ফালা ঃ লম্বালম্বিভাবে একবার করে কাটা (ফালা ফালা করে কাটা)৷ একবার লম্বার দিকে, একবার চওড়ার দিকে চার টুকরো করে কাটলে তাকে ৰলা হয় ডুমো ডুমো করে কাটা৷ ছোট্ট কিন্তু লম্বা লম্বা করে কাটলে তাকে বলা হয় ‘জিরে জিরে করে কাটা’৷ লম্বায় ও চওড়ায় দুয়েতেই ছোট ছোট করে কাটলে তাকে ৰলা হয় থুড়ে থুড়ে কাটা (Chopping)৷ যে খাদ্যবস্তুটি তৈরীর করার সময় থুড়ে থুড়ে কাটতে হয় তাকেও তাই ‘চপ’ ৰলা হয়৷ কাটা বস্তু যদি গোল গোল চেহারা পায় তাকে ৰলি চাকা চাকা করে কাটা৷
ফাঁপা ঃ অন্তঃসারশূন্য (দেশজ)৷ ইংরেজীতে Hollow৷ Hollow land ইত্যর্থে Holland |
ফাঁস ঃ গ্রন্থ বা গেরো৷ শব্দটি উত্তর ভারতীয়৷
ফাঁসি ঃ গ্রন্থি বা গেরো বেঁধে হত্যা করা৷ শব্দটি উত্তর ভারতীয়৷
ফ্যাঁসা ঃ অর্দবিষাক্ত মাছবিশেষ৷ ভালভাবে রান্না না করলে বিষক্রিয়া হয়৷
ফিক্র ঃ ভুল করে উচ্চারণ করা হয় ‘ফিকির’৷ আসল মানে ‘চিন্তাগ্রস্ততা’’৷ ৰাংলায় ভুলভাবে মতলব বা অভিসন্ধি অর্থে ব্যবহৃত হয়৷
ফিট ঃ অজ্ঞান অবস্থা (ইংরেজীতে senselessness)৷ (মহিলার ফিটের ব্যারাম আছে)৷ দেশজ শব্দ৷
ফিটফাট ঃ ইংরেজী ‘ফিট’(fit) থেকে আসছে৷ যার মানে উপযুক্ত ভাবে থাকা যা যোগ্যতা অর্জন করা৷ পূর্ব ভারতের অনেকগুলো ভাষাতেই ‘ফিটফাট’শব্দটি চলে৷ যে মানুষটি আসলে অপরিচ্ছন্ন কিন্তু ওপর ওপর সেজেগুজে থাকে তার জন্যে মগহী ভাষায় ৰলা হয় ঃ ‘‘উপরমে ফিটফাট নীচে মোকামাঘাট’’৷ ফিতা ঃ বাঁধবার সুমার্জিত দীর্ঘ বস্ত্রখণ্ড বিশেষ ফিসফিস ঃ অস্ফুটভাবে কথা ৰলা ৷
ফুচকা ঃ কিছুটা কড়া পাকের ক্ষুদ্র নুচির আকারের খাদ্য বস্তু যার ভেতরে মসলার জল থাকে৷ শব্দটা মুখ্যতঃ মগহী৷ পর্যায়বাচক শব্দ ‘গুপচুক’, ‘গোলগপ্পা’৷ খাঁটি বাংলা শব্দ ‘জলকচুরি’৷
ফুচকে/ফুঁচকে/পুচকে/পুঁচকে ঃ খুব ছোট (দেশজ)৷ ‘‘খোকন একটি ফুচকে ছেলে, অথচ সে-ই ক্লাসের ফার্ষ ৰয়’’৷
ফুটি ঃ এটি একটি খরবুজা জাতীয় ফল৷ ‘খরৰুজা’ থেকে বাংলায় ‘খরমুজ’’ শব্দটি এসেছে৷ এই খরমুজের তিন চারটে প্রকারভেদ রয়েছে৷
(১) ছোট আকারের শাদা রঙের গোলাপের গন্ধযুক্ত সুমিষ্ট খরমুজ যা লক্ষ্নৌ-এর নিকটবর্তী গোমতী নদীর তীরে জন্মে থাকে৷ ওই ৰীজ অন্যত্র লাগালে তা সাধারণ খরমুজের মতই হয়ে থাকে, অর্থাৎ গন্ধ ও মিষ্টত্ব দুইই চলে যায়৷ এই খরমুজকে অনেকে ‘সফেদা’ ৰলে থাকে৷ সম্ভবতঃ এর রঙ শাদা (সফেদ) ৰলেই ঐ ধরণের নাম হয়েছে৷ এই সফেদা কাঁচা অবস্থায় সব্জী রূপে ব্যবহৃত হয় না, কেবল পাকা অবস্থাতেই ফলরূপে ব্যবহৃত হয় ৷
(২) সাধারণ খরমুজএরা সফেদা জাতীয় খরমুজের চেয়ে আকারে অনেক বড়৷ রঙ হলদে৷ সুগন্ধ নেই ৰললেই চলে৷ অল্প শর্করা সহযোগে খেতে হয়৷ ঈষৎ বালুকা মিশ্রিত দোঁয়াশ মাটিতে অথবা ৰেলে মাটিতে এদের চাষ হয়৷ ৰীজ বুনতে হয় মাঘ থেকে চৈত্রের মধ্যে৷ এক থেকে দেড় মাস বয়েস হলে ফল দিতে শুরু করে ও বর্ষা না আসা পর্যন্ত ফল দিতে থাকে৷ এই খরমুজও কাঁচা অবস্থায় তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না৷
ফুলকো ঃ নুচি ভাজলে নুচির ভেতরে হাওয়া ঢোকে৷ তখন নুচি ফুলে ওপরের দিকে ঠেলে ওঠে৷ যে অংশটি ঠেলে ওপরের দিকে ওঠে সেটিকে বলা হয় নুচির ফুলকো৷ সেটি তুলনামূলক বিচারে পাতলা৷ যে অংশটি ফুলে ওপরের দিকে ওঠেনা সে অংশটি তুলনামূলক বিচারে মোটা৷ তাকে ৰলে নুচির ‘গা’৷ এই ধরণের ‘গা’ও ‘ফুলকো’ আমরা ফোলা রুটিতেও পেয়ে থাকি৷ যে নুচিতে ফুলকো আছে তা ফুলকো লুচি৷ এর আগেই ৰলে দিয়েছি, লুচি ও নুচি দুটো শব্দই সমভাবে শুদ্ধ৷
ফুঁ ঃ মুখ দিয়ে জ্ঞাতসারে বায়ু নিঃসারণ করা৷
ফুঁক : বায়ুর সাহায্যে কোন কার্য সম্পন্ন করা
ফেন/ফেনা ঃ বায়ুমিশ্রিত তরল বস্তু৷ ফেনানো মানে বস্তুবিশেষের ভেতর বায়ু প্রবেশ করানো৷
ফোলা ঃ সংস্কৃত ‘স্ফা’৷ ধাতু থেকে উদ্ভুত তদ্ভব শব্দ যার মানে স্ফীত হওয়া৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)