(১৫) কোন বস্তুর ওপর আলোকপাত হলেই সেই বস্তুর সংস্থিতি ও তার কাটছাঁটের ওপরে নির্ভর করে তার জ্যোতিঃ বিকিরণ৷ যেমন একটু বড় আকারের হীরকখণ্ড থেকেও ভালভাবে জ্যোতিঃ ৰের হৰে না যদি হীরকখণ্ডটিকে ঠিকভাবে কাটা না হয়৷ মণিমাণিক্য ও অন্যান্য অনেক বস্তু থেকেই যখন (যে কোন কারণেই হোক) দ্যুতি বিচ্ছুরিত হয় তখন সেই দ্যুতিকেও (reflected light) ‘যা’ ৰলা হয়৷ এটিও ‘যা’ ধাতু + ড প্রত্যয় করে আসছে৷
(১৬) ‘যম ধাতুর অর্থ নিয়ন্ত্রণ করা৷ যে সব কিছুকে নিজের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে তার জন্যে ‘য + ‘ক্তিন করে ‘যতি’ শব্দ ব্যবহৃত হয়৷ ‘যতি’ মানে সন্ন্যাসী এতদর্থে ‘য + ‘ড’ করে যে ‘য’ শব্দ পাচ্ছি তার মানেও তাই ‘সন্ন্যাসী’৷
(১৭) ‘যম্’ ধাতুর বিশেষার্থে নশ্বর বস্তু ত্যাগ করাকেও বোঝায়৷ তাই ‘যম্’ ধাতু + ‘ড’ করে যে ‘য’ শব্দ পাচ্ছি তার আর একটি মানে হচ্ছে ‘ত্যাগ করা’ বা যার মধ্যে ত্যাগের মনোভাব জেগেছে৷
(১৮) ‘যম ধাত + ‘ক্তিণ্ প্রত্যয় করে যে ‘যতি’ শব্দ তার একটি অর্থ হ’ল প্রযোজনমত বিরতি অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত গতিতে কাজ করা৷ কথা বলবার সময় বা এ লেখবার সময় আমরা যে প্রয়োজন মত থামি---কখনও ৰেশি, কখনও কম---থামাটা যার দ্বারা সূচিত হয় তাকে ৰলি যতিচিহ্ণ ও প্রক্রিয়াটাকে ৰলি যতি-প্রকরণ Punctuation)৷ তাই এই অর্থে ‘যম ধাতু + ‘ড’ করে যে ‘য’শব্দ পাচ্ছি তাও ব্যবহৃত হয়ে থাকে৷
(১৯) ‘যা’ ধাতুর অর্থ হ’ল চলা বিশেষ অর্থে দ্বিত্ব করে আমরা পাই ‘যা যা’ ও তদুত্তরে ‘বরচ্’ প্রত্যয় করে পাই ‘যাযাবর’ শব্দ৷ তাই ‘যাযাবর’ শব্দের অর্থ হ’ল যে নিয়মিত ভাবে এক স্থান থেকে আর এক স্থানে চলে যায়৷ এরা কোন স্থানেই দীর্ঘকাল থাকে না---জিপ্সী ৰেদুইন....... ৰেদিয়া...... ৰেদে৷ এই যাযাবর বা ৰেদেৱ জন্যে ‘যা’ ধাতু +‘ড’ প্রত্যয়= ‘য’ শব্দটি ব্যবহৃত হযে থাকে৷
(২০) ‘যত ধাতুর অর্থ হ’ল চেষ্টা করা, সেবা করা৷ এই ‘যত ধাতু থেকে যে ‘য’ শব্দটি পাই তার একটি অর্থ হ’’ল পাংশু.....শাদা রঙের ছাই (কাল রঙের ছাইকে ৰলি ভষ্ম৷ পাংশুকে কথ্য ৰাংলায় ‘পাঁশ’ ৰলা হয়৷ ৰাঙলার একটি স্থানের নাম ‘পাঁশকুঁড়া’৷ কেউ কেউ ‘পাঁশকুড়া’ও ৰলে থাকেন)৷
ওপরে যে সকল ক্ষেত্রে ‘য’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় ৰলেছি সেগুলির প্রত্যেকটি পুংলিঙ্গবাচক৷ ‘য’ শব্দ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ৰলে গণ্য হয়ে থাকে৷
(২১) ‘যা’ ধাতুর অর্থ হ’ল চলা/নড়া/শান্তিপূর্ণভাবে সঙ্গে থাকা৷ ‘যা’ ধাতু + তৃচ প্রত্যয় করে ‘যাতৃ’ শব্দ (প্রথমার একবচনে ‘যাতা’) পাচ্ছি, ৰাংলায় তার তদ্ভব রূপ ‘য
া’৷ ‘যা’ মানে দেৰৱ বা ভাশুরের স্ত্রী৷ কেউ কেউ ‘যা’ শব্দটি ‘জ’ দিয়ে লিখে থাকেন৷ সেটি বাঞ্ছনীয় নয়৷ যাই হোক, এই ‘যা’ ধাতু + ‘ড’ করে যে ‘য’ শব্দ পাই তার একটি অর্থ দেবর বা ভাশুরের পত্নী৷
(২২) ‘যা’ ধাতু+ ‘অনট প্রত্যয় করে যে ‘যান’ শব্দ পাই তার মানে গাড়ী৷ গাড়ী চলার সময় পথে একটি ছোট গর্ত অর্থাৎ‘গর্ভক’ হয়ে থাকে যাকে ‘লিক’ ও ৰলা যায়৷ ‘গর্তক সম্বধীয়’ এই অর্থে ‘গার্তক’/গার্তকী৷ গার্তকী> গাঈ> গাড্ডঈ> গাড্ডী> গাড়ী৷ এই ‘যা’ ধাতু+ ‘অনট প্রত্যয় করে যে ‘যান’ শব্দ পাচ্ছি তার একটি নাম গাড়ী৷ আর এই অর্থে ‘যা’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘য’ শব্দ পাই তার মানেও ‘গাড়ী’৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)