(৮) সূর্য ও তার আশ্রিত গ্রহ-উপগ্রহেরা মহাকাশে যে কক্ষপথ ধরে চলে থাকে সেই কক্ষপথে অবস্থিত তারাদের নক্ষত্র ৰলা হয়৷ মুখ্যতঃ নক্ষত্রদের নিয়ে ও গৌণতঃ মহাকাশের সমস্ত তারাদের নিয়ে বৈদিক যুগ থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ভাবে যে নক্ষত্র-বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিজ্ঞান astronomy), নক্ষত্র পদার্থবিজ্ঞান astro-physics) গড়ে উঠেছিল তাকেও ৰলা হয় ‘ভ’ বা ‘ভ’-বিজ্ঞান৷
(৯) এই যে কক্ষপথে নক্ষত্রেরা বা সৌর গ্রহ-উপগ্রহেরা চলে থাকে সেই ণাক্ষত্র মার্গ বা ণাক্ষত পথকেও ৰলা হয় ‘ভ’৷
(১০) এই নক্ষত্রের সঙ্গে সৌর গ্রহ-উপগ্রহের সম্বন্ধ-বিন্ধু, আকর্ষণ- বিকর্ষণের ফলে জড়ে মননে যে সংবর্তন, বিবর্তন ও পরিবর্তন সংঘটিত হয় তাকে ৰলা হয় জ্যোতিষবিজ্ঞান (astrology)৷ এই জ্যোতিষশাস্ত্র (astrology) ও জ্যোতির্বিজ্ঞান (astronomy) এক জিনিস নয়৷ এই জ্যোতিষশাস্ত্রের জন্যেও ভ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে৷
(১১) আমরা পৃথিবীর কোন একটি স্থান থেকে যে মহাকাশ দেখে থাকি তা সমগ্র মহাকাশের অর্দ্ধাংশ৷ ৰাকি অর্দ্ধাংশ দেখা যায় অন্য গোলার্দ্ধ থেকে৷ দুই গোলার্ধ থেকে পরিদৃষ্ট যে সমগ্র মহাকাশ তাকেও ৰলা হয় ‘ভ’ বা ভ’-চক্র৷
(১২) সৌরমণ্ডলের গ্রহসমূহের গতিপথে রয়েছে মোটামুটি বিচারে ২৮টি নক্ষত্র৷ গণনার সুবিধার জন্যে তাদের মধ্যে ২৭টিকে জ্যোতিষিক হিসেবে ধরা হয়(১) অশ্বিনী, (২) ভরণী, (৩) কৃত্তিকা, (৪) রোহিণী, (৫) মৃগশিরা, (৬) আদ্রা, (৭) পুষ্যা, (৮) পুনর্বসু, (৯) অশ্লেষা, (১০) মঘা, (১১) পূর্ব ফল্গুনী, (১২) উত্তর ফল্গুনী, (১৩) হস্তা, (১৪) চিত্রা, (১৫) স্বাতী, (১৬) বিশাখা, (১৭) অনুরাধা, (১৮) জ্যেষ্ঠা, (১৯) মূলা, (২০) পূর্বাষাঢ়া, (২১) উত্তরাষাঢ়া, (২২) শ্রবণা, (২৩) ধনিষ্ঠা, (২৪) শতভিষা, (২৫) পূর্বভাদ্রপদ, (২৬) উত্তরভাদ্রপদ ও (২৭) রেবতী৷ অভিজিৎকে হিসেবে ধরা হয় নি৷ ধরলে নক্ষত্রের সংখ্যা দাঁড়ত আঠাশ৷
পৌরাণিক আখ্যায়িকা অনুসারে রাজা দক্ষের ছিল ২৯টি সন্তান৷ একটি কন্যা সন্তান (নাম দাক্ষায়ণী বা সতী), বিবাহিতা হয়েছিলেন শিবের সঙ্গে৷ আর ২৭টি কন্যার (এরা সকলেই নক্ষত্র) বিবাহ হয়েছিল চন্দ্রের সঙ্গে৷ একটি সন্তান (অভিজিৎ) ছিলেন নপুংসক৷ কেউ কেউ মনে করে সম্ভবতঃ এই কারণেই অভিজিৎকে জ্যোতিষিক গণনায় নেওয়া হয না ও বৈয়াকরণিক বিচারে শুদ্ধ হলেও ক্লীবলিঙ্গাত্মক হওয়ায় কেউই প্রাচীনকালে সন্তানের নাম অভিজিৎ রাখতেন না৷
তা সে যাই হোক, মহাকাশে মূলতঃ ২৭টি নক্ষত্রকে নিয়েই জ্যোতিষশাস্ত্র মোটামুটি বিচারে কাজকর্ম করে থাকে যদিও তার পরিভু অনেক বড়৷ যেহেতু এই ২৭টি নক্ষত্রকে নিয়েই সে কাজ চালায় তাই ২৭ সংখ্যাকেও ‘ভ’ ৰলা হয়ে থাকে৷ ইচ্ছে গেলে ছাবিবশ, সাতাশ, আঠাশ না বলে ছাবিবশ, ‘ভ’ আঠাশ এইরকমও বলতে পারা যায়৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)