সংবাদ দর্পণ

এন আর সি-র বিরুদ্ধে সমস্ত বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আগরতলা, ২০শে অক্টোবর ঃ আমরা বাঙালীর তরফ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংঘটনের ত্রিপুরা রাজ্যসচিব শ্রীহরিগোপাল দেবনাথ অসমে এন আর সি নাম দিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ বাঙালীকে বিদেশী ঘোষণা করার চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেন৷ তিনি ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আজ বাঙালী জাতির অস্তিত্ব বড়ই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ এক শ্রেণীর স্বার্থান্ধ ও কুচক্রান্তকারী বাঙালী বিদ্বেষী রাজনৈতিক অশুভ শক্তিসমূহের ভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অমানবিক দৌরাত্ম্যের কারণে অতীতের সেই মুঘল যুগ ও ব্রিটিশ শাসনের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলোর কথা আজও আমাদের ভুলতে দিচ্ছে না৷ বর্তমানে স্বাধীনোত্তর ভারতে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী আর বাঙালী বিদ্বেষী বিচ্ছিন্নতাবাদী কায়েমী স্বার্থান্ধ অশুভ শক্তির কবল থেকে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করাটাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমাদের সহ্যের সীমাও ছাড়িয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে৷ তাই আর মুখ বুজে কিংবা নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে ঝিমোবার অবসর নেই৷ মনে রাখতে হবে আমাদের নিশ্চেষ্টতাই আমাদের জাতীয় জীবনের এক চরম সর্বনাশ ডেকে আনবে৷ সুতরাং আসুন, সকলে মিলে যত রকমের অন্যায় অত্যাচার জুলুম আর উপেক্ষার বিরুদ্ধে আমরা জেগে উঠি৷ দিক্বিদিক আলোড়িত করে আমরা সিংহবিক্রমে এগিয়ে যাই ও যাবতীয় বাঙালী বিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জন তুলি---এন আর সি কিংবা ভিত্তি সালের অজুহাতে কোনো বাঙালীকেই বিদেশী বলা চলবে না৷

মূলতঃ ত্রিপুরার মাটি আর অসমের মাটিও সাবেক বাঙলারই মাটি৷ আর ভারতের বুকে কোনও বাঙালীই বিদেশী হতে পারেন না৷ শুধু বিভেদকামী ও কায়েমী স্বার্থ লোলুপ গোষ্ঠীসমূহের বদ্ খেয়াল ও অযৌক্তিক চক্রান্ত সার্থক করে তুলতেই বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করে বাঙালীকে হেনস্থা করা হচ্ছে৷ আপনারা সবাই জানেন, ইতোপূর্বে অসমে এন আর সি-ণ অজুহাতে প্রায় দেড়কোটি বাঙালীকে ডি-ভোটার বানিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে ও বাঙালী-র মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে’’

ত্রিপুরায়ও রাজ্যভাগের চক্রান্তকে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে তাই এসব ঘৃণ্য চক্রান্তকে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাই৷ ‘আমরা বাঙালী’র আহুত আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে আমাদের কয়েকটি দাবী---

(১) এন আর সি কিংবা ভিত্তি সাল দেখিয়ে একজন বাঙালীকেও ‘বিদেশী’ চিহ্ণিত করা চলবে না৷

(২) ভারতে বসবাসরত একজন বাঙালীকেও উৎখাত করা চলবে না৷

(৩) বাঙালী জাতি স্বার্থবিরোধী এন আর সি আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে৷

(৪) বাঙালীর নাগরিকত্বের ব্যাপারে কোনও ভিত্তিসাল রাখা চলবে না৷

(৫) ত্রিপুরা রাজ্য ভাগ করা চলবে না৷ বরং ত্রিপুরাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ং সম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলতেই হবে৷

(৬) ত্রিপুরায় বিভেদকামী শক্তিকে বাড়তে দেওয়া চলবে না ও পাহাড়বাসী বাঙালী ও সমতলবাসী বাঙালীর মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতির বাতাবরণ গড়ে তুলতেই হবে৷

(৭) ত্রিপুরার মূল সমস্যা যেহেতু অর্থনৈতিক, তাই রাজনৈতিক ভাগাভাগি দুষ্টচক্রের ঘৃণ্য খেলা বলে নস্যাৎ করতে হবে৷

(৮) অসমে কোন বাঙালীকেই আর ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা চলবে না৷

ডিমাপুরে অখণ্ড কীর্ত্তন ও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ডিমাপুর (নাগাল্যাণ্ড) ঃ গত ২১ শে অক্টোবর শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর স্থূল পাঞ্চভৌতিক শরীরের মহাপ্রয়াণের স্মরণে এখানকার সমস্ত আনন্দমার্গীরা মিলিত হয়ে অখণ্ড কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনায় অংশগ্রহণ করেন৷ এরপর প্রতি সপ্তাহের মত দরিদ্র-পরিবারদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়৷

মার্গীয় মতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বীরভূম জেলার নানুর ব্লকের রুইপুর গ্রামের প্রবীণ আনন্দমার্গী শ্রী নিতাই ঘোষ গত ১লা অক্টোবর ২০১৮ তারিখে পরলোক গমন করেন৷ তার মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৭২ বছর৷ ১৯৭০ সালে মার্গের আদর্শে দীক্ষিত হন৷ তিনি একজন সরল ও ধার্মিক মানুষ ছিলেন৷ গত ১২ই অক্টোবর ২০১৮ তার নিজস্ব বাসভবনে সকাল ১০টা প্রভাত সঙ্গীত, মিলিত কীর্ত্তন ও সাধনার পরে তার অমর আত্মার শান্তির উদ্দেশে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়৷

উক্ত শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন বীরভূম জেলার আমড়াপালন মাষ্টার ইউনিটের রেকটর আচার্য মিতাক্ষরানন্দ অবধূত৷ সর্বশেষে আচার্য মিতাক্ষরানন্দ অবধূত শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন৷

কলকাতায় আনন্দমার্গীয় সমাজশাস্ত্রানুসারে গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৫ই অক্টোবর কলকাতার কালিকাপুর এলাকায় বিশিষ্ট আনন্দমার্গী শ্রী বিশ্বজিৎ ভৌমিক ও শ্রীমতী অর্পিতা ভৌমিকের নূতন গৃহে গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান আনন্দমার্গীয় বিধিতে সুসম্পন্ন হয়৷ প্রাতে আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত , আচার্য পরাবিদ্যানন্দ অবধূত প্রমুখের উপস্থিতিতে গৃহকর্ত্রী, তৎপশ্চাতে পরিবারের অন্যান্যরা ও অভ্যাগতেরা গুরুমন্ত্র-স্মরণ করে’ কীর্ত্তন করতে করতে গৃহে প্রবেশ করেন ও আচার্যকে অনুসরণ করে সবাই বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে’ যথাবিধি গৃহপ্রবেশের মন্ত্রপাঠ করেন৷

পরে ৯টা থেকে ৩ঘন্টাব্যাপী অখন্ড ‘বাবা নাম কীর্ত্তন’ অনুষ্ঠিত হয়৷ এই কীর্ত্তনানুষ্ঠানে আনন্দমার্গের বহু অবধূত ও অবধূতিকা অংশগ্রহণ করেন৷

অখণ্ড কীর্ত্তনান্তে মিলিত সাধনার পর আচার্য বিকাশানন্দ অবধূত কীর্ত্তনের ওপর বক্তব্য রাখেন৷ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গৃহ যেন গৃহবাসীদের কাছে ও প্রতিবেশীদের কাছে মধুময় হয় ও এই এলাকায় মানুষকে আধ্যাত্মিক পথের দিশা দেখাতে পারে৷

ভয়াবহতম ট্রেন দুর্ঘটনা ঃ হত ৬২, আহত শতাধিক

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

ইদানিং কালের বোধ হয় সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা অমৃতসরের ট্রেন দুর্ঘটনা৷ অমৃতসরে জোড়াফটক এলাকায় ১৯শে অক্টোবর দশেরা উৎসবের দিন ট্রেন লাইনের পাশেই রাবণপোড়া অনুষ্ঠান হচ্ছিল৷ হাজার হাজার মানুষ এই রাবণপোড়া দেখছে৷ প্রচণ্ড বোমার ফাটার শব্দ৷ তারপর অনেকেই তাদের মোবাইলের সেলফিতে এই ছবি তুলতে ব্যস্ত৷ এমন সময় দ্রুত গতিবেগে রেল লাইনের ওপর দিয়ে ছুটে আসে জলন্ধর-অমৃতসর ডি.এম.ইয়ূ গাড়ী৷ আবার এর পাশের লাইন দিয়ে চলে আসে অমৃতসর হাওড়া এক্সপ্রেসও৷ মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের তলায় চাপা পড়েন শতাধিক মানুষ এদের মধ্যে ৬২ জনের মৃত্যু ও আহত বহু৷

রেললাইনের পাশেই এতবড় এক উৎসব চলছে তাও নাকি স্থানীয় প্রশাসন বা রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াও৷

ড্রাইভাররা এখানে এই উৎসবের কথা জানতেনই না বলে অভিযোগ৷ আর এত দ্রুত ট্রেন চলছিল যে ট্রেনটি যখন সামনে এসে যায় তখন ড্রাইভারের পক্ষ থেকে ব্রেক কষা হলে গোটা ট্রেনটি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাই তারা ব্রেক কষতে পারেনি৷ এই পরিস্থিতিতে যতই চাপান-উতোর চলুক, কিন্তু এটা যে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷

ডগ্মার প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কেরালার শবরীমালায় অবস্থিত ‘আয়াপ্পা’র মন্দিরে ৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়না৷ সুপ্রিমকোর্টে এই সম্পর্কিত মামলায় বিচারপতিরা সবার অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার রায় ঘোষণা করলেও জনসাধারণের মনে মনে জমে থাকা ডগ্মা তথা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের জন্যে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকরী হতে পারল না৷

এ মাসে সুপ্রিমকোর্টের মহিলাদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার রায় দানের পর গত ১৭ই অক্টোবর মন্দিরের দরজা খোলে৷ প্রতি মাসেই ৫ দিনের জন্যে মন্দিরের দরজা খোলা থাকে৷ কিন্তু স্থানীয় প্রায় হাজারের ওপর আয়াপ্পা ভক্ত মন্দিরের বিগ্রহ দর্শনেচ্ছু মহিলাদের জোর করে ফিরিয়ে দিল৷ তাদের কিছুতেই মন্দিরে প্রবেশ করতে দিল না৷ তাদের যুক্তি এই বয়সে মহিলারা ঋতুমতী হওয়ার জন্যে তারা মন্দিরে প্রবেশ করলে মন্দির নাকি অপবিত্র হয়ে যাবে৷ সুপ্রিমকোর্টের রায় কার্যকর করতে মন্দিরের বিগ্রহ দর্শনেচ্ছু মহিলাদের নিরাপত্তার জন্যে পুলিশ নামেমাত্র মোতায়েন ছিল৷ কিন্তু আয়াপ্পা ভক্তদের বাধা ঠেলে পুলিশও মহিলাদের বিগ্রহ দর্শনের ইচ্ছাপূরণ করতে ব্যর্থ হল৷ বরং পুলিশ তাদের ফিরে যাবারই পরামর্শ দেয়৷

সায়েন্স সিটিতে ‘রাওয়া’ অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

মহান দার্শনিক ঋষি শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার কর্তৃক রচিত ও সুরারোপিত প্রভাত সঙ্গীতের ৩৬ বর্ষপূর্ত্তি উপলক্ষ্যে আগামী ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যায় কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷

আনন্দমার্গের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য সর্বেশ্বরানন্দ অবধূত সভাপতিত্ব করবেন৷ ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, বাণিজ্য ও আইন বিভাগের প্রাক্তন ডিন ডঃ রঘুনাথ ঘোষ৷

অনুষ্ঠানে প্রথিতযশা শিল্পীরা প্রভাত সঙ্গীত ও প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্য পরিবেশন করবেন৷

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন, প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী তানিয়া দাম, সৌরভ দাস, কেরালার বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সাধিকা দেবী, অবধূতিকা

আনন্দ অভীষা আচার্যা প্রমুখ৷ নৃত্য পরিবেশন করবেন ভুবনেশ্বরের ‘রাওয়া’ শিল্পীগোষ্ঠী, শান্তিনিকেতনের ‘সবুজকলি’ নৃত্যগোষ্ঠী, কঙ্কনা ভট্টাচায ও তাঁর সম্প্রদায় প্রমুখ৷

এছাড়াও রয়েছে নাটক ও অন্যান্য আকর্ষণীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷

অভাব-অনটনে ৪ ভাই-বোনের আত্মহত্যা

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

চারিদিকে এত প্রাচুর্য, বিলাস-ব্যসন, এত উৎসব৷ অথচ এরই মাঝখানে মূলতঃ অভাব-অনটনের কারণে আত্মহত্যা করল ৪ ভাই-বোন৷ ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ড এলাকায়৷ এখানে গত ২১শে অক্টোবর একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটের মধ্যে চার জনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷

সুরজকুণ্ড থানার ইনস্পেক্টর বিশাল কুমার জানান, কয়েকদিন ধরে ওই বাড়ীটি বন্ধ ছিল৷ এদিন বাড়ীর ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বেরুতে থাকলে স্থানীয় জনসাধারণ পুলিশে খবর দেয়৷ পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে চার জনকে মৃত অবস্থায় ঝুলতে দেখে৷ এই চার জনের নাম মীনা ম্যাথু (৫২), নীনা (৫১), জয়া (৪৯) ও প্রদীপ (৩৭)৷ এদের পাশে একটি সুইসাইড্ নোট ছিল৷ গত ১৮ই অক্টোবরে লেখা ওই নোটে বলা হয়েছে, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর খুব অভাব-অনটনের মধ্যে সংসার চলছিল৷ একে বাবা-মার মৃত্যু, তারপর অসহনীয় অভাব-অনটন তাই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন৷

সিবিআই-এর স্পেশাল ডাইরেক্টরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনল সিবিআই-ই

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

রক্ষকই ভক্ষক৷ বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত করার জন্যে সর্বোচ্চ তদন্ত সংস্থা সিবি-আই৷ এখন সেই সিবিআইয়ের স্পেশাল ডাইরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠল৷ এই উচ্চপদস্থ সিবিআই অফিসার মাংস রফতানিকারক মইন কুরেশির বিরুদ্ধে কালো টাকা সংক্রান্ত এক গুরুতর অভি- যোগের তদন্ত বন্ধ করার জন্যে মোটা অংকের ঘুস নিয়েছেন বলে অভিযোগ৷

এই মর্মে ওই সিবিআই অফিসারের বিরুদ্ধেই ইতোমধ্যেই এফ.আইয়ার দায়ের করা হয়েছে৷ সিবিআই-এর পক্ষ থেকেই৷ আস্থানার সঙ্গে আরও এক সিবি আই অফিসার দেবেন্দরের বিরুদ্ধেও এফ আই আর করা হয়েছে৷

এই রাকেশ আস্থানা আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদী আস্থা -ভাজন অফিসার বলে পরিচিত৷ এখন সিবি-আই-এর স্পেশাল ডাইরেক্টরের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগে সারা দেশ স্তম্ভিত৷

তবে কেউ কেউ বলছেন, এটা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনবেসটিগেশনের ডাইরেক্টর আলোক বার্র্মর সঙ্গে স্পেশাল ডাইরেক্টর রাকেশ আস্থানার মধ্যেকার ক্ষমতা দখলের লড়াই৷

সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ, প্রধানমন্ত্রী মোদী পরিস্থিতি সামাল দিতে সিবিআইয়ের ডাইরেক্টর আলোক বার্মা ও স্পেশাল ডাইরেক্টর রাকেশ আস্থানা উভয়কেই ছুটিতে পাঠিয়ে দিলেন ও আলোক বার্মার জায়গায় সিবিআইয়ের অন্তবর্তীকালীন ডাইরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হ’ল অন্যতম জয়েণ্ট ডাইরেক্টর এম. নাগেশ্বর রাওকে৷

শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী পার্থিব দেহের মহাপ্রয়াণ স্মরণে ছয় দিন ব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

২৫ অক্টোবর ঃ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী স্থূল পাঞ্চভৌতিক দেহের মহাপ্রয়াণের ২৮ বর্ষপূর্ত্তি উপলক্ষ্যে গত ২১ অক্টোবর থেকে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ছয় দিন ব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তনে দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার আনন্দমার্গী সমবেত হয়েছেন৷ মার্গগুরুদেবের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে, সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আনন্দমার্গীরা এই অখণ্ড কীর্ত্তনে যোগদান করেছেন৷ ‘বাবানাম কেবলম্’ মহামন্ত্রের মধুর ধবনিতে প্রতিদিনই আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠছে ও এক অভিনব ভক্তিভাবমণ্ডিত স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে৷ নানান ভাষাভাষী হাজার হাজার মানুষ এক আনন্দ পরিবারের সদস্য হিসেবে এক সঙ্গে মিলেমিশে ভজন-কীর্ত্তন করছেন, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, গল্প-গুজব করছেন, মার্গগুরুদেবের মহান আদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্যে একসঙ্গে বসে প্ল্যান-প্রোগ্রাম করছেন৷ মার্গগুরুদেবের যে মহান বাণী ‘মানব সমাজ এক ও অবিভাজ্য’ তার অবিকল বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে এখানে৷

২১শে অক্টোবর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মার্গগুরুদেবের স্মৃতিসৌধে প্রারম্ভিক অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন, সাধনা ও গুরুপূজার পর ৩টে ৩০ মিনিটে ছ’ দিন ব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তনের শুভারম্ভ হয়৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনন্দমার্গের পুরোধা প্রমুখ সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত কর্মকর্তারা ও দেশ-বিদেশ থেকে আগত আনন্দমার্গীরা যোগদান করেন৷

এরপর প্রতিদিন সময়সূচী অনুসারে কখনও সংঘের সন্ন্যাসী ‘দাদা’রা, কখনও সন্ন্যাসিনী ‘দিদি’রা, কখনও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার আনন্দমার্গীরা, কখনও বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত আনন্দমার্গীরা, কখনও বা বহির্ভারতের মার্গীরা পর্যায়ক্রমে অখণ্ড কীর্ত্তনে অংশগ্রহণ করছেন, পাশাপাশি সংঘের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচী নিয়েও আলোচনা হচ্ছে৷ এছাড়া প্রতিদিন ভোরে পাঞ্চজন্য (প্রাতঃকালীন বিশেষ কীর্ত্তন), মিলিত সাধনা, ধর্মচক্র ও নগরকীর্ত্তনও হচ্ছে৷

প্রতিদিন রাতে ‘মার্গগুরুদেবের প্রবচনের ও আশীর্বচনের রেকর্ড শোণানো হচ্ছে৷ শেষের কয়েকদিন মার্গগুরুদেবের ধর্মমহাচক্রের প্রবচনের ভিডিও দেখানোরও কর্মসূচী রয়েছে৷

এখানে আনন্দমার্গ পাবলিকেশন, প্রাউট পাবলিকেশন সহ সংঘের বিভিন্ন বিভাগের স্টলও খোলা হয়েছে৷ এইগুলিতে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী রচিত আধ্যাত্মিক বিষয়ক, প্রাউট বিষয়ক ও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ক পুস্তক, ইত্যাদি বিক্রয় হয়েছে।