(১৮) বৈদিক ‘মন্ত ধাতুর অর্থ হ’ল ‘বাস করা’---আরও বেশী কথ্য ভাষায় ‘আস্তানা গাড়া’৷ আগেকার দিনের সাধু-সন্ন্যাসীরা বনে-জঙ্গলে পাহাড়ে-পর্বতে থাকতেন৷ এভাবে গুহার মধ্যে, গিরিকন্দরে থাকতে গেলে নানা অসুবিধা ভোগ করতে হয়৷ এই অসুবিধা থেকে বাঁচবার জন্যে তাঁরা একাধিক সন্ন্যাসীতে মিলে থাকবার জন্যে যে আস্তানা (উত্তর ভারতের কথ্য ভাষায় ‘ডেরা’) গাড়তেন তাকে ৰলা হত ‘মঠ’৷ ‘মঠ’ ধাতু+ ‘অচ প্রত্যয় করে ‘মঠ’৷ এই ‘মঠ’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ম’শব্দ পাই তার একটি মানে ‘‘সাধু-সন্ন্যাসীরা যে নির্জন স্থানে বসবাস করেন’’৷
(১৯) ‘মগ ধাতুর অর্থ হ’ল ‘অহেতুক ঘুরে ৰেড়ানো/পথচ্যুত হওয়া to be detracted)৷ এই মগ ধাতু+ ‘অচ করে ‘মগ’৷ ‘মগ’ শব্দের ভাবারূঢ়ার্থ’ হচ্ছে ‘যে বৈদিক বিধিব্যবস্থা মানে না’’, অথবা যে ৰৌদ্ধ বিধিব্যবস্থা মানে’’৷ আরাকানের মানুষেরা ৰৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন বলে বাংলায় তাদের ‘মগ’ ৰলা হয়৷ ‘ম+ ‘ড’ করে যে ‘ম’ শব্দ পাই তার একটি অর্থ আরাকানের অধিবাসী৷ ‘মগ+ ‘ধা+ ‘ড’= মগধ৷ মগধ মানে যে বা যারা বৈদিক ধর্ম মানে না, ৰৌদ্ধ ধর্মের অনুসরণ করে৷ প্রাচীনকালে ভারতের যে অংশে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচলন ছিল তার নাম দেওয়া হয়েছিল মগধ৷ মগধ> মগহ৷ বৈদিক ধর্মের অনুসারীরা বৌদ্ধ ধর্মকে অপছন্দ করতেন ৰলে ৰলে ৰেড়াতেন, কাশী রাজ্যে মৃত্যু হলে মানুষের শিবলোকে সদগতি হয়, আর পার্শ্ববর্তী মগধে মৃত্যু হলে গাধা হয়৷
(২০) ‘মুদ্’ ধাতুর অর্থ হ’ল অনুমোদন করা, সমর্থন করা৷ ‘মুদিতা’ মানে সমর্থন তাই ‘মুদ্+ ‘ড’ করে যে ‘ম’ পাই তার মানে ‘অনুমোদন’৷
(২১) ‘মদ ধাতুর অর্থ হ’ল আনন্দ পাওয়া..... সীমিত অর্থে আনন্দ দেওয়াও৷ ‘মদ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ম’ শব্দ পাই তার অর্থ ‘যে আনন্দ দেয়’৷ ‘মদ্’+ অনট্ করে ‘মদন’ শব্দ পাচ্ছি৷ ‘মদ্’ ধাতু+ উ প্রত্যয় করে ‘দ’ স্থানে ‘ধ’-কে এনে ‘মধু’ শব্দ পাচ্ছি৷ ‘মদ্’+ ‘ড’ করে ‘ম’ শব্দের একটি অর্থ ‘মধু’৷
(২২) ‘মধু’ শব্দে আর একটি অর্থ, বিশেষ করে বৈদিক ভাষায় মদ্য (মদ্+ য)৷ তাই ‘ম’ শব্দের আর একটি মানে ‘মদ’৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)