অত্যন্ত বেদনার ও দুঃখের কথা দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে দলতান্ত্রিক সরকারগুলি যেন সারা ভারতযুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ধাপ্পা দিয়ে চলেছে৷ সুভাষচন্দ্র বসু ওই নেতাদের সেদিনই চিনে নিয়েছিলেন৷ তাই নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন সারা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে হবে তীব্র আন্দোলন ও কঠোর নিষ্ঠা ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সেখানে কোন সম্প্রদায় জাত-পাত ছোট বড়ো ভেদাভেদ থাকবে না৷ কারণ তিনি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের মানসপুত্র৷ তাঁর বাণী ও আদর্শ তাঁর জীবনেরই লক্ষ্য৷ তাই ইংরেজ শাসনে তিনি আই সি এস পাশ করে সরকারী চাকুরীর তোয়াক্কা না করেই দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দান করেন৷ তিনি বুঝেছিলেন দীর্ঘ বছর পরাধীনতার বেড়াজালে যে জনগোষ্ঠী আবদ্ধ তাঁদের প্রথমে আত্মনির্ভরশীল করতে হবে৷ স্বাধীনতা শব্দটির অর্থ কি? শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতার হস্তান্তর নয়৷ মানুষকে আর্থিক মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি সু-শৃঙ্খল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে৷ তাই বিদেশী ইংরেজ এর হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে প্রতিটি নাগরিকের মেরুদণ্ড সোজা করতে হবে৷ তারপর হলো গণতন্ত্র---যাকে সাধারণতন্ত্র বলে! এটাই দলতন্ত্রী শাসকদের কাছে ছিল একেবারে পরিত্যাজ্য বিষয়৷ তাই ইংরেজের কাছে দলীয় নেতারা দেশের মেরুদণ্ডটিকে ভেঙ্গে দিয়ে হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায় যাদের সম্পর্কটা অহিনকুল সম্পর্ক সেটাতে প্রাধান্য দিয়ে মাত্র দুটি প্রদেশ যে দুটি প্রদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জনগণ সংগ্রাম করেই ইংরেজ সরকার বিতাড়িত করার জন্য আন্দোলন ও প্রাণ দান করেন৷ সেই দুটি রাজ্যকে ভাগ করে দেশ ভাগ ভারতবর্ষকে চিরকালের জন্য ধবংস করে৷ মুসলমানদের স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র আর ভারত যুক্তরাষ্ট্র ইংরেজদের কমনওয়েলথের সদস্যরাষ্ট্র হয়ে তাদের অধীন রেখে নামকেওয়াস্তে স্বাধীনতা দান করে অখণ্ড ভারতবর্ষকে পূর্ব ও পশ্চিমের দুটি ডানা কেটে নিয়ে৷ ক্ষমতা ভাগ করে দেয় কংগ্রেস ও মুসলীমলীগের দু’জন বিশ্বস্ত জওহরলাল নেহেরু ও মিঃ জিন্না সাহেব যাঁরা ইংরেজের অনুগত তাঁদের মধ্যে৷ দেশভাগের পরই হিন্দু ও অমুসলমানদের সেই পাকিস্তান রাষ্ট্র দুটি থেকে উদ্বাস্তু করে ভারত সীমান্তে বিতাড়িত করে৷ আজও সেই নির্যাতন ও বিতাড়ন চলছে৷ ৭৮ বছরেও যার কোন প্রতিকার হয়নি৷ ফলে এই বাঙলার ২/৩ ভাগ পূর্ব পাকিস্তান, আর পঞ্জাবও তেমন হয়ে গেলে সীমান্ত রাষ্ট্র! দীর্ঘবছর ধরে এই প্রদেশ এর মানুষ শাস্তি ভোগ করছেন৷ পঞ্জাবের উদ্বাস্তু সমস্যাটা কেন্দ্র সরকার নিয়ন্ত্রণ করেছে৷ কিন্তু বাঙালী জনগণ-এর উদ্বাস্তু সমস্যা আজও থেকে গেছে৷ পূর্ব পাকিস্তান আজ স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছে বটে কিন্তু বর্তমানে গোঁড়া হিন্দু বিদ্বেষী মিঃ ইয়ূনুস যিনি আবার শান্তির উপর থিসিস লিখে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি হিন্দু বিতাড়ন করছেন শুধু নয় সেখানকার হিন্দুদের শেষ করে দিতে হিন্দু তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে যাতে পুরো দেশটা গোঁড়া মুসলমানদের হয়৷ এই হলো স্বাধীন ভারতবর্ষের পরিহাস৷ দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে! এদিকে কংগ্রেস এই দেশের স্বাধীনতা এনেছে বলে ব্যাপক প্রচার করে হাজার হাজার বাঙালী তরুণের দেশের জন্যে প্রাণদানের ইতিহাসকে লুপ্ত করে দিয়েছে৷ আর আজ বাঙালী জনগোষ্ঠীকে হিন্দুত্ববাদীরা বর্তমান মোদিজী সরকার চরম অত্যাচার নির্যাতন করে যাচ্ছে ভারতযুক্তরাষ্ট্রে! এমনকি বাঙলার গুণীজনদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালীদের বিদেশী বলে অত্যাচার করা হচ্ছে৷
বর্তমানে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী মোদিজীর এন.ডি.এ সরকার পশ্চিমবাংলার উপর অমানবিক অত্যাচার করে চলেছে৷ সংবিধান মতে যতোটুকু সাহায্য উন্নয়ন খাতে দেওয়া উচিত তার সামান্যতম অর্থ কেন্দ্র দেয় নি৷ তাছাড়া চরম অপপ্রচার করছে বাঙালী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে৷ বাঙলার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রাণপন সংগ্রাম করে চলেছে৷ অতি দুঃখের কথা শুনানীর নামে জ্ঞানীগুণী ব্যষ্টি ও সাংসদ বিধায়কদের এস.আই.আরের নামে এক বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে অসম্মান করা হচ্ছে৷
৭৮ বছরে স্বাধীন ভারতে বাঙালীর ওপর যে বঞ্চনা ও অত্যাচার শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালের মধ্যরাতের অন্ধকারে, আজ তা ফ্যাসিষ্টরূপ নিয়েছে যা হিটলারকেও ছাপিয়ে গেছে৷ বাঙালী জনগোষ্ঠীকে আজ সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে জাত-পাতের উর্দ্ধে উঠে হিন্দু-মুসলীম ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদে সামিল হতে হবে সংগ্রামে নামতে হবে৷ আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে শূন্য করে বর্গীরক্ত যুক্ত বাঙালীদের চিহ্ণিত করে দিতে হবে৷ ফ্যাসিষ্ট শোষক ও শাসককে বুঝিয়ে দিতে হবে কোন ব্রিটিশ অনুগত লৌহ মানব নয়, অহিংসার পূজারী নয়, ইংরেজ ভারত ছেড়েছে বাঙলার দস্যি দামাল ছেলেদের জীবনপন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেখে৷ এবার দিল্লির শাসককে বুঝিয়ে দিতে হবে সেই সংগ্রামী বাঙালী মৃত নয়, আজও জীবিত আছে৷
- Log in to post comments