সংবাদপত্র বর্তমান এর পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার (৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) পাতায় একটি খবর দেখে যে কোনো শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মাথা ঘুরে যেতে বাধ্য৷ রাজ্য সরকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মদ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে৷ বলা হয়েছে (২০২৫ -২৬) এই অর্থবর্ষে ১৯৪০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২৩কোটি টাকার মদ বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মদ বিক্রিতে বর্তমানে রাজ্যে প্রথম৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা৷ তৃতীয় , চতুর্থ, পঞ্চম স্থানে কারা রয়েছে তা এখনও জানা জানা যায়নি৷ এরপরে শীঘ্রই হয়তো আমরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে প্রতিযোগিতার খবরও জানতে পারব! সর্বাধিক মদ বিক্রি করতে পারলে হয়তো মূল্যবান পুরস্কারও মিলবে৷ বাহ এইভাবেই তো রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে৷ কোন হরিদাস পাল কোথায় কি বলছে বা লিখছে সেসব শুনে কোনো কাজ নেই৷ যারা এসব কারণবারি গিলতে পারে না, তারাই শুধু সমালোচনা করে৷ওরা যত ইচ্ছে সমালোচনা করুক৷ওদের সমালোচনায় কি এসে যায়! রাজ্যের কোষাগারে টাকাতো ঢুকছে৷ অঢেল টাকা! নাহলে টাকা আসবে কোথা থেকে? দমে মদ খাও, আর উল্টিয়ে পড়ে থাকো৷ দেখবে কদিন বাদে আমাদের রাজ্য মদের টাকায় কেমন ফুলেফেঁপে উঠছে! তবে না ভাতা টাতা দিতেও সুবিধে হবে! আর মদ খেয়ে পটোল তুললেও অসুবিধে নেই৷ ভালোই পয়সা মিলবে! ফুর্তিতে মদ খাও৷ তবে চোলাই টোলাই খেওনি বাপু৷
বাংলা মদের ৬০০গ্রামের বোতলের দাম ১০টাকা বেড়ে যাওয়ায় এখন নাকি বিক্রি কমেছে! সবাই বিদেশি মদের দিকে ঝুঁকেছে৷ মনে হচ্ছে স্বাদ বদল করতে চাইছে মাতালরা৷ এদিকে চোলাই মদের রমরমা ঠেকাতে আবগারি দপ্তরের কর্মীদেরও ছোটাছুটির বিরতি নেই৷ লাইসেন্স ওয়ালা দোকান থেকে মদ কিনে খাওনা বাপু৷ কেউ কিচ্ছুটি বলবে না৷ কেন ভুলভাল জায়গায় ছুটছ? শুধু মনে রাখতে হবে কোষাগার ভরতে হবে৷ মদ খাওয়ানোর জন্য সরকারের এমন সুন্দর প্রচেষ্টা দেখে ভয়ে হাতপা গুটিয়ে যাচ্ছে যাদের তাদের হাত পা গুটিয়ে যাওয়াই ভালো! মদ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত বিষয়ে কোনো কথা হবে না৷
শিক্ষা বিস্তারে, স্বাধীনতা সংগ্রামে, সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় বাঙালীদের অবদানের কথা এখন ভুলে যাও৷ ওসব এখন অতীত৷ এখন শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে মদ বিক্রিতে কোনজেলা কাকে টপকে যাচ্ছে! একসময় মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কোন জেলা কাকে হারিয়ে সেরা হত তার প্রতিযোগিতা চলত৷ আর তাই নিয়ে কদিন ধরে আলোচনা চলত৷ এখন সেসব নিয়ে ভেবে কি হবে? ওতে তো রাজ্যের অর্থনীতির কোনো উন্নতি হবে না! বাঙালী এখন দেশি - বিদেশি মদ নিয়ে ভাবুক, এতে কিছু হোক বা না হোক টাকা আসবে , প্রচুর টাকা৷ সরকারি কোষাগার ভরে যাবে৷ এদিকে আবার দীঘাতে ফেব্রুয়ারি মাসে মদ কম বিক্রি হতে পারে বলে আবগারি দপ্তরের মাথায় হাত৷ সারা মাস ধরে প্রায় পরীক্ষা কি করে তাহলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে? সত্যিইতো এটা ভেবে দেখার মতো বিষয়!
রাজ্যের সরকার এখন সবকিছুই প্রায় দুয়ারে এনে দিয়েছে, যাতে জনতা ছোটাছুটি করে দম না হারিয়ে ফেলে! শুধু মদটা দুয়ারে পৌঁছে গেলেই মানুষের শীত গ্রীষ্ম বর্ষায় ছোটাছুটিটা কমবে৷ ষোলোকলা পূরণ হবে৷ কোন বেআক্কেলে আবার বাঙালীকে দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাঙালী দুধ খেলে কী রাজ্যের কোনো উপকারে লাগবে? কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কোষাগারে কী ঢুকবে? তাহলে কেন দুধ উৎপাদন বা বিক্রির জন্য টার্গেট বেঁধে দেবে? সবকিছু খোলা মনে ভেবে দেখার দরকার! শুধু আলটপকা মন্তব্য করে দিলেই হয় না৷ যারা সংসার চালায় অর্থাৎ পরিবারের মাথা তারাই জানে টাকার কিরকম দরকার! বাইরে থেকে বুকনি ঝাড়া খুব সহজ, যাদের ভাতা টাতা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয় বিশাল জনতাকে তারাই জানে কত ধানে কত চাল!
- Log in to post comments