সংবাদ দর্পণ

বাঁকুড়ায় শপিং মলে বাংলা ভাষার অপমানে আমরা বাঙালীর যুব নেতার তীব্র প্রতিবাদ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৬ই অক্টোবর বাঁকুড়া শহরে ‘ষ্টাইল বাজার’ নামে একটি শপিং মলের উদ্বোধনী দিনে বাঙলাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার, ও মলের কর্তৃপক্ষের শুধুমাত্র হিন্দী ভাষায় সকলকে কথা বলতে বাধ্য করার প্রতিবাদে সরব হন কয়েকজন আমরা বাঙালী কর্মী৷ সেখানে উপস্থিত ‘আমরা বাঙালী’র যুবনেতা অগ্ণিবেশ সেনগুপ্তকে এ ব্যাপারে প্রশ্ণ করা হলে তিনি ঘটনার যে বিবরণ দেন তা নিম্নে প্রদত্ত হ’ল ঃ---

বিলিং কাউণ্টারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো ক্রেতারা বারে বারে অনুরোধ করেন দায়িত্বে থাকা কর্মচারীকে তাঁদের বিল তাড়াতাড়ি নিয়ে নেওয়ার জন্যে৷ কিন্তু কর্মচারীটি এই অনুরোধে কান না দিয়ে দিয়ে বলেন---‘বঙ্গাল নেহী হিন্দীমে বোলিয়ে৷’ ক্রেতারা বলেন---‘হিন্দীতে বলতে হবে কেন? এটা বাঁকুড়া শহর ও বাঙলা৷ এখানে বাংলায় কথা বলুন৷’ উত্তরে কর্মচারীটি বলে ‘হিন্দী ভারতের রাষ্ট্রভাষা তাই হিন্দীতেই কথা বলতে হবে৷’ প্রতিবাদে আমি চিৎকার করে জানাই যে হিন্দী কখনোই ভারতের রাষ্ট্রভাষা নয়, ভারতীয় সংবিধানে হিন্দী রাষ্ট্রভাষা বলে গণ্য নয়, আপনি সংবিধান বিরোধী কথা বলছেন, আর.টি.আই. করে জানুন যে হিন্দী রাষ্ট্র ভাষা নয়৷ উত্তরে কর্মচারীটি চুপ করে যান৷ পরে দায়িত্বে থাকা আর এক ব্যক্তি এসে বলেন যেহেতু হিন্দী রাষ্ট্রভাষা তাই সকলের হিন্দীতেই কথা বলা উচিত৷ এর তীব্র প্রতিবাদ করে আমি একই উত্তর দিই জানতে চাই বাঁকুড়ায় বাঁকুড়ার লোকেদের চাকরী দেয় না কেন আপনার সংস্থাটি? আমার জোরালো প্রতিবাদে সমস্ত ক্রেতারা জানতে পারেন যে, হিন্দী আদৌ ভারতের রাষ্ট্রভাষা নয়, যা কিনা এতদিন ওনারা স্কুলে-কলেজে ভুলটাই শিখে এসেছেন৷ ফলতঃ আমার প্রতিবাদে কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আমাদের দাবী মানতে বাধ্য হন৷ ন৷

এন আর সি-র প্রতিবাদে ‘আমরা বাঙালী’ ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির বিক্ষোভ, মিছিল ও পথসভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আগরতলা, ২০শে অক্টোবর ঃ আমরা বাঙালীর তরফ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংঘটনের ত্রিপুরা রাজ্যসচিব শ্রীহরিগোপাল দেবনাথ অসমে এন আর সি নাম দিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ বাঙালীকে বিদেশী ঘোষণা করার চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেন৷ তিনি ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আজ বাঙালী জাতির অস্তিত্ব বড়ই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ এক শ্রেণীর স্বার্থান্ধ ও কুচক্রান্তকারী বাঙালী বিদ্বেষী রাজনৈতিক অশুভ শক্তিসমূহের ভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অমানবিক দৌরাত্ম্যের কারণে অতীতের সেই মুঘল যুগ ও ব্রিটিশ শাসনের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলোর কথা আজও আমাদের ভুলতে দিচ্ছে না৷ বর্তমানে স্বাধীনোত্তর ভারতে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী আর বাঙালী বিদ্বেষী বিচ্ছিন্নতাবাদী কায়েমী স্বার্থান্ধ অশুভ শক্তির কবল থেকে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করাটাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমাদের সহ্যের সীমাও ছাড়িয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে৷ তাই আর মুখ বুজে কিংবা নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে ঝিমোবার অবসর নেই৷ মনে রাখতে হবে আমাদের নিশ্চেষ্টতাই আমাদের জাতীয় জীবনের এক চরম সর্বনাশ ডেকে আনবে৷ সুতরাং আসুন, সকলে মিলে যত রকমের অন্যায় অত্যাচার জুলুম আর উপেক্ষার বিরুদ্ধে আমরা জেগে উঠি৷ দিক্বিদিক আলোড়িত করে আমরা সিংহবিক্রমে এগিয়ে যাই ও যাবতীয় বাঙালী বিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জন তুলি---এন আর সি কিংবা ভিত্তি সালের অজুহাতে কোনো বাঙালীকেই বিদেশী বলা চলবে না৷

মূলতঃ ত্রিপুরার মাটি আর অসমের মাটিও সাবেক বাঙলারই মাটি৷ আর ভারতের বুকে কোনও বাঙালীই বিদেশী হতে পারেন না৷ শুধু বিভেদকামী ও কায়েমী স্বার্থ লোলুপ গোষ্ঠীসমূহের বদ্ খেয়াল ও অযৌক্তিক চক্রান্ত সার্থক করে তুলতেই বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করে বাঙালীকে হেনস্থা করা হচ্ছে৷ আপনারা সবাই জানেন, ইতোপূর্বে অসমে এন আর সি-ণ অজুহাতে প্রায় দেড়কোটি বাঙালীকে ডি-ভোটার বানিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে ও বাঙালী-র মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে’’

ত্রিপুরায়ও রাজ্যভাগের চক্রান্তকে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে তাই এসব ঘৃণ্য চক্রান্তকে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাই৷ ‘আমরা বাঙালী’র আহুত আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে আমাদের কয়েকটি দাবী---

(১)  এন আর সি কিংবা ভিত্তি সাল দেখিয়ে একজন বাঙালীকেও ‘বিদেশী’ চিহ্ণিত করা চলবে না৷

(২) ভারতে বসবাসরত একজন বাঙালীকেও উৎখাত করা চলবে না৷

(৩)  বাঙালী জাতি স্বার্থবিরোধী এন আর সি আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে৷

(৪)  বাঙালীর নাগরিকত্বের ব্যাপারে কোনও ভিত্তিসাল রাখা চলবে না৷

(৫)  ত্রিপুরা রাজ্য ভাগ করা চলবে না৷ বরং ত্রিপুরাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ং সম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলতেই হবে৷

(৬)  ত্রিপুরায় বিভেদকামী শক্তিকে বাড়তে দেওয়া চলবে না ও পাহাড়বাসী বাঙালী ও সমতলবাসী বাঙালীর মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতির বাতাবরণ গড়ে তুলতেই হবে৷

(৭)  ত্রিপুরার মূল সমস্যা যেহেতু অর্থনৈতিক, তাই রাজনৈতিক ভাগাভাগি দুষ্টচক্রের ঘৃণ্য খেলা বলে নস্যাৎ করতে হবে৷

(৮)  অসমে কোন বাঙালীকেই আর ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা চলবে না৷

আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত স্থানগুলিতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করা হয়৷

২০শে সেপ্ঢেম্বর---খোয়াই বাজারে পথসভায় সভাপতিত্ব করেন নীলু দেবনাথ৷ উল্লেখযোগ্য বক্তারা হলেন গৌতম ঘোষ, কেশব মজুমদার, গৌতম দেব ও ধীরেন্দ্র দেবনাথ প্রমুখ৷

২৫শে সেপ্ঢেম্বর---তেলিয়ামুড়ায় পথসভায় সভাপতি ছিলেন জহরলাল সাহা৷ বিশিষ্ট বক্তারা হলেন গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল, কেশব মজুমদার ও সুবল দেব৷

১২শে সেপ্ঢেম্বর---কল্যাণপুরের পথসভায় সভাপতিত্ব করেন নিখিল দাস৷ সেখানে কেশব মজুমদার, উত্তম দাস, গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল ও গৌতম দেব এন আর সি-র বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমস্ত বাঙালীদের একজোট হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান৷

পুঁজিপতি তোষণ ও গরীব শোষণ

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

৩০শে অক্টোবর ঃ এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কোনওরকম গ্যারাণ্টি না রেখে দেদার ঋণ দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ এই সুযোগে কিছু পুঁজিপতি - ব্যবসায়ী বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ করার নাম না করে দেশের বাইরে পাড়ি দিয়েছেন৷ এর ফলে বর্তমান ব্যাঙ্কের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বলা বাহুল্য এইভাবে বিনা গ্যারাণ্টিতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সুপারিশ কাজ করেছিল তা সহজেই অনুমেয়৷

পুঁজিপতি গ্যারাণ্টি ছাড়া কোটি কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে, অথচ গরীব চাষীদের বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দানের ক্ষেত্রে কিন্তু গ্যারাণ্টি চাই-ই চাই৷ এইভাবেই চলছে পুঁজিপতি তোষণ গরীব শোষণ৷

নারীর মর্যাদা প্রসঙ্গে গার্লস্ প্রাউটিষ্টের আলোচনাসভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আগামী ৪ঠা নভেম্বর বিকেল ৪টে থেকে রাসবিহারী এভিনিউ ট্র্যাঙ্গুলার পার্কের শরৎ স্মৃতিসদনে গার্লস্ প্রাউটিষ্টের পক্ষ থেকে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে৷ আলোচনার বিষয় ঃ নারীর মর্যাদা৷ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন নেতাজী ভাবনা মঞ্চের প্রেসিডেণ্ট তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা ডঃ পূরবী রায়৷ প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন ডাঃ ঊমা চট্টোপাধ্যায়৷ বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন রাইকমল দাশগুপ্ত ও তিন্নি দত্ত৷

মেদিনীপুর কলেজ-কলেজিয়েট মাঠের প্রকৃত উন্নয়ন হোক

সংবাদদাতা
অরুণ দেব
সময়

মেদিনীপুর শহরের মধ্য স্থলে অবস্থিত কলেজ কলেজিয়েট মাঠ৷ স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথেও এই মাঠের নাম জড়িয়ে আছে৷ কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্রদের খেলাধূলার জন্যেই এই মাঠ৷ শহরের অন্যতম বিশাল এই মাঠ বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনের পরিচালনাধীন বলে জানা যায়৷ আগে মেদিনীপুরের ফুটবল লীগের খেলাও এখানে হত৷ বর্তমানে খেলাধূলার চর্চা দিন দিন কমছে৷ মাঠের একধারে ক্রিকেট কোচিং হয়৷ কিছু ছোটখাটো ক্লাব ফুটবল অনুশীলন করে৷ অনেকে সকাল সন্ধ্যায় হাঁটাহাটি করে ও খালি হাতে ব্যায়াম করে৷ কিন্তু সারাবছর অনুশীলন করা যায় না৷ কারণ সরকারী মেলা ও বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের সভার জন্যে এই মাঠ ব্যবহার করা হয়৷ মাঠের চারধারে সুদৃশ্য আলো লাগিয়ে ও পাঁচিলের ধার বরাবর বসার জন্য বেঞ্চ তৈরী করে রাজ্য সরকার মাঠের উন্নয়ন করা হয়েছে বোঝাতে চেয়েছেন হয়তো, কিন্তু চারধারে যেভাবে পার্থেনিয়াম সহ নানা ধরণের আগাছা জন্মেছে তাতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে নজরদারির অভাব আছে৷ এছাড়া বৃষ্টির সময় জল বের হবার জন্য যে নালা তৈরী হয়েছিল তা দিয়ে জল বের হয় কতটা জানিনা তবে সেটা নানারকম আবর্জনায় ভরে গিয়ে মশার জন্ম দিচ্ছে৷ নালাটিকে পরিস্কার করা হয় বলে দেখে মনে হয় না৷ এখন আবার মাঠের ভেতরের দিক বরাবর দু-তিনটে গুমটিও বসে গেছে৷ জানি না কলেজ রোডের মত এই মাঠটিও নানারকম দোকানে ভর্তি হয়ে যাবে কিনা৷ খেলার মাঠের উন্নয়ন বলতে প্রশাসন কি বোঝে বলতে পারব না, তবে পার্থেনিয়ামের মত বিষাক্ত সহ অন্যান্য সমস্ত আগাছা সাফ করে, গুমটি সরিয়ে উঁচু নীচু মাটির সর্বত্র সমান প্রকৃত অর্থে খেলোয়াড়দের ব্যবহারের উপযোগী করে দিতে হবে৷ ছোট থেকে বড়ো খেলোয়াড়রা যদি মাঠটিতে নিয়মিত খেলার সুযোগ পায় ও যারা শরীরচর্চা করেন তারা যদি সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন তবেই বুঝব মাঠটির উন্নয়ন হয়েছে৷ অন্যথায় সুদৃশ্য আলো রাতের বেলায় মাঠের সৌন্দর্য কিছুটা বাড়বে কিন্তু নতুন নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে না৷

সিবিআই অফিসারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

নির্বাচনী প্রচারের জন্যে বিজেপিকে পুলিশের তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন সিবিআই-এর স্পেশাল ডাইরেক্টর রাকেশ আস্থানা৷ গত ২৮শে অক্টোবর এই অভিযোগ এনেছেন গুজরাট পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর৷ অভিযোগ, ওই সময় রাকেশ আস্থানা সুরাটের পুলিশ কমিশনার ছিলেন৷ তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷ বলা বাহুল্য বিজেপি থেকে ওই টাকা আর ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি৷

আন্দামানে বাঙালীদের সুরক্ষার দাবীতে কলকাতার আন্দামান ভবনে ‘আমরা বাঙালী’র স্মারকপত্র পেশ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বাঙালী বিরোধী জনগোষ্ঠীর দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাসকারী বাঙালীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চলছে৷ ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা করা হয়েছে ও সম্প্রীতি ও সংহতি নষ্টকারী এরকম ঘটনাবলীর তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ই অক্টোবর কলকাতার আন্দামান ভবনের সংযোগ রক্ষাকারীর মাধ্যমে এই দ্বীপপুঞ্জের মাননীয় প্রশাসকের উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র পেশ করা হয়৷ এই স্মারকপত্রে আন্দামানে বাঙালী নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ করে তাঁর কাছে আন্দামানের বাঙালীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবী জানানো হয়৷ স্মারকলিপি পেশের সময় ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংঘটনের কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায়, যুগ্ম সচিব হিতাংশু ব্যানার্জী, স্বাগতা ব্যানার্জী, শুভদীপ পাল, সুশীল জানা, অরূপ মজুমদার, মিণ্টু বিশ্বাস, শ্যামসুন্দর দেব প্রমুখ৷

(‘আমরা বাঙালী’র প্রদত্ত স্মারকলিপি ৫ পাতায়)

আন্দামানে বাঙালীদের সুরক্ষার দাবীতে কলকাতার আন্দামান ভবনে ‘আমরা বাঙালী’র প্রদত্ত স্মারকপত্র

শ্রদ্ধেয় মহাশয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কিছুদিন ধরে বাঙালী বিরোধী জনগোষ্ঠী দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বাঙালীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন ও অমর্যাদার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে৷ আমরা ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা করছি এবং সম্প্রীতি ও সংহতি নষ্টকারী এরকম ঘটনাবলীর তীব্র প্রতিবাদ করছি৷

এই সব দুঃখজনক ঘটনার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ও অনুরোধ জানাচ্ছি যে আপনি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আন্দামানের বাঙালীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবেন৷

তারিখ ঃ ভবদীয়---

১২ই অক্টোবর, ২০১৮    বকুল চন্দ্র রায়

               (আমরা বাঙালী কেন্দ্রীয় সচিব), কলিকাতা

এন. আর. সি.-র নামে বাঙালী বিতাড়নের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামছে ‘আমরা বাঙালী’ অসম রাজ্য কমিটি

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

শিলচর, ৯ অক্টোবর ঃ এন আর সি-র নামে বাঙালী বিতাড়নের প্রতিবাদে জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমরা বাঙালী৷ সংঘটনের অসম রাজ্য কমিটির সচিব শ্রী সাধন পুরকায়স্থ একথা জানান৷ ৯ই অক্টোবর শিলচরে রাজ্য কমিটির একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ আমরা বাঙালী কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা শাখার সচিব শ্রীমতী অনিতা চন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন৷ এছাড়া অসম রাজ্য কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন৷ শ্রী পুরকায়স্থ অভিযোগ করেন এন আর সি-র নামে নিত্য নতুন ফতোয়া জারী করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে৷ এন আর সি কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ৷ অনেক প্রকৃত ভারতীয়ের পক্ষে নথিপত্র যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না৷ তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা অটল বিহারী সরকারের আমলের তৈরী এক আইনকে হাতিয়ার করে সারা দেশে চার কোটিরও বেশী বাঙালীকে বিদেশী বানাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে৷

এন.আর.সির তালিকা থেকে নাম বাদ ও ডি-ভোটারের নোটিশের জেরে অসমে ২০ জন বাঙালীর আত্মহত্যা

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

অসমে একদিকে এন.আর.সির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, তারপর আবার ডি-ভোটার (ডাউটফুল-ভোটার)-এর নোটিশ, ওদিকে আলফার হুমকি--- এই ত্রিফলা আঘাতে মানসিক চাপে পড়ে আত্মহত্যা করল অসমের ও দলাবাড়ি জেলার হরিশিঙা থানার অন্তর্গত ঘাগ্রা উলুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দায় দীপক দেবনাথ (৪৯)৷ তাঁর ১৯৭১ সালের লিগ্যাল ডেটা রয়েছে৷ সেই অনুসারে এন.আর.সির প্রথম তালিকায় তাঁর নামও উঠেছিল৷ কিন্তু দ্বিতীয় তালিকায় আবার তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়৷ তিনি তখন এন.আর.সি কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন৷ আবার নূতন করে আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয়৷ এরপরে বর্ডার পুলিশ তাঁর নামে আবার ডি-ভোটারের নোটিশ পাঠিয়ে দেয়৷ ‘ডি-ভোটার’ মানে ডাউটফুল ভোটার অর্থাৎ সন্দেহজনক ভোটার৷ এই অবস্থায় দিশাহারা হয়ে পড়েন দীপকবাবু৷ এই মানসিক চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি গত ২৮শে অক্টোবর গলায় দড়ি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন৷

 কয়েকদিন আগে গত ২১শে অক্টোবর ১৯৫১ সালের অসমের বাসিন্দা হিসেবে নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এন.আর.সি তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ও তারপর এন.আর.সি কেন্দ্র থেকে তাঁকে ‘বিদেশী’ ঘোষণা করায় অসমের দলগাঁওয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও আইনজীবী নীরদ বরণ দাস আত্মহত্যার পথ বেছে নেন৷ নীরদবরণ বাবু তাঁর নাগরিকত্ত্বের সমস্ত বৈধ নথিপত্র নিয়ে এন.আর.সি অফিসে থেকে শুরু করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ দিনের পর দিন এইভাবে সরকারী অফিস ও আদালতে ঘোরাঘুরি করেও কোনো কাজ না হওয়ার মানসিক চাপে তিনিও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন৷

গত ৯ই সেপ্ঢেম্বর একই কারণে আত্মহত্যা করেন বাকসা জেলার বিনয় চন্দ৷ এরপর ওদলাবাড়ি জেলার গোপালচন্দ্র দাস, টাংলের বিমলচন্দ্র ঘোষ, একই কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন৷

গত ২৮শে অক্টোবর দীপক দেবনাথ আত্মহত্যা করার পর এলাকার বাঙালীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে দীপক দেবনাথের মৃতদেহ নিয়ে প্রকাশ্য রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন৷ জনতার মধ্যে থেকে শ্লোগান ওঠে, ‘এন.আর.সির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা মুর্দাবাদ’, ‘মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ মুর্দাবাদ’, ‘স্বরাষ্ট্র বিভাগ হায় হায়’, ‘বাঙালীর ওপর অত্যাচার বন্ধ কর’,’ বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি করা অসম সরকার হুঁশিয়ার’ ইত্যাদি৷

জোরদার অভিযোগ উঠেছে অসমে এন.আর.সির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রতীক হাজেলা বেছে বেছে বাঙালীদেরই নানান্ ছলে বিদেশী সাজাচ্ছেন৷ এর ফলে বাঙালীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ সম্প্রতি এ পর্যন্ত অন্ততঃ ২০ জন বাঙালী এই কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে সংবাদে প্রকাশ৷

নেহেরু-মাউণ্ট ব্যাটেনের কুকীর্ত্তি: আজাদ হিন্দ সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২১শে অক্টোবর আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বর্ষপূর্ত্তি উপলক্ষ্যে কলকাতার প্রেস ক্লাবে অল ইণ্ডিয়ার লিগ্যাল এইড ফোরামের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে৷ দাবী করা হয়েছে নেতাজী প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ সরকারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি আত্মস্যাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু৷

অল ইণ্ডিয়া লিগ্যাল এইড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় প্রেস ক্লাবে বলেন, ১৯৪৬ সালে আজাদ হিন্দ সরকারের ৭২ কোটি টাকার সম্পত্তি, সোনা, গহনা প্রভৃতি নেহেরু ও মাউণ্ট ব্যাটেন মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছে৷ শ্রীমুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবী করেন, আজাদ হিন্দ সরকারের এই সম্পত্তি কী হ’ল---সে ব্যাপারে বিচার-বিভাগীয় তদন্ত হোক৷ তিনি বলেন এই সম্পদ সুইস ব্যাঙ্কে রাখা হয়েছে কি না তাও তদন্ত করে দেখা হোক৷

এই সংঘটনের পক্ষ থেকে দাবী---১৯৪৩ সালে ২১শে অক্টোবর নেতাজী আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করলে পৃথিবীর ৬টি রাষ্ট্র এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়৷ এই সরকারের হাতে জাপান সরকার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরিত করেছিল৷ তার মধ্যে ছিল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ৷

শ্রীজয়দীপবাবু কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবী করেন ২১শে অক্টোবরকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা দিবস, আজাদ হিন্দ সরকারকে ভারতের প্রথম স্বাধীন সরকার ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক৷