ 

টুসু সত্যাগ্রহকে ক্রমান্বয়ে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছিল৷ 

১৷ ৯ই জানুয়ারি থেকে ১৯শে জানুয়ারি৷

২৷ ২০শে জানুয়ারি থেকে ২৬শে জানুয়ারি৷

৩৷ ২৭ শে জানুয়ারি থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি৷

প্রথম পর্যায়ে প্রথম দিন অর্থাৎ ৯ই জানুয়ারি রঘুনাথপুরে বিকাল বেলায় বা বাংলা ভাষাপ্রেমিক হেমচন্দ্র মাহাতোর নেতৃত্বে টুসু গান গাইতে গাইতে শহর পরিক্রমা করা শুরু হয়৷ বিহার পুলিশ এই সুবাদে আট জন সত্যাগ্রহীকে কারাবন্দি করে৷ কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা জামিনে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়৷ এরই প্রতিবাদে ১০ই জানুয়ারি অতুল চন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের নেতৃত্বে টুসু গান গাইতে গিয়ে আরো এগারো জন সত্যাগ্রহী গ্রেফতার হয়৷ প্রতি ব্যক্তি তিন হাজার টাকার জামিনে তাঁদেরকেও মুক্তি দেওয়া হয়৷ 

১১ই জানুয়ারি বিহার সরকার আন্দোলন বন্ধ করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ কিন্তু ১২ই জানুয়ারি লোক সেবক সংঘের সভাপতি মাননীয় অতুল চন্দ্র ঘোষ সরকারি আদেশ অবজ্ঞা করে টুসু সত্যাগ্রহকে আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করার জন্য আদেশ জারি করেন৷ আর মানভূমের জনগণের উপর এর বিপুল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়৷ গ্রামে গঞ্জে ও শহরে মানভূমের সর্বত্রই টুসু গানের আসর জমে ওঠে৷ প্রতিবাদের সুর তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে৷

বিহার সরকার ভয়ে ভীত হয়ে নিরাপত্তা আইনের অজুহাতে জেলা বাসীদের স্বাধীনতা ক্ষুণ করার উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা রুজু করে৷ আর এরই প্রতিবাদে আন্দোলন কারীরা দলে দলে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে শুরু করেন৷ 

প্রথম দিন অর্থাৎ ২২শে জানুয়ারি অতুল চন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের স্ত্রী লাবণপ্রভা দেবী ও লোক সেবক সংঘের এম পি মাননীয় ভজহরি মাহাতো স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেন৷ দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২৫শে জানুয়ারি সমরেন্দ্র নাথ ওঝা, কুশধবজ মাহাতো, কালীরাম মাহাতো ও ভাবিনি মাহাতো স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেন৷৮ই ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়৷ কিন্তু এর প্রভাব আগেকার আন্দোলনকে যথেষ্ট খোরাক যোগায়৷ এমনকি ১৯৫৬ সালের পদযাত্রায় টুসু গানকে আশ্রয় করেই পথযাত্রী গণ কলিকাতা অভিমুখে রওয়ানা হন৷ 

যাই বা হোক অবশেষে বিহার সরকার আন্দোলন কারীদের কাছে পদানত হয় ও মানভূম জেলার একাংশ পশ্চিম বঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করতে বাধ্য হয়৷ কিন্তু হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী এখানেও চক্রান্ত করে মানভূমের একাংশ বিহার রাজ্যের অন্তর্গত করে নেয়৷ ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর মানভূম জেলার নাম ভারতের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায় ও তার জায়গায় দুটি নোতুন জেলা (ধানবাদ ও পুরুলিয়া) মানভূমের স্থানে অঙ্কিত হয়৷ পুরুলিয়া জেলার মানুষের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ ৯ই জানুয়ারিকে জেলার সর্বত্র টুসু দিবস রূপে পালন করা হোক৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved