পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাশীল দল তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ভাতা দিচ্ছেন আজ বেশ কয়েকবছর ধরে৷ আবার যুবসাথী নামে এক প্রকল্প সম্প্রতি শুরু হয়েছে৷ ছাত্র,যুব, মহিলা,কৃষক, শ্রমিক, বৃদ্ধ বৃদ্ধা - এমন বিভিন্ন বয়সী ও বিভিন্ন পেশার মানুষকে বর্তমান রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করছেন৷ এই ভাতা দেওয়া নিয়ে সরকার বিরোধী দলগুলো প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে এসেছে৷ একে সরাসরি ভিক্ষাও বলেছে৷ তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই ভাতা দেওয়া যদি সঠিক না মনে হয় তাহলে তার বিরোধিতা করার অধিকার অবশ্যই আছে৷ তাই তাদের দলের নীতি আদর্শ অনুযায়ী বিরোধিতা করাকে কোনো কটাক্ষ করতে পারা যায় না৷ তারা যেটাকে ভালো মনে করে না বা রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকর বলে মনে করে তার বিরোধিতা করাই তো বিরোধী দলের কাজ৷
কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘সংকল্প পত্র’ মারফত ঘোষণা করেছে বর্তমান রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নামে দেওয়া দেড় হাজার টাকা তারা ক্ষমতায় এলে দ্বিগুণ করে দেবে৷ অর্থাৎ তখন থেকে মা বোনেরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে তিন হাজার টাকা করে পাবেন৷ এতদিন ধরে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে দেওয়া অর্থকে ভিক্ষা বলে কটাক্ষ করেছেন , তাঁরাই হঠাৎ ভিক্ষার পরিমাণ দ্বিগুণ করে দিতে চাইছেন কেন? যে প্রকল্প থেকে টাকা নেওয়ার জন্য মা বোনেদের এতদিন ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হ’’ল ভোটের মুখে কেন হঠাৎ মত পরিবর্তন করতে হ’’ল প্রধান বিরোধী দল বিজেপিকে? এছাড়া দেশের কুড়িটির মতো রাজ্যে তাদের দল ক্ষমতায় আসীন৷ অথচ সেইসব রাজ্যে এই অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করে নি কেন সেই রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল? শুধু মা, বোন, বা দিদি নয় সকল বাঙালীরই এই বিষয়টা ভেবে দেখা দরকার৷
ভাতা দেওয়া যদি রাজ্যের সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে তাহলে বিজেপি দল আরও বড়ো আকারে সেই ক্ষতি করতে চাইছে কেন? তাদের কাছে বিকল্প পথের কোনো হদিশ নেই ধরে নিতে হবে তাহলে৷ বাংলার মানুষকে যারা ভালোবাসবে ,যারা প্রকৃতই বাংলা ও বাঙালীর উন্নয়ন চাইবে তারা বর্তমান রাজ্য সরকারের ভুল নীতিকে (?) অনুসরণ ও অনুকরণ করতে চাইছে কেন? এই প্রশ্ণের উত্তর চাওয়া উচিত প্রধান বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের কাছ থেকে৷
এটা ঠিক, ভাতা বা সাহায্য সাময়িক ভাবে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এটা তো আর সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান নয়৷ প্রত্যেকের কর্মসংস্থানের ( যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের) ব্যবস্থা করা দরকার৷ যা নিয়ে তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলো ততটা সরব নয়৷ হয় তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা নেই অথবা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে যে নীতিবাদী নেতৃত্বের প্রয়োজন তার অভাব আছে৷ কোনো দলকেই প্রচার করতে শোনা যায় না তাদের দল ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক মানুষের কাজের ব্যবস্থা হবে৷ তাদের ক্রয়ক্ষমতা এমন হবে যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে পারবে৷ প্রয়োজন হবে না ভাতা বা সাহায্যের৷ এটাই বিকল্প ভাবনা, ভাতা দ্বিগুণ করা বিকল্প হতে পারে না৷
13
মেঘে ঢুকে বৃষ্টি তৈরি করতে পারে অণুজীব! গবেষণায় মিলেছে নতুন ধরনের খোঁজ
পি.এন.এ ঃ মাটিতে লুকিয়ে থাকা আশ্চর্য রকমের অণুজীবের হদিস পেলেন বিজ্ঞানীরা৷ এই অণুজীবগুলি বছরের পর বছর ধরে বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করে আসছে৷ বাতাসের সাহায্যে মেঘে পৌঁছে জলের কণাগুলিকে ভারী করে দিতে পারে এরা৷ তাতেই সম্ভব হয় মুষলধারে বৃষ্টি৷ কখনও কখনও তুষারপাতের নেপথ্যেও এই অণুজীবগুলির হাত থাকে৷
নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকা প্রোটিনকণা মেঘে গিয়ে বৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করতে পারে এই তথ্য আগেই জানতেন বিজ্ঞানীরা৷ কিন্তু সম্প্রতি নতুন গবেষণায় মিলেছে নতুন ধরনের এক ছত্রাকের খোঁজ৷ এগুলি থাকে মাটির ভিতর৷ সেখান থেকেই আকাশে পৌঁছে দেয় বর্ষণের সঙ্কেত! প্রকৃতিতে বৃষ্টির অনুপাত এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছগাছালি, জঙ্গলের প্রয়োজনীয়তা কত, আরও এক বার এই গবেষণা থেকে তার প্রমাণ মিলল৷
কী ভাবে মাটিতে মিশে থাকা অণুজীব বৃষ্টি নামাতে পারে? তা বোঝার জন্য আগে মেঘ থেকে বৃষ্টির রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি ঝালিয়ে নেওয়া দরকার৷ বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে যেখানে মেঘ থাকে, সেখানে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসেও জল জমে বরফ হতে পারে না৷ কারণ, জমার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও কঠিন অবলম্বন সে পায় না৷ মেঘের স্তরে বাতাসের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে অনেক নীচে থাকে৷ তবে বিশুদ্ধ জল মেঘে -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও তরল অবস্থায় থাকতে পারে৷
বৃষ্টি নামাতে গেলে মেঘের ভিতর জলকে আগে বরফে পরিণত হতে হয়৷ জমাট বাঁধার জন্য তার প্রয়োজন হয় ‘বীজ’৷ জলের অণুগুলি তাকে ধরেই বরফে জমাট বাঁধতে পারে৷ তার পর তা বৃষ্টি হয়ে নীচে ঝরে পড়ে৷ মেঘে সাধারণত ‘বীজ’ হিসাবে কাজ করে ধুলোবালি এবং নুনের কণা৷ বাতাসের সঙ্গে ভেসে ভেসে তা মেঘে পৌঁছোয়৷ কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জলকে জমাট বাঁধানোর কাজে এই ‘বীজ’ খুব একটা কার্যকরী নয়৷ জলকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করার জন্য তাদের হিমাঙ্কের অনেক নীচের তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়৷ ‘বীজ’-এর এই খামতি কমাতেই আসরে নামে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকেরা৷
মেঘের ভিতর বৃষ্টি তৈরির জন্য কার্যকরী ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে অন্যতম সিউডোমোনাস সিরিঙ্গি৷ এগুলি গাছের পাতায় থাকে এবং মেঘে পৌঁছে তরল জলকে জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে৷ এই ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে উপস্থিত বিশেষ প্রোটিন -২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও জল জমাট বাঁধাতে পারে৷ তাপমাত্রা হিমাঙ্কের খুব বেশি নীচে নামার প্রয়োজন হয় না৷ নতুন গবেষণায় দাবি, এক ধরনের ছত্রাকের প্রোটিন বৃষ্টি তৈরিতে এই ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও কার্যকরী৷ ব্যাকটেরিয়াগুলি জলকে বরফ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনকণা নিজেদের শরীরের ভিতরেই রাখে৷ ছত্রাক সেই প্রোটিন লুকিয়ে রেখে দেয় মাটির মধ্যে৷
বিশেষ ধরনের ছত্রাকের গঠন তার প্রোটিনগুলিকে জলে দ্রবণীয় কণায় পরিণত করে৷ ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের চেয়েও তা আকারে ছোট হয়৷ বরফ সৃষ্টিকারী ক্ষমতাও এদের বেশি থাকে৷ ফলে এগুলি মেঘের ‘বীজ’ হিসাবে অনেক বেশি উপযুক্ত এবং কার্যকরী বলে বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি৷ এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস পত্রিকার মার্চ সংখ্যায়৷ শিরোনাম, ‘এ প্রিভিয়াসলি আনরেকগনাইজড ক্লাস অফ ফাঙ্গাল আইস-নিউক্লিয়েটিং প্রোটিনস উইথ ব্যাক্টেরিয়াল অ্যানসেস্ট্রি’৷ এই গবেষণাটি করেছেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক, ভার্জিনিয়া টেক, বয়জি স্টেট ইউনিভার্সিটি,উটাহ ইউনিভার্সিটি -সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা৷
ঘন জঙ্গলের ভেজা মাটিতে এই বিশেষ ধরনের ছত্রাক বেশি পরিমাণে থাকে৷ প্রকৃতির নিয়মে অনবরত তারা কাজ করে চলেছে৷ মেঘের ভিতর -৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রাতেও জলকে বরফে পরিণত করতে পারে এই ছত্রাক৷ বরফের কণাগুলি একে অপরের সঙ্গে জুড়ে ক্রমে বড় হয় এবং একটা সময়ের পর মাধ্যাকর্ষণের টানে তা নীচে নেমে আসে৷ বরফের কণা নীচে উষ্ণ তাপমাত্রার সংস্পর্শে এসে ফের জলে পরিণত হয় এবং বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে৷ বিজ্ঞানীদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি চক্রাকারে চলে৷ ছত্রাক মেঘে পৌঁছে জলকে জমাট বাঁধায়, তা থেকে বৃষ্টি হয় এবং সেই বৃষ্টির কারণেই জঙ্গলের মাটি ভেজা থাকতে পারে৷ ভেজা মাটিতে এই ছত্রাক আরও বেশি করে বৃদ্ধি পায়৷
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়াগুলি গাছের পাতা এবং ফসলের ক্ষতি করতে পারে৷ পাতা থেকেই তারা তাদের প্রোটিন এবং পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে৷ কিন্তু ছত্রাকগুলি তুলনামূলক শান্তিপ্রিয়৷ মাটিতেই তারা নিজেদের প্রোটিন জমিয়ে রাখে৷ তার ফলে তাদের মাধ্যমে গাছ বা ফসলের কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না৷ বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগে আরও বেশি করে এই ধরনের ছত্রাক চেনা দরকার বলে বিজ্ঞানীদের মত৷ গাছ কাটলে, জঙ্গল কেটে সাফ করে দিলে এই ধরনের উপকারী ছত্রাকও নাশ হবে৷ পরিবেশ বাঁচাতে তাই এই অণুজীবীয় কার্যকলাপগুলি বোঝা জরুরি৷
- Log in to post comments