খড়িকা ঃ ভাবারূঢ়ার্থে ‘যে ভেঙ্গে ভেঙ্গে চলে’, যোগারূঢ়ার্থে ‘খড়ি’ (চক)৷ ‘খড়কে কাঠি’ অর্থেও ‘খড়িকা’ ব্যবহৃত হয়৷ ভোজনান্তে প্রাচীনকালে লোকে খড়কে-কাঠির সাহায্যে দাঁত পরিষ্কার করত এখনও কেউ কেউ করে৷
‘‘মনে পড়ে ভাল-মন্দ খাওয়ার মাঝে মাঝে
খড়কে-কাঠির কাজ সেরেছি আস্ত তালের গাছে৷
সেদিন আর নাইকো রে ভাই সেদিন আর নাই
ভাবলে পরে সে সব কথা ৰড়ই ব্যথা পাই৷’’
উত্তর ভারতে এখনো খড়কে-কাঠিকে ‘খড়িকা’ ৰলা হয়৷ অনেকে বলেন, যে নদী পাড় ভেঙ্গে চলেছে তার নাম ‘খড়িকা’৷ এই অর্থে খড়িকা> খড়িআ> খড়ে৷ জলঙ্গী নদীর নিম্নতর অংশ যা নদীয়া জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত, তার একটি স্থানীয় নাম ‘খড়ে নদী’৷ অনেকের মতে কিন্তু নদীটির নাম ‘খড়ে’ এই অর্থে হয়নি৷ নদীয়া জেলায় প্রাচীনকাল থেকেই ব্যাপকভাবে গো-পালন করা হত৷ কিন্তু নদীয়ায় আমন ধান বড় একটা হত না৷ মাটি দোঁয়াশ ৰলে আউশ ধান, পাট ও রবিশস্য হত৷ এই জেলায় প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের খাদ্য হিসেৰে যেমন ভাগীরথীর অপর পার্শে অবস্থিত বর্ধমান জেলা থেকে ধান আমদানী করা হত (এজন্যে বর্ধমান জেলার অন্তর্বন্দর ছিল ‘নন্দনঘাট’ বা ‘নাদন ঘাট’) তেমনি গো-খাদ্যের জন্যে প্রচুর পরিমাণে খড়ও আমদানী করা হত৷ এই খড়ের নৌকোয় নদীটি ভর্ত্তি হয়ে থাকত বলে এর নাম হয়েছিল ‘খড়িয়া’ বা ‘খড়ে’৷
ইংরেজ আমলের গোড়ার দিকে ‘খড়ে’ ছিল একটি বড় নদী৷ মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানায় পদ্মা থেকে বহির্গত হয়ে নবদ্বীপের কাছে এটি ভাগীরথীতে মিশেছে৷ সেকালের সাহেবরা কলকাতা থেকে ডাকা যাবার জন্যে বড় জাহাজ বা ৰজরায় কলকাতা থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত ভাগীরথী দিয়ে গিয়ে তারপর জলঙ্গী দিয়ে পদ্মায় পৌঁছোতেন৷ অন্যথায় ভাগীরথী দিয়ে গিয়ে তারপর জলঙ্গী দিয়ে পদ্মায় পৌঁছোতেন৷ অন্যথায় ভাগীরথী দিয়ে গিয়ে কাটোয়া, বহরমপুর, জঙ্গীপুর হয়ে স্মৃতি থানার ছাপঘাটিতে এসে পদ্মায় পড়তে হত৷ তারপর পদ্মা ধরে জলঙ্গীতে পৌঁছোতে হত৷ এই দীর্ঘপথ ধরে চললে দূরত্ব ‘দুশ’ মাইল ৰেড়ে যেত৷
(শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)