জ্ঞানং যোগাত্মকং বিদ্ধি যোগাঙ্কাষ্টাঙ্গ সংযতম্৷
সংযোগঃ যোগ ইত্যুক্তো জীবাত্মা পরমাত্মনোঃ৷৷
----(যোগী যাজ্ঞবল্ক)
Ánanda Vacan´amrtam)
‘‘যোগশ্চিত্তবৃত্তির্নিরো’’---পতঞ্জলি
‘‘সর্বচিন্তা পরিত্যাগঃ নিশ্চিন্তো যোগ উচ্যতে’’--- যোগশাস্ত্র
ভাবার্থ :---সাম্প্রতিককালে ‘যোগ’-এর প্রতি মানুষের অপরিসীম আগ্রহ৷ ‘যোগ’ শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য কী? এ যাবৎ ‘যোগ’ সম্পর্কে নানান মুনি-ঋষি-মনীষী নানান ব্যাখ্যা দিয়েছেন, অজস্র টিকা-টিপ্পনী দিয়েছেন৷ এদের মধ্যে সবচেয়ে মননগ্রাহ্য, যুক্তিনিষ্ঠ তথা সর্বজনগ্রাহ্য ব্যাখ্যাটি হ’ল ঃ সংযোগঃ যোগ ইত্যুক্তো জীবাত্মা পরমাত্মনোঃ৷ অর্থাৎ অণুচৈতন্যের (জীবের চৈতন্য) সঙ্গে ভূমাচৈতন্যের বা জীবের সঙ্গে শিবের সংযুক্তি তথা জীবাত্মাকে পরমাত্মায় মিলিয়ে দেওয়াকেই যোগ বলে৷ আক্ষরিক অর্থেও ‘যোগ’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায় সংযুক্তি বা মিলন৷
সংস্কৃতের দু’টি মূল ধাতু থেকে ‘যোগ’ শব্দটি নিষ্পন্ন৷ এক ঃ যুজ্+ ঘঞ্= যোগ দুই ঃ যুনজ্+ ঘঞ্= যোগ৷ এই দু’টি ব্যুৎপত্তির মধ্যে কিছুটা অর্থগত সূক্ষ্ম পার্থক্যও রয়েছে৷ যেমন ‘যুজ্’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন যোগ শব্দের অর্থ হ’ল এ্যাডিশন addition), আর ‘যুন্জ’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন ‘যোগ’ শব্দের অর্থ হ’ল ইউনিফিকেশন unification)৷ Addition’ অর্থে সাধারণতঃ স্বাভাবিকভাবে যুক্ত করা বোঝায়৷ যেমন ২ + ২ = ৪৷ বা জলের সঙ্গে বালির সংমিশ্রণ৷ আরunification কথাটির তাৎপর্য হ’ল যেখানে দু’টো সত্তা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়৷ যেমন জল আর চিনি যদি ঠিকমত মেশানো হয় তাহলে চিনিকে আর জল থেকে আলাদাভাবে চেনা যাবে না৷ চিনি জলের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে যায়৷ তা ‘যোগ’ শব্দের পকৃত অর্থ হ’ল এই unification৷
অর্থাৎ ‘যোগ’ হ’ল ভক্ত-ভগবানের মহামিলন৷ অষ্টাঙ্গযোগেরও শেষ কথা তাই সমাধি অর্থাৎ আনন্দঘন চৈতন্যসত্তায় আত্মস্থিতি লাভ৷ অষ্টাঙ্গযোগের যে আটটি স্তর রয়েছে তার প্রতিটি অঙ্গই শরীর-মন-আত্মার সম্যক বিকাশলাভের জন্যে৷ যম-নিয়ম-আসন-প্রাণায়াম- প্রত্যাহার-ধারণা-ধ্যান- সমাধি এই অষ্টধারা সমন্বিত যোগ একটি আদর্শ তথা সর্বাঙ্গীণ জীবনশৈলী যা মানুষকে জীবনের পরম লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়---জীবনের অণুভাবকে ভূমাসিন্ধুর মহাভাবে সংযুক্ত করে দেয়৷ ( স্তোত্র মঞ্জুষা থেকে সংগৃহীত)