কুক্ উণ্ দা ড ঞ্চ কুকুদ৷ ‘কুকুদ বলতে বোঝায়, যে কোন কিছুকে তুলে নেয় ও তারপর তা’ দান করে৷ যোগারূঢ়ার্থে ‘কুকুদ’ মানে পৌরাণিক মত অনুযায়ী অনুষ্ঠিত বিবাহের সম্প্রদান–কর্ত্তা৷ প্রাচীনকালে বিবাহের নানা রীতি প্রচলিত ছিল–আজও আছে৷ শৈব, গান্ধর্ব, রাক্ষুসী প্রভৃতি নানান রীতির মধ্যে একটি রীতি ছিল–পিঁড়ির উপর সালঙ্কারা কন্যা উপবিষ্টা থাকবে৷ কন্যার অভিভাবক তাকে পিঁড়ি সহ ঊর্ধ্বে তুলে দান করবেন ও বিবাহার্থী তা’ গ্রহণ করবে৷ সম্প্রদান কর্ত্তাকে বলা হত ‘কুকুদ’ অর্থাৎ যিনি তুলে নিয়ে দান করলেন, আর যিনি দান গ্রহণ করলেন তাঁকে বলা হ’ত ‘কোক’ অর্থাৎ যিনি তোলা জিনিস গ্রহণ করলেন৷
এই সম্প্রদান–করা–বিবা আজও উচ্চবর্ণীয় মানুষের মধ্যে কিছুটা প্রচলিত আছে৷ ম ব্যবস্থা নারীর পক্ষে সম্মানহানিকর৷ নারী কি চাল–ডাল–নুন–তেল যে তাকে তুলে নিয়ে অন্যের হস্তে সমর্পণ করলুম৷ নারী কি মুর্গী না ঢ়্যাঁড়শ যে তাকে বস্তাবন্দী করে তুলে নিয়ে আর কাউকে বেচলুম বা দান করলুম এ ব্যবস্থাটা নারীর পক্ষে অবমাননাকর তো বটেই, এতে মানুষ জাতির মর্যাদাও ভুলুণ্ঠিত হয়৷ মানবতা তথা নব্যমানবতাবাদের মৌল নীতিও এতে লঙিঘত হয়৷ বিশ্বের বিচারশীল মানুষের কাছে আমার অনুরোধ তাঁরা যেন জিনিসটা ভাল করে ভেবে দেখেন ও এই কদর্য প্রথা যাতে রহিত হয় তার জন্যে সচেষ্ট হন৷ আমি তো বলব, মনু এই প্রথাকে সমর্থন করে ভাল কাজ করেন নি৷
(‘কুকুদ’’, ‘শব্দ–চয়নিকা’ ৪থ খণ্ড)