সম্পাদকীয়

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

নিত্য নোতুন কতই না  সরকারী নিয়ম-কানুন! আধার কার্ড, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে নানান্ বেড়া পার হতে হয়৷  তবে লোন, অনুদান মায় যে কোনো সরকারী পরিষেবা পাওয়া যাবে৷ গরীব মধ্যবিত্ত মানুষ- সবার  অতশত  জ্ঞানগম্যিও  নয়,  এই জটিলতা  বোঝবার  মত সময় নেই৷  অধিকাংশের সামর্থ্যও  নেই৷ তবু আইনের কড়াকড়ি৷ না হলে  যে সবাই  সরকারকে ফাঁকি  দেবে! দুর্নীতিতে ছেয়ে যাবে দেশ৷ তাই সদা  সতর্ক  প্রহরী , নোতুন নোতুন নিয়মের বজ্রবন্ধন৷

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

এ বছর মাধ্যমিক  পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ লক্ষাধিক  ছাত্র-ছাত্রা৷ নিঃসন্দেহে  এদের বৃহদংশ মাধ্যমিকের গন্ডী ছেড়ে, মাধ্যমিক পাশ করে  বেরিয়ে আসবে ৷  এদের একটা বড় অংশ উচ্চমাধ্যমিক বা অন্য কোনো  শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশ করবে৷ এমনিভাবে উচ্চমাধ্যমিকেও লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রা পাশ করে  বেরুবে৷ এমনি করে  কলেজ  বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে  লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রা পাশ করে বেরুবে৷ এইভাবে প্রতিবছরই  লক্ষ লক্ষ  ছাত্রছাত্রা কৈশোরের আনন্দময়  জীবনের  গন্ডী ছাড়িয়ে সংসারের রণক্ষেত্রে প্রবেশ করছে৷ দুরুহ জীবন সংগ্রামে তাদের  নামতে হচ্ছে৷ এদের  ভবিষ্যৎ কী? 

প্রসঙ্গৎঃ ত্রিপুরা নির্বাচন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থেকে সিপিএম অজস্র খুন-জখম করে৷ বিরোধীদের ওপর চরম অত্যাচার চালিয়ে চতুর্দিকে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভেবেছিল তাদের কোনওকালে কেউ ক্ষমতার আসন থেকে সরাতে পারবে না৷ কিন্তু নিয়তির বিধানে এক ঝটকায় তারা এখানে উৎখাত হয়ে গেল৷ এখানে এদের বহু অফিসে বাতি জ্বালানোরও কেউ নেই৷ ঠিক তেমনই ত্রিপুরাতেও ২৫ বছর ধরে সিপিএম বহু খুন-জখম, নারী নির্যাতন করেছে৷ উপজাতিদের তোষণ করে সংখ্যাগুরু বাঙালীদের জীবনকে দুর্বিষহ করেছে৷ ত্রিপুরায় সিপিএমের এই কুটনীতির জন্যে বাঙালীরা এখানে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হয়েছে৷ অহরহ অত্যাচারের শিকার হয়েছে৷ মদগর্বী সিপিএম নেতা কর্মীদের ধারণা ছিল এ রাজ্য

দধীচি দিবসের তাৎপর্য

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৯৬৭ সালের ৫ই মার্চের ঘটনা৷ ওই দিন আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের প্রধান কেন্দ্র আনন্দনগরের ওপর কম্যুনিষ্ট গুণ্ডারা আক্রমণ চালিয়ে ৫ জন সন্ন্যাসীকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল৷

ব্যাঙ্ক জালিয়াতি প্রসঙ্গে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

ব্যাঙ্কে জনসাধারণের জমা করা টাকা  পুঁজিপতিরা  ঋণ নেয়, ব্যবসা করে, কলকারখানা খোলে, সেই থেকে তারা কোটি কোটি টাকা মুনাফা লুন্ঠন করে৷  তারপর নানান অজুহাত দেখিয়ে ব্যাঙ্কের ঋণ আর তারা শোধ করে না৷ এর ফলে ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে  লাটে ওঠে৷  তাই দীর্ঘদিন থেকে জনসাধারণকে  দেয় তাদের  জমা টাকার ওপর সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দিয়ে আসছে৷  আর ওই টাকা লুঠ করছে  ধড়িবাজ পুঁজিপতিরা৷

২১শে ফেব্রুয়ারীর শপথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী বাঙলার ইতিহাসে–এখন আর শুধু বাঙলার ইতিহাসে নয় পৃথিবীর ইতিহাসেই এক স্মরণীয় দিন৷

কেন্দ্রীয় আয়-ব্যয়মাত্রিকা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেন্দ্রীয় সরকার ১৯১৮-১৯ এর জন্যে দেশের আয়-ব্যয় মাত্রিকা (বাজেট) পেশ করেছেন৷ এই বাজেটে গ্রাম ও কৃষি’র উন্নতির অনেক প্রতিশ্রুতি থাকলেও  বাস্তবে গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষ, দরিদ্র কর্ষকদের  জীবনের  মান যে বৃদ্ধি পাবে তার কোনও নিশ্চিততা নেই৷ এমনি লম্বা চওড়া প্রতিশ্রুতি প্রতিটি সরকারই  বাজেট প্রকাশের সময় করে থাকে৷ কিন্তু কার্যতঃ দেখা যায়, ধনীরা  আরও ধনী হচ্ছে, গরীবরা রাশি রাশি বঞ্চনার  শিকার হচ্ছে৷ বিশাল বিশাল  অঙ্কের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাদের বোঝানোর  প্রাণপণ চেষ্টা চলে যে দেশ এগিয়ে চলেছে, গরীব মানুষের  গরীবী দূর হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি৷ কিন্তু  প্রকৃতই যারা গরীব মানুষ, তারা দেখছে তাদের  নুন আনতে পা

বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমস্ত অন্যায়ের  বিরুদ্ধে লড়তে হবে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

ভারতের স্বাধীনতা  সংগ্রামে  সবচেয়ে  বেশী রক্ত ঢেলেছে বাঙালীরা৷  ক্ষুদিরাম-প্রফুল্লচাকী থেকে  শুরু করে , বাঘা-যতীন-মাষ্টার সূর্যসেন  সহ শত শত বাঙালী বীর ব্রিটিশ  পুলিশের গুলিতে  প্রাণ দিয়েছেন, ফাঁসীকাঠে ঝুলেছেন, চরম আত্মত্যাগ করেছেন৷ অথচ স্বাধীন  ভারতে  সেই বাঙালীরাই  নাকি বিদেশী, তাদের এদেশে স্থান নেই! যারা স্বাধীনতার জন্যে কোনো সংগ্রামই করেনি, তারাই নাকি এদেশের  সাচ্চা বৈধ নাগরিক!

সামাজিক-অর্থনৈতিক  ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বর্তমানে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়৷ সামাজিক ক্ষেত্রে প্রায় প্রতিদিনই নারী-নির্র্যতন শ্লীলতাহানি, বৃদ্ধ পিতা মাতার প্রতি তাদের পুত্রদের  অমানবিক আচরণ, এসব থেকে শুরু করে নানান্ অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ  চলছে, যা আজকের সভ্য সমাজকে  লজ্জা দেয়৷ বিজ্ঞান প্রযুক্তির নব নব  আবিষ্কারের---যেমন কম্প্যুটর, মোবাইল  ইন্টারনেটের  এমন ধরণের  অপব্যবহার  চলছে  যে সমাজের শান্তি রক্ষকদের  চোখের ঘুম ছুটে গেছে৷

বেকার সমস্যা ও পুঁজিপতি-লগ্ণী

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর  ধরে বামফ্রন্টের শাসন চলছিল৷ বলা চলে সেটা এক দুঃস্বপ্ণের মত৷ তখন বামফ্রন্টের হার্র্মদরা বিরোধীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে যেত৷ খুন, জখম, অগ্ণিসংযোগ --- সব অস্ত্রই তারা প্রয়োগ করত যাঁরা তাঁদের সঙ্গে একমত নন--- তাঁদের  ওপর৷ সেই চরম সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে বিরাট পরিবর্তন এনেছেন৷  অবশ্য এ রাজ্যে বামফ্রন্টের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে  তৈরী হওয়া ব্যাপক ক্ষোভকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন৷ যাই হোক, মমতার এ কাজ প্রশংসনীয় সন্দেহ নেই৷ মমতার মধ্যে অদম্য কর্মনিষ্ঠা, সেবার মনোভাব তাঁকে রাজ্যজুড়ে প্রচণ্ড জনপ্রিয়তাও এনে দিয়েছে৷ কিন্তু  এটা সত্য কথা, তা