সম্পাদকীয়

আন্তর্র্জতিক  নববর্ষে নোতুন পথের দিশা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কালের প্রবাহ  বয়ে চলেছে  অনাদি  কাল থেকে  অনন্তকাল৷ আর সেই  কালপ্রবাহের একটা খন্ড অংশে আমাদের  জীবন৷ এও বয়ে যায় কাল প্রবাহের ছন্দে৷ একটা  জাতি, দেশ বা সমগ্র  মানবজাতির  ইতিহাসও এই একই ভাবেই  বয়ে চলে কালের  প্রবাহের সঙ্গে৷ এই ইতিহাসকেও  গড়ে  তুলি  আমরাই--- সামূহিকভাবে৷

কালপ্রবাহ  অখন্ড হলেও  চলার পথে আমরা এই কালপ্রবাহকে খণ্ড খণ্ড করে বৎসর,মাস, দিন ইত্যাদিতে বিভক্ত করেছি৷ কারণ সব গতিই উহ-আবোহাত্মক, অগতি-অগতির বা সংকোচ বিকাশাত্মক  তরঙ্গায়িত  পথ বেয়ে  এগিয়ে চলে৷  তাই দিনের চলার পর  রাতের বিশ্রাম, আবার নোতুন উদ্যম নিয়ে পথ চলা৷

অশনি সংকেত ও মুক্তির পথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

অর্থনীতিবিদের মতে বিশেষ করে ১৯৮০ সালে ভারতে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হবার পর এদেশে আর্থিক বৈষম্য প্রচুর বেড়েছে৷ ভারতে জাতীয় আয়ের ৫৬ শতাংশই উচ্চবিত্তদের হাতে, যারা হচ্ছে দেশের নাগরিকের মাত্র ১০ শতাংশ অর্থাৎ জাতীয় আয়ের অবশিষ্ট ৪৪ শতাংশের ভাগীদার দেশের বাকী ৯০ শতাংশ জনগণ৷ তাহলে ভাবুন দেশের কী উন্নয়ন হচ্ছে?

এরই নাম কি গণতন্ত্র?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আমার এক পরিচিত বয়স্ক মানুষ তাঁর আধার কার্ডের  সঙ্গে তাঁর মোবাইলকে  সংযুক্ত করার জন্যে ভোডাফোনের মোবাইল অফিসে যান৷

ওই সজ্জন বয়স্ক মানুষটি শারীরিকভাবে খুবই  দুর্বল৷ তার ওপর বয়সের  জন্যে তাঁর হাতও  সবসময় কাঁপতে থাকে৷ তাই মোবাইল অফিসের অফিসার  অনেক চেষ্টা করলেও তাঁর  মেসিনে ওই ভদ্রলোকের আঙ্গুলের ছাপই ধরতে  পারলেন না৷ বললেন,  শীতটা কাটুক, তারপর দেখা যাবে৷ বয়স্ক মানুষ, হাত কাঁপাটাই স্বাভাবিক৷ তারজন্যে যদি  তাঁর হাতের আঙ্গুলের  প্রিন্ট  মেসিন  না নিতে পারে, তার জন্যে তো তিনি  দায়ী নন৷ তাহলে কি তিনি আধার কার্ডের অভাবে সরকারী বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকবেন?

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষের কর্মস্থান এরাজ্যেই করতে হবে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বাঁকুড়ার  হেমন্ত  রায় কেরলে কাজ করতে গিয়েছিল৷ সম্প্রতি সেখানে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ এই মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন-পুলিশ তদন্ত  করছে৷ সপ্তাহ খানিক আগে মালদা জেলার আর এক যুবক কাজ করতে রাজস্থানে গিয়েছিল ৷ ওখানে এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ এই কারণে তাঁকে  নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবাঙলা থেকে ভিন রাজ্যে যাঁরা কাজের জন্যে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, ‘এ রাজ্যে কাজের অভাব নেই৷ তাঁরা জেলা শাসকের  কাছে  নাম লেখান৷  তাহলে তাদের ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে৷  এই টাকায় আর  কিছু না হোক চায়ের দোকান  তো

বিদ্যা-লয় আতঙ্ক

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি কলকাতার তথাকথিত অভিজাত স্কুল নামে পরিচিত জি.ডি.বিড়লা স্কুলে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর ওপর যৌন নির্র্যতন ঘটার পর একদিকে যেমন শিশুটির-স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে ভয়ঙ্কর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তেমনি সারা দেশে ছেলেমেয়েদের পিতা-মাতা বা অভিভাবকরা ও তাদের ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষা ও  নিরাপত্তার ব্যাপারে শঙ্কিত৷

সম্প্রতি আবার অন্য এক স্কুল এম. পি. বিড়লা স্কুলেও সাড়ে তিন বছরের মেয়ের ওপর স্কুলের দুই শিক্ষাকর্মীর অনুরূপ যৌন নির্যাতনের খবর সামনে এসেছে৷ এই ঘটনাটি  সেপ্ঢেম্বরে ঘটেছিল৷ থানায় যথারীতি ডায়রী করা হয়েছিল৷ অভিযুক্তদের ছবিও মেয়েটি চিহ্ণিত করেছে৷ কিন্তু তাদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি৷

দূষণ-দানব

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সাম্প্রতিক খবর, রাজধানী দিল্লি এখন দূষণ-দানবের কবলে৷ বাতাসে ধূলিকণা, ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাসের আধিক্য এতবেশি যে জনস্বাস্থ্যের বিপদ ডেকে আনছে৷ সরকার সুকল বন্ধ রেখেছেন৷ কারণ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পক্ষে বাইরের এই ধূলা-ধোঁয়া মিশ্রিত হাওয়া নানান্ ব্যাধির কারণ হচ্ছে৷ সকালে প্রাতঃ ভ্রমণ বন্ধ হয়ে গেছে বয়স্কদের৷ ধোঁয়াশার (অর্র্থৎ ধোঁয়া ও ধূলার মিশ্রণ) আস্তরণে এমনভাবে আবহাওয়া দূষিত হয়ে গেছে যে  সকাল-সন্ধ্যায় শ্বাসের সঙ্গে প্রচন্ড বিষ প্রবেশ করছে ফুসফুসে৷

স্থায়ী বেকার সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ---সমবায়

সত্যশিবানন্দ অবধূত

গত ৪ঠা নভেম্বর নয়াদিল্লীতে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ফুড ইণ্ডিয়া’ উৎসবে পশ্চিম বাঙলার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী আব্দুল রজ্জাক মোল্লা যোগ দেন৷ তিনি এক আলোচনাচক্রে দেশী-বিদেশী পুঁজিপতিদের এ রাজ্যে তাঁদের পুঁজি বিনিয়োগের জন্যে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা পশ্চিমবঙ্গে পুঁজি বিনিয়োগ করলে একশ’ শতাংশ লাভের মুখ দেখতে পারবেন৷ পশ্চিম বাঙলা একপ্রকার সোণার খনি, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, আপনারা এখানে সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা পাবেন ইত্যাদি৷ তিনি জানান, পশ্চিম বাঙলার মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছেন৷ একই সুরে পশ্চিম বাঙলার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, কৃষি সচিব সঞ্জীব চোপরাও পুঁজিপতিদের আবে

দিশাহীন সমাজ ও নোতুন দিশা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ২৭ শে অক্টোবর সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে  আয়োজিত রাওয়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার  কেন্দ্রীয়  বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের বিভাগীয়  প্রধান ডঃ আদিত্য মহান্তি  তাঁর ভাষণে  একটা গুরুত্বপূর্ণ  কথা বললেন৷ তিনি বললেন, আজকের  সমাজের  সবচেয়ে  বড় সমস্যা মানুষ আজ দিশা  হারিয়েছে৷ মানুষ  ভুলে গেছে  তার লক্ষ্য  কী?

সমাজ ও আধ্যাত্মিকতা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

আজকের সমাজের  বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যাঁরা  নিজেদের প্রগতিশীল  বলে জাহির করেন, তাঁরা আদর্শ সমাজ সংরচনায় আধ্যাত্মিকতার যে একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, তা সাধারণতঃ স্বীকার করতে চান না৷ তাঁরা আধ্যাত্মিকতাকে মনে করেন একটা অন্ধবিশ্বাস  বা কুসংস্কার৷ আসলে ‘আধ্যাত্মিকতা’  সম্পর্কে তাঁদের ধারণাটাই পুরোপুরি ত্রুটিপূর্ণ৷

জ্বলন্ত মশাল

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

চতুর্দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ তিনি এলেন৷ আমাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন এক –একটা প্রজ্বলন্ত মশাল৷ তারপর কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ চলে গেলেন৷ আমরা বিমূূ হয়ে তাকিয়ে রইলুম৷........