প্রবীন প্রাউটিষ্ট শ্রীপ্রভাত খাঁ গত ১লা ফেব্রুয়ারী শ্রীরামপুরে এক আলোচনায় বলেন স্বৈরাচারী শাসন পুঁজিবাদী আগ্রাসনে দেশ ডুবতে বসেছে৷ পুঁজিবাদী শোষনে আর্থিক বৈষম্য আকাশ পাতাল৷ স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও মানুষের জীবনধারণের নূ্যনতম প্রয়োজনটুকু জুটছে না৷ মুষ্টিমেয় ধনকুবের দেশের সিংহভাগ সম্পদ কুক্ষিগত করে নিয়েছে৷
অপর দিকে হীনরুচির নিম্নমানের সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সিনেমা গান সাংস্কৃতিক জগতে অশ্লীলতার স্রোত বহিয়ে দিয়ে যুব সমাজকে নৈতিক অধোগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, মানব সমাজকে অবনতির পথে ঠেলে দিচ্ছে৷ মানুষের চিন্তার রাজ্যে চরম বুদ্ধির বিপর্যয় দেখা দিয়েছে৷ শুভবুদ্ধি দিন দিন লোপ পাচ্ছে৷ আত্মসুখে মগ্ণ মানুষ সংকীর্ণ স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে৷ চিন্তার জগতে মানুষের দৈনতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে৷ মানুষ সর্বগ্রাসী দানবের কৃপার পাত্র হয়ে বাঁচতে চাইছে৷
আধ্যাত্মিক জগতেও ভাবজড়তা, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার সাম্প্রদায়িক হানাহানি, জাতপাতের ভেদ-বিদ্বেষ মানবজাতিকে চরম সর্বনাশের পথে ঠেলে দিচ্ছে৷ মুঢ় মানুষ নিজের প্রাণরক্ষার জন্যে সেনাপরিবেষ্টিত হয়ে ভগবানের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে যায়৷ শ্রী খাঁ বলেন শুধু বাঙলা বা ভরতবর্ষ নয়, সমগ্র পৃথিবী আজ গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন, বিশ্বের ধনীতম ব্যষ্টি ও ক্ষমতার মোহে অন্ধ দাম্ভিক শাসকের নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতন মানব সমাজকে বিবস্ত্র করে দিচ্ছে৷ এই পরিস্থিতি থেকে মানব সমাজকে উদ্ধার করতে হলে চাই একটি সর্বাত্মক সর্বানুসূ্যত উদার অসম্প্রদায়ীক জীবন দর্শন৷ পৃথিবীতে সেই জীবন দর্শন এসে গেছে৷ কিন্তু মানুষ ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা ও দুর্বুদ্ধির জন্যে সেই দর্শনের সন্ধান পাচ্ছে না৷
শ্রী খাঁ বলেন আনন্দমার্গ দর্শনেই আছে সেই আদর্শ পথ৷ কিন্তু মানুষ ভাবজড়তা ও বৈষম্যমূলক চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকায় এই পথে চলতে ভয় পাচ্ছে৷ বিশ্বের প্রতিটি আনন্দমার্গীকে দায়ীত্ব নিতে হবে প্রতিটি মানুষের মন থেকে ভাবজড়তা ও সংকীর্ণ বিভেদ বৈষম্যমূলক চিন্তা দূর করে আনন্দমার্গের উদার অসাম্প্রদায়িক বাণী পৌঁছে দিতে হবে৷ আনন্দমার্গ দর্শনেই আছে মানুষের জাগতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে সব সমস্যার সমাধানের বাস্তবচিত ও যুক্তিসম্মত পথ৷
মানুষকে শুধু ধর্মের কথা বললেই হবে না, আধ্যাত্মিক উপদেশ দিলেই চলবে না৷ আবার পরমতত্ত্ব পরম লক্ষ্য ভুলে জাগতিক বিষয় নিয়ে পড়ে থাকলেও চলবে না৷ ক্ষুধার্ত মানুষকে যেমন ঈশ্বরতত্ত্ব শুণিয়ে লাভ নেই, তেমনি মানসিক দৈন্যতায় দীর্ণ মানুষকে মানব জীবনের পরমপ্রাপ্তির পথ দেখিয়ে লাভ নেই৷ তাই আনন্দমার্গ দর্শন জাগতিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে একটা ভারসাম্য ও সন্তুলন রেখে মানব সমাজের সর্বাত্মক বিকাশের সুস্পষ্ট পথ নির্দেশনা দিয়েছে৷ বৈষয়িক জগতের সমস্যা সমাধানের জন্য আনন্দমার্গ দর্শনে রয়েছে সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রাউট৷ যেখানে সামাজিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদে আর্থিক ক্ষমতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হাতে থাকবে ও তারাই আর্থিক পরিকল্পনা রচনা করে প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয় ক্ষমতার ব্যবস্থা করবে৷ আনন্দমার্গের নব্যমানবতাবাদ তত্ত্ব মানুষের সমস্ত প্রকার সাম্প্রদায়িক, জাতপাত, ভেদ বিদ্বেষ দূর করে, ভাবজড়তা, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মুক্ত বিচারশীল মানসিকতা তৈরী করে সমাজে সর্বশ্রেণীর মানুষের কল্যাণ করতে সক্ষম হবে৷ এককথায় মানুষের মানসাধ্যাত্মিক বিকাশের জন্যে নব্যমানবতাবাদের আদর্শ মানুষে মানুষে সর্বপ্রকার বিভেদ দূর করে এক আদর্শ মানব সমাজ গড়তে সাহায্য করবে৷ তাই বর্তমান মানব সমাজের সার্বিক বিপর্যয় থেকে ত্রাণ পেতে আনন্দমার্গের বানী প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে হবে৷
- Log in to post comments