Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

গোরাচাঁদ ও একতারা

আশীষ দত্ত রায়

চৈত্র মাসের শেষ৷ রাতের শহর বড় রুক্ষ৷ রাস্তায় বাতাস তার গরম আর ধুলোর আস্তরণ৷ মাটিরও যেন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে৷ এই ‘বিসম্বাদ’ রাস্তার এক কোণে গোরাচাঁদ বাউল বসেছিল৷ লালন সাঁইয়ের ভাবের উত্তরাধিকারী বলেই তাকে চিনত তার গ্রামের লোক৷ এখানে, এই নগরে, সে এক অনাহূত৷

সম্বল বলতে একটি জীর্ণ একতারা, গর্ভ আর ঢাকনি তার বিবর্ণ৷ তার গায়ে কত ‘ পথের ধুলা আর মনের সুর’’ জমা৷ কাঁধে একটি রং-জ্বলা গামছা, যেন অকিঞ্চনতার উত্তরীয়৷ চোখে কোনো ভার ছিল না, ছিল এক নির্ভার শূন্যতা, এই বিশ্ব-সংসারকে সে ‘গুরুধামের লীলা’ হিসেবে দেখেছে৷ এই নগর-খাঁচায় এসেছিল কেবল ‘প্রাণের টানে’ এই নশ্বর দেহে শ্বাসটুকু ধরে রাখার জন্য৷ কিছু মাধুকরী আর ভাব বিলোনোর আশায়৷

এই ‘পাথরের জঙ্গল’ তো সহজ মানুষের ভিড় নয়৷ মেট্রো স্টেশনের গেটে অবিরাম মানুষ ঢুকছে আর বেরোচ্ছে৷ যেন এক ছায়াছবি৷ তাদের কেউকেউ গৌরহরিকে দেখছিল কেবল ‘কৌতূহলের চোখ’ দিয়ে, তারপর আবার নিজস্ব লক্ষ্যের দিকে ছুট৷ কারো বা হাতে কফির কাপ কিন্তু সুস্থে বসে খাওয়ার সময় নেই, বেশির ভাগের কানে ইয়ারফোন বিচ্ছিন্নতার যন্ত্র৷ গোরাচাঁদের কণ্ঠে তখন দেহতত্ত্বের নিগূঢ় সুরঃ ‘মানুষ ভজিলে সোনার মানুষ হবি রে৷’ এ সুরে ছিল অন্তরের আহ্বান, কিন্তু মানুষের কান ছিল বাইরের কোলাহলে মগ্ণ৷ আর গোরাচাঁদের সুরটা ছিল বাতাসে ক্ষীণ৷ বিভিন্ন গাড়ির সমবেত হর্নের ‘বধির করা চিৎকারে’ তা তলিয়ে যাচ্ছিল৷

পরের দিনের বিকেল৷ এক ‘উদাসীন আলো’ পার্কের গাছ গুলিতে, মাটিতে আর রেলিঙে এসে পড়ছে৷ এক টুকরো শুকনো পাউরুটি আর জল খেয়ে গোরাচাঁদ ‘শ্যাওলা-ধরা বেঞ্চে’ বসেছিল৷ পাশের গাছের ডালে পাখিরা ফিরছে যেন ‘আপন ডেরায় ফেরা মুক্ত জীবাত্মা’৷ গোরাচাঁদের মনে পড়ল তার গ্রাম৷ শরতে কাশবনের হাওয়া৷ গ্রীষ্মে নদীর ঘাটে ছেলেদের দাপাদাপি৷ বৎসর জুড়ে শিমুল-ছায়ায় বসে তার গান ছিল প্রকৃতিরই প্রতিধবনি৷ আর আজ, সেই ‘আবেগের সুর’ ও যেন শহরের বিষাক্ত ধোঁয়ায় মরচে ধরেছে৷

সেদিনের গভীর রাত৷ ফুটপাথের ধারে এক চায়ের দোকানে জ্বলছিল আগুন৷ গোরাচাঁদের দেখে লাগছিল ওটাই যেন ‘জীবনের শেষ আশ্রয়’৷ গোরাচাঁদ ‘নিঃশব্দ পায়ে’ দোকানে গিয়ে দাঁড়াল৷

দোকানদার জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা, কিছু খাবে?’

সে মাথা নাড়ল৷ উত্তর ছিল তার বৈরাগ্যের ভাষা ‘তুমি নিজের কাজ করো, আমি নেব শুধু তোমার লড়াইয়ের উষ্ণতাটুকু৷’

সেই রাতে সে আর কোনো স্বরলিপি ধরল না৷ একতারাকে কোলে নিল যেন ‘হারিয়ে যাওয়া সন্তান’৷ চোখ বুজল, খুঁজছিল ‘মনের মানুষ’কে৷ হয়তো খুঁজছিল সেই ‘খোলা আকাশ’, যেখানে তার গান ঘুঙুরের মতো বেজে উঠত৷

পরদিন সকালে, শহর ‘কর্ম-সাগরে’ জেগে ওঠার আগেই, গোরাচাঁদ ‘অজ্ঞাতের পথে’ পাড়ি জমাল৷ কেউ জানল না সে কোথায় মিশে গেল৷ সে ছিল রাঢ় মাটির দেশের মানুষ, সে কি আবার তার মা টির কাছেই ফিরে গেল? শুধু সেই মেট্রো স্টেশনের ধারে পড়ে রইল তার সঙ্গীহীন একতারা৷ তারটি ছিল ছিন্ন, যেন প্রতীকী জীবনের সম্পর্ক-ছেদ৷ বিজপট্ট খুলে বেরিয়ে গেছে, একতারার বাকি অংশগুলিতে তখনও লেগে ছিল তার ফকিরি জীবনের ধুলো আর না বলা যন্ত্রণার শুকনো অশ্রুর দাগ৷ লোকেরা সেদিনও ছুটছিল৷ এই ‘নশ্বরতা’ তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেল৷

শুধু গরম আর শুকনো বাতাসের গভীরে তখনও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল সেই চিরন্তন ভাব, এক ক্ষীণ আত্মার স্বর৷ আজও শহরের অলস মধ্যরাতে, যখন কিছু আলো নিভে যায়, তখন এক মায়াবী আলো নেবে আসে আকাশ থেকে, কোথা থেকে যেন শোনা যায় সেই ভাব, ভাষা, সুর ও ছন্দে মেশা অলিক জীবনের ডাক৷ সে এক ও অদ্বিতীয় চৈতন্যলোকের আহ্বান, যে ডাক মৃদু গলায় জানায় জীবন কেবলই দৌড়ানো নয়, জীবন হলো নিজেদের ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে নেওয়া৷ আর সেই খোঁজই হলো বাউলের পথ৷

 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
আরও

সম্পাদকীয়

বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই
স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক কর্মসংস্থান

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার
প্রথম দেখা
এবার মুখোশ খুলে বাঙালী বিদ্বেষের - স্বরূপ প্রকাশ করলো অসম সরকার
নিত্যদিনের সমস্যা, সমাধানও অসম্ভব নয়-- অথচ প্রশাসনের গা ছাড়া ভাব
আমার বাঙলা

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (197)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved