গণ : ‘গণ’ ধাতুর অর্থ হ’ল ‘গোণা’ to count)৷ ‘গণ’+ ‘অচ প্রত্যয় করে ‘গণ’ শব্দ আসছে৷ ভাবারূঢ়ার্থে ‘গণ’ হচ্ছে বহুবচনের রূপ৷ শব্দের শেষে ‘গণ’ সংযুক্ত থাকলে শব্দটি বহুবচন হয়ে যায়৷ কিন্তু তা গণ্য হয় একবচন রূপে ও রূপও থাকে একবচনের৷ যেমন ‘নর’ শব্দের বহুবচন হচ্ছে ‘নরাঃ’, মানে মানুষেরা৷
তার বদলে যদি ৰলি বা লিখি ‘নরগণঃ’, এর অর্থও হৰে মানুষেরা৷ তবে শব্দটি একচন ও তার শব্দরূপ ও ক্রিয়ারূপ একচনের মত হবে৷ ‘নরাঃ গচ্ছন্তি’ কিন্তু ‘নরগণঃ গচ্ছতি’৷ এই ব্যবস্থা ৰহুবচনকারী ‘বৃন্দ’, ‘সমূহ’, ‘সকল’, ‘পুঞ্জ’ প্রভৃতি শব্দগুলি সম্বন্ধেও সমভাবে প্রযোজ্য৷ যোগারূঢ়ার্থে ‘গণ’ হচ্ছে ‘শিবভক্ত৷ যেহেতু কৈলাস পর্বতকে শিবনিবাস বলে ধরা হয়ে এসেছে সেহেতু কৈলাস পর্বতের অপর একটি নাম ‘গণগিরি’৷ শিবের স্ত্রোত্রেও ৰলা হয়েছে
‘‘প্রভুমীশমনীশমশেষ্৷
গুণহীনমহেশগণাভ৷’’
গণ+ অনট করে গণন......গণনা৷ গণ+ ণক= গণক৷ ভাবারূঢ়ার্থে ‘গণক’ মানে ‘যে গোণে’ যোগরূঢ়ার্থে ‘জ্যোতিষী’৷ যদিও জন্মকালের রাশিলগ্ণের অবস্থিতি অনুযায়ী ব্যষ্টি ও রাষ্ট্রের ভাগ্য গণনা করাই প্রাচীনকালের প্রথা কিন্তু পরবর্তীকালে করকোষ্ঠী বাpalmistry (এই বিদ্যাটি ভারতের পুরাতন বিদ্যা নয়৷ শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণেরা বিদেশ থেকে এটি ভারতে এনেছিলেন৷ সমুদ্রের ওপার থেকে এদেশে এসেছিল, তাই এর সাম সামুদ্রিক বিদ্যা) শাস্ত্রের উদ্ভাবন ও প্রচলন হয়৷ নাম অনুযায়ী ও ব্যষ্টির সংস্কার সম্পর্কিত সংখ্যা অনুযায়ীও আরও পরবর্তীকালে ভাগ্য গণনার কাজ চলতে থাকে৷ স্ফটিক দর্শনcrystal-gazing, নখ দর্শনnail-gazing প্রভৃতি বিদ্যাগুলির প্রচলন হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে৷ গণনা বিদ্যায় বা গণকের আওতার মধ্যে এরা সবাই আসে৷ ৰলা ৰাহুল্য মাত্র, জ্যোতিষের এই বিভিন্ন ধারার গণনা নিরঙ্কুশ বা ত্রুটিমুক্ত নয়৷ অবশ্য কেউ কেউ ৰলতে পারেন যে যে-সকল তথ্যের ভিত্তিতে গণনা করা হয়ে থাকে সেই তথ্যে যদি ভুল থাকে বা গণনার অঙ্কে যদি ভুল থেকে যায় তাহলে ফলেতে তো ভুল থাকবেই৷ তাই এইজন্যে জ্যোতিষ শাস্ত্রের নিন্দা করা বৃথা৷ তাদের বক্তব্য একেবারে ফ্যালনা নয়৷ তবে কোন মানুষেরই জ্যোতিষের মুখাপেক্ষী হয়ে ৰসে থাকা উচিত নয়৷ পুরুষকারের সাহায্যেই মানুষকে এগিয়ে যেতে হৰে ও এটাই ৰলিষ্ঠ পদক্ষেপ৷
‘দৈবং নিহত্য কুরু পৌরুষমাত্মশক্ত্যা৷’
কোথাও জ্যোতিষীর গণনা যদি নিষ্ঠার সঙ্গেও করা হয়ে থাকে তাহলেও তা যে সবাইকার ক্ষেত্রে সমভাবে ফলে যাৰে এমন কথা হলফ করে বলা যায় না৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)