Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রতিরোধের ইতিহাসে এক জাতিসত্তার নির্মাণ

সুকুমার সরকার

বাঙালীর ইতিহাস কি শুধু পরাজয়, পরাধীনতা ও বিভাজনের ইতিহাস? নাকি তার অন্তঃসলিলায় প্রবাহিত হয়েছে এমন এক প্রতিবাদী চেতনা, যা বারবার অন্যায়, আধিপত্য ও আরোপিত পরিচয়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ণ তুলেছে?

‘বিদ্রোহী বাঙালী’ কথাটি শুনলেই আমাদের মনে প্রথমে ভেসে ওঠে প্রফুল্ল চাকী, ক্ষুদিরাম, বাঘা যতীন, মাস্টারদা সূর্য সেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বিপ্লবীদের মুখ৷ কিন্তু বাঙালীর বিদ্রোহের ইতিহাস তার চেয়ে অনেক পুরোনো৷ সেই ইতিহাসের শুরু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নয় এমনকি আধুনিক ‘বাঙালী জাতি’র জন্মেরও আগে৷ গঙ্গারিডি, বঙ্গ, পুণ্ড্র, রাঢ়, সমতট, গৌড় এই নানা প্রাচীন জনপদ ও জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিকাশের মধ্য দিয়েই পরবর্তীকালের বাঙালী সমাজের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে৷

সেই প্রাচীন জনপদগুলির রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য, সামাজিক বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই বাঙালি জাতিসত্তার দূরবর্তী বিদ্রোহের পূর্বসূত্রগুলি খুঁজে পাওয়া যায়৷ 

বাঙলা ও বাঙালীর বিদ্রোহী সত্তার ইতিহাস তার বঞ্চনার মধ্যে৷ ভূ-প্রকৃতিগত ভাবে বদ্বীপ বঙ্গ প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবন ধারনের জন্য অনুকূল ছিল৷ পৃথিবীর অন্য জনগোষ্ঠীর মতো জীবন-জীবিকার জন্য বাঙালী জাতিকে ছুটে বেড়াতে হয়নি৷ বরং এই সহজ জীবন জীবিকার লোভে পৃথিবীর অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বাঙলায় এসেছেন৷ কিন্তু এলেই তো আর বাঙালীরা তাঁদেরকে ডালা দিয়ে বরণ করে নেননি৷ লড়াই-সংগ্রাম একটা হতো৷ সেই সংগ্রামই বাঙালী জাতিকে চির বিদ্রোহী করে তুলেছে৷ 

সুদূর অতীতে রাঢ়বঙ্গের মানুষ আর্যদের প্রতিহত করেছে নিজেদের পোষা নেকড়ে বা কুকুর লেলিয়ে দিয়ে৷ সেসব ইতিহাস পূর্বের ধারাবাহিকে কিছু কিছু লিখেছি৷ ধারাবাহিকটি কিছুদিন বন্ধ ছিল৷ আবার শুরু করতে যাচ্ছি৷ এবার একটু ভিন্নভাবে লিখবো৷ 

প্রশ্ণ আসতে পারে, বাঙালী জাতি সহজ-জীবন-জীবিকা পাওয়া সত্ত্বেও বিদ্রোহী হলো কেন? আসলে বাঙালী জাতির বিদ্রোহের পিছনে আছে দীর্ঘ এক বঞ্চনার ইতিহাস! সহজ সরল জীবিকা পাওয়ার জন্য বাঙালী জাতির মন চির সহজ সরল এবং আবেগপ্রবণ৷ এই সহজ সরলতা এবং আবেগপ্রবণতা-ই বাঙালী জাতির দুর্বলতা৷ বাঙলার ভূমি ব-দ্বীপ ভূমি হওয়ার কারণে ভূমিগত পুষ্টতা এর যেমন আছে, তেমনি আছে এই ভূমির মানুষের মেধা ও মগজ৷ এই মেধা-মগজের দেশ হওয়ার কারণে এই দেশের প্রাচীন একটি নামও হয়েছিল ‘করী-মেধা’৷ ‘করী’ মানে ‘হাতী’৷ একসময় প্রচুর হাতী এই বঙ্গদেশে ছিল৷ আর ছিল মেধাসম্পন্ন মানুষ৷ যে মানুষেরা মেধার চরম বিকাশে বহির্মুখী জীবনের বিপরীতে অন্তর্মুখী জীবন বেছে নিয়েছিলেন৷ এই অন্তর্মুখী জীবন তাঁদেরকে আরও উন্নত করেছে৷ এই অন্তর্মুখী জীবন বাঙালী জাতিকে তন্ত্রসভ্যতা দান করেছে৷ তন্ত্রসভ্যতার চরম বিকাশে বাঙালী জাতির জেল্লা আরও ছড়িয়ে গেছে৷ যার আকর্ষণে একদিন বিশ্ববাসীর সর্বশেষ ঠিকানা হয়ে উঠেছিল বৃহত্তর বঙ্গদেশ বা বাঙালীস্তান৷ 

তন্ত্রবিজ্ঞানেও সংগ্রাম আছে৷ সেই সংগ্রাম অন্তর্মুখী৷ নিজের রিপুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জয়ী হতে হয়৷ আর এই অভ্যাস করতে করতে বাঙালী জাতি চিরবিদ্রোহী হয়ে উঠেছে৷ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেই সে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে৷ পরবর্তীকালে শাসক-শোষকদের ভয় ছিল সেখানেই এবং আজও৷ চিরকালের শাসক-শোষকেরা সেই ভয় থেকেই বাঙালী জাতির দুর্বলতাকে আঘাত যেমন করেছে, তেমনি বাঙালী জাতিকে বিভিন্ন ভাবে ছিন্ন-বিছিন্ন করার চেষ্টা করে চলেছে৷ আজ বিদ্রোহের ইতিহাস বা ইতিকথা লিখতে গিয়ে এই বিষয়টিকেই বেশি করে মাথায় রাখতে হচ্ছে৷ অমিত তেজ, সম্পদ ও সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও কেন বাঙালী জাতি আজ হীনবল দুর্বল? এই দুর্বলতা বেরিয়ে আসতে ইতিহাসের উজ্জ্বল আলোর রেখা ফেলতে হবে বাঙালীর আজকের ধুলা-মলিন পথে৷ এই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিক প্রয়াস এই বিদ্রোহী বাঙালী৷ 

আমরা শুরুতেই দেখবো, বাঙালীর মেধার বিদ্রোহ৷ আর্য-অনার্য সংঘর্ষ-মিলন তত্ত্বে আমরা দেখেছি, প্রথম দিকে অনার্য বাঙালীরা বিভিন্ন ভাবে আর্যদের প্রতিহত করেছে৷ বাঙালী জাতির প্রামান্য দলিল-ইতিহাসে দেখছি মেধার বিদ্রোহ৷ সেই দলিলের নাম ‘চর্যাপদ’ বা ‘চর্যাচর্য বিনিশ্চয়’৷ এখান থেকে বাঙলার আদিম জনগোষ্ঠীর ‘বাঙালী’ হয়ে ওঠার ইতিহাস শুরু হচ্ছে৷ ‘আজি ভূসুকু বাঙালী ভৈল’৷ আর এই বাঙালী হয়ে ওঠার শুরুটাও একটি বিদ্রোহাত্মক পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং মানসিকতার মধ্য দিয়ে হয়েছে যেখানে বাঙলার সমাজ-রাজনীতিতে আর্য জাত্যাভিমান অন্তজ অনার্য বাঙালীকে অস্পৃশ্য করে রেখেছিলো৷ চর্যাপদও সেই অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ৷ বিদ্রোহী বাঙালীর সেই প্রতিবাদী শক্তি, বিদ্রোহী শক্তি কিছু কম ছিল না৷ বরং এই বিদ্রোহে বাঙালীর বিভিন্ন দিকের বিদ্রোহী চরিত্র ফুটে উঠেছে৷ প্রথমত সংস্কৃতের হাত ধরে প্রাকৃতের গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ বাংলা ভাষায় কাব্য-কবিতা লেখার প্রয়াস৷ ভাষা -সাহিত্যের ইতিহাসে যাকে বিদ্রোহীই বলা যায়৷ দ্বিতীয়ত, সংকেত ভাষায় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের খোলস থেকেও বেরিয়ে আসার বলিষ্ঠ ঘোষণা৷ তৃতীয়ত সাহিত্যে অন্তজ-অস্পৃশ্য মানুষদের আগমন৷ এসবই বিদ্রোহাত্মক মানসিকতার ফসল৷ এমন বিদ্রোহী জাতির গৌরব ম্লান হতে পারে না৷ আজ সাময়িক যে গ্লানি বাঙালীর চির বিদ্রোহী জাতিসত্তাকে ম্লান করেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের চির বিদ্রোহী সত্তার ইতিহাস ঐতিহ্যকেই হাতিয়ার করতে হবে৷ শুরুটা আমরা তাই আমাদের লিখিত ইতিহাসের দলিল দিয়ে করলাম৷ আগামী পর্বে আলোচনা করবো চর্যাপদের বিদ্রোহী বাঙালীদের কথা নিয়ে৷ (ক্রমশ)

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved