এস.আই.আর আতঙ্কে ইতিমধ্যে রাজ্যে বেশ কয়েকজন মানুষ মারা গেছে৷ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ভোটার তালিকায় সংশোধনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা এস.আই.আর ---স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন৷ কিন্তু দেশের ফ্যাসিবাদী বাঙালী বিদ্বেষী বিজেপি সরকার এস.আই. আরের মত সাধারণ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বাঙলা দখলের হাতিয়ার করেছে৷ ২০০২ সালের বিশেষ সংশোধন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশন মেনে নিয়েছেন কিন্তু সেই ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় দেশে এত শোরগোল হয়নি বা আতঙ্কে মানুষ মারা যায়নি৷ তাহলে আজ কেন এস.আই.আর নিয়ে এই আতঙ্কের পরিবেশ৷
কেন এত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে৷২০১৪ সালে সংবাদ মাধ্যমের তৈরী মোদি ক্যারিসমা দেশ থেকে উধাও৷ প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে মোদি দেশবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা যে ভাঁওতা আজ জনগণের চোখে ধরা পড়েছে৷ মোদির দেখানো আচ্ছাদিনের স্বপ্ণ আজ জনগণের কাছে দুঃস্বপ্ণে পরিণত হয়েছে৷ দুর্নীতি রোধ, সীমান্তের নিরাপত্তা, বছরে দুকোটি চাকরী সবকা সাথ সবকা বিকাশ প্রধান মন্ত্রীর দেওয়া কোন প্রতিশ্রুতিই পালিত হয়নি৷ কালো টাকা উদ্ধারের নামে মোদি নোটবন্দি করেছিলেন৷ কালো টাকা উদ্ধার তো হয়নি, লাইনে দাঁড়িয়ে শতাধিক লোক মারা গেছে৷ ছাপানো ২০০০টাকা নোট বাজার থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে ডাল নোটের রমরমার কারণে৷ সবকা সাথ সবকা বিকাশের চেহারা দেশবাসী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ বিকাশ যা হয়েছে তা শুধু প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ধন কুবেরের হয়েছে৷
তবুও হিন্দুত্বের আবেগে ভাসিয়ে গোবলয়ের দখল রাখতে পারলেও হাজার হাজার কোটি টাকা ঢেলেও বার বার বাঙলা দখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুঝে গেছেন হিন্দুত্বের আবেগ দিয়ে বাঙলা দখল সম্ভব নয়৷
তাই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক পদ্ধতিকে বাঙলা দখলের হাতিয়ার বানিয়েছে দেশের ফ্যাসিবাদী শাসক৷
নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দেশে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা চালু করতে চায় যা ফ্যাসিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য৷ মোদি সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণকে হিন্দুত্ব মার্কা জাতীয়বাদে মাতিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা৷ কিন্তু গো-বলয়ের কয়েকটি রাজ্য ছাড়া সেই লক্ষ্যে বিশেষ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি মোদি সরকার৷ বরং পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মত রাজ্যে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে৷
পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা, রাজনৈতিক স্বার্থে দিল্লির পূর্ববর্তী সরকার এই সমস্যার কোন সমাধান করেনি৷ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাঙলা দখলের চেষ্টা বার বার ব্যর্থ হওয়ায় নরেন্দ্র মোদি অনুপ্রবেশকে অজুহাত করে এস.আই.আর কে হাতিয়ার করে বাঙলা দখলের খেলায় নেমেছে৷ বেছে বেছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের আবেগ দিয়ে বাঙলা দখলের শেষ প্রচেষ্টা এস.আই.আর৷ সেই জন্যেই এইভাবে এস.আই.আর নিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী করা হয়েছে৷
আমরা বাঙালী দলের অভিযোগ এস.আই.আর বাঙালী বিতাড়ণের নীল নক্সা৷ দেশে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও পুঁজিবাদী শোষণ কায়েম রাখতে সব থেকে বড় বাধা বাঙালী জনগোষ্ঠী৷ তাই বাঙালীকে নির্মুল করার খেলায় মেতেছে মোদি সরকার৷ যা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিপদ ডেকে আনবে৷
- Log in to post comments