নন্দনবিজ্ঞান মোটামুটি তোমরা জান Aesthetic Seience৷ কোন একটা জিনিসকে অভিব্যক্ত করা হচ্ছে স্বাভাবিক ভাষায় নয়, সূক্ষ্মতর অনুভূতিকে সূক্ষ্মতম ব্যক্তিকরণের মাধ্যমে৷ কোন একটা জিনিস আপাততঃ দেখলুম, ভালো লাগল৷ সেই যে ভালোলাগা, সেই ভালো লাগার পেছনে যে ভাবটুকু রয়েছে, কেন ভালো লাগল, সেইটাকে মাধুর্যপূর্ণ সূক্ষ্ম ভাষায় যেখানে অভিব্যক্ত করা হ’ল সেটা হ’ল ‘নন্দনবিজ্ঞান’৷
কতকগুলো ফুলকে ৰাড়ীতে এমনি মেঝেতে ছড়িয়ে রাখাও যায়৷ তা’ না করে ফুলগুলোকে কুড়িয়ে সযত্নে সাজিয়ে রাখলে, এটা নন্দনবিজ্ঞানের মধ্যে চলে এল৷ ৰাড়ীতে টেবিল-চেয়ার সবকিছুই রয়েছে৷ এখানে কোন একটা, ওখানে কোন একটাএরকমভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে দিয়েছ৷ দেখতে ভালো লাগল না৷ গুছিয়ে রেখে দিলে তা নন্দনবিজ্ঞানের মধ্যে এসে গেল৷ সব জিনিসের ভেতরের যে সুন্দর অংশটুকু যেটা সবাইকার ভালো লাগে সেই জিনিসগুলোকে সাজিয়ে গুজিয়ে রাখলে, শুধু রাখলে নয়, সেইগুলোকেই সুন্দর মিষ্টি ভাষায় ৰুঝিয়ে দিলে বা মিষ্টিভাবে ৰুঝিয়ে দিলে তাও নয়, ---তুলি দিয়েও, কলম দিয়েও তো সেটা অভিব্যক্ত করা যায় ৷ এই হলো নন্দনবিজ্ঞান৷
নন্দনবিজ্ঞানের পেছনের ভাবটা রয়েছে কী? ---না, ভালো লাগছে, ভালো লাগছে এই ভাবটা৷ কিন্তু ভালো লাগার পেছেনে কী তত্ত্বটা কাজ করছে যাতে আমার ওই জিনিসটাকে ভালো লাগছে? আমার এই ফুলটাকে ভালো লাগছে, আমার এইভাবে সাজিয়ে রাখাটাকে ভালো লাগছে, আমার এইভাবে কথা ৰলাটাকে ভালো লাগছে এইভাবে নাটকের সূত্রপাত হয়েছিল, এইভাবে আবৃত্তি মানুষ আবিস্কার করেছিল৷ এই আমার ভালো লাগছে আমি সেখানে কর্তা আর যাকে ভালো লাগছে সেটা হলো কর্মকারক৷ এই রকমের অবস্থা চলতে চলতে এমন একটা অবস্থা এসে যায় যে ওই জিনিসটার কাছে আমি ভালো লাগছি৷
উল্টো হয়ে গেল৷ হতে হতে এমন একটা অবস্থা এসে যায় যে, নিজেকে মানুষ হারিয়ে ফেলে৷ যতক্ষণ * আমার ভালো লাগছে ততক্ষণ আমি তো ঠিক আছি৷ আমি আছি, তাই না ভালো লাগছে ওই জিনিষটার কাছে আমি ভালো হয়ে যাচ্ছি এই করতে করতে আমার ‘আমিত্ব’ ওই জিনিসটার কাছে যায় হারিয়ে৷ এই যে হারিয়ে যাওয়া, যার কাছে হারিয়ে যাওয়াটা হলো, এই যে হারিয়ে যাওয়ার পালা, যার কাছে হারিয়ে যাচ্ছি সে হলো ‘মোহন’৷ পরমপুরুষ হলেন মোহন, কারণ সবাইকে মুগ্দ করে রেখে দিয়েছেন৷ পরমপুরুষ যদি এই জগৎটাকে মুগ্দ না করে রাখতেন, তাহলে কেউ আর এই পৃথিবীতে থাকতে চাইত না৷ কত সমস্যা ৰল দেকিনি সমস্যার জ্বালায় অস্থির হয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাইত সব মানুষ৷
কিন্তু তা করছে না কারণ ওই মোহনের পাল্লায় পড়েছে, পরমপুরুষের পাল্লার পড়েছে, ছেড়ে পালাতে পারছে না পৃথিবীটা৷ ভালো না লাগলেও পরমপুরুষকে ভালো লাগছে৷ আর পরমপুরুষকে যখন ভালো লাগছে, পরমপুরুষের কাছে সে যখন ভালো তখন যাৰেই বা কোথায়! এই জিনিসটার ভিত্তিতে ৰলা হয়েছিল, এই মোহনটাকে ভালো লাগার মোহনের পাল্লায় পড়ার ফলে মানুষ ধর্মের আবিষ্কার করেছিল৷ এইভাবে মানুষের জীবনে প্রথম ধর্মের আবির্ভাব হয়েছিল৷