Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধেও

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের ‘জাতীয়তাবাদ ও মানবতাবাদ’ সম্পর্কীয় চিন্তাধারাসহ বহু চিন্তা ধারা বিজেপির চালিকা শক্তি আর.এস. এস-এর সঙ্গে যুক্ত এক প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষা-সংসৃকতি উত্থান ন্যাস’-এর পছন্দ নয়৷ তাই পাঠ্যপুস্তক থেকে রবীন্দ্রনাথের  ‘জাতীয়তাবাদ’ প্রবন্ধ সহ তাঁর বিখ্যাত কিছু কবিতাকেও বাদ দেওয়ার জন্যে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে এই সংস্থা৷ রবীন্দ্রনাথের রচিত ‘নৈবেদ্য’র বিখ্যাত ‘প্রার্থনা’ কবিতা ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ কবিতাটিকে ও ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতাটিকে পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়ারও সুপারিশ করেছে ওই সংস্থা৷

কী স্পর্র্ধ ! নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, ‘মহান মানবতাবাদী ‘বিশ্বকবি’ রূপে সর্বজন স্বীকৃত রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা ভুল! কেন ভুল?

রবীন্দ্রনাথ মানবতাকে উগ্র জাতীয়তাবাদের ঊধের্ব স্থান দিয়েছেন৷ এটা নাকি রবীন্দ্রনাথের মস্ত বড় ভুল! রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা ওঁদের পছন্দ নয়৷ আমরা ওদের প্রশ্ণ করি, জাতীয়তাবাদকে যদি সবের্র্বচ্চ আদর্শরূপে মানতে হয়,  তাহলে হিটলার  কী দোষ করেছিল? তিনিও তো  তাঁর জাতীয়তাবাদ নীতিকে সর্বোচ্চ নীতি হিসেবে মেনেছিলেন ও গোটা পৃথিবীর ওপর জার্র্মন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব আনতে সচেষ্ট হয়েছিলেন ৷ মানবতাবাদ তাঁর কাছে মূল্যহীন ছিল৷ বিজেপি, আর-এস-এস বা তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত ওই ‘শিক্ষা সংসৃকতি উত্থান ন্যাস’ কি হিটলারের মত উগ্র জাতীয়তাবাদের নীতিকেই সবের্র্বচ্চনীতি বলে মানেন? ভুললে চলবে না, হিটলারের ত্রুটিপূর্ণ নীতির ফলেই দু’দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটেছিল৷ তারপরে এই উগ্র জাতীয়তাবাদের ভুল বুঝতে পেরে ‘রাষ্ট্র সংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷

প্রাউট-প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারও পরিস্কার ভাষায় বলেছেন, প্রাদেশিকতাবাদ বা জাতীয়তাবাদ নয়, বিশ্বৈকতাবাদই সমাজের সর্র্বেচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত৷ তিনি বলেছেন ‘আঞ্চলিক শ্রীবৃদ্ধির পথ ধরে বিশ্বৈকতাবাদের প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য৷

বস্তুতঃ জাতীয়তাবাদকে চরম লক্ষ্য হিসেবে মানলে বিভিন্ন জাতির তথা রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষে, বিশেষ  করে এই পারমাণবিক বোমার যুগে, বিশ্বসভ্যতার ধবংস অনিবার্য হয়ে পড়বে৷ তাই লক্ষ্য হবে বিশ্বৈকতাবাদ তথা ‘বিশ্বরাষ্ট্র’ গড়ে তোলা৷ তবে তা তো হঠাৎ করে সম্ভব নয়৷ তাছাড়া, বিশ্বৈকতাবাদ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক শর্তই হল--- কোনো রাষ্ট্র বা জাতি বা জনগোষ্ঠী যেন অন্য রাষ্ট্র বা জাতি বা জনগোষ্ঠীর ওপর শোষণ বা অবদমন বা  অন্যায় না করে -- তা নিশ্চিত করা৷ এমনিভাবে পারস্পরিক শোষণ, অন্যায় জবরদস্তি বা অবদমন বন্ধ করে, বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার মধ্যদিয়ে সর্র্বত্মক উন্নয়নের পথ ধরে বিশ্বৈকতাবাদের অভিমুখে এগিয়ে চলতে হবে৷ তবেই সমস্ত জাতির, রাষ্ট্রের তথা জনগোষ্ঠীর যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে৷

আর, রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য’ কবিতাতে  বিশ্ব পিতার  কাছে  প্রার্থনা করা হয়েছে, ‘আমাদের চিত্তকে ভয়শূন্য কর, শিরকে উচ্চ কর, কারুর সংকীর্ণ ভাবনা যেন বিশ্বকে খন্ড-বিখন্ড না করে তোলে, কোনরকম কুসংস্কার যাতে বিবেকের কন্ঠরুদ্ধ না করতে পারে...হে বিশ্বপিতা, ভারতকে সেই স্বর্গে প্রতিষ্ঠিত কর’৷ মহান্ কবি রবীন্দ্রনাথের এই উদার ভাবনা সংঘ পরিবারের পছন্দ নয় তা বুঝতেই পারা যাচ্ছে৷

রবীন্দ্রনাথের ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতার মত এমনি একটি বিশুদ্ধ হাস্যরসের কবিতাও যে কেন সংঘ পরিবারের পছন্দ নয়, তা বুঝে ওঠা দায়৷ এখানে  হবু রাজা ও গোবুমন্ত্রীর যে নির্বুদ্ধিতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে--- সেটাকে কি ওঁরা ওঁদের বিরুদ্ধেই বলে মনে করছেন? কিন্তু কেন? এটাও ভাবনার বিষয় বৈ কি!

এর আগে এঁদের কিছু নেতা রবীন্দ্রনাথের রচিত জাতীয় সংগীতের সমালোচনা করেছিলেন৷ বিশ্ববিধাতার উদ্যেশ্যে কবির প্রার্থনাকে ওঁরা মনে করেন ওটা নাকি ইংলন্ডেশ্বরীর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা ছিল৷ ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের চিন্তা-চেতনা, রবীন্দ্রভাবনা ও রচনার সঙ্গে চরমভাবে যারা অজ্ঞ তাঁরাই  রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এই ধরণের ভাবনা ভাবতে পারে৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা--- কিছুদিন পরে ওরা এই জাতীয় সঙ্গীতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও উদ্যত হবে৷

প্রধানমন্ত্রী মোদীজী কিন্তু সব জেনেও না-জানার ভান করছেন, ওঁদের সহযোগী চ্যালা-চামুন্ডাদের নানান কর্মকান্ডে৷ যে সমস্ত কর্মকান্ডে সমস্ত দেশবাসী বিব্রতবোধ করছে--- দেশে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে---সে সবকিছুই জেনে না জানার ভান করছেন৷ এই চালাকি দেশবাসী বোঝে৷ তাঁর, যেন মনে থাকে,  অতি চালাকির গলায় দড়ি৷ উগ্র সংকীর্ণতাবাদী বা সাম্রদায়িকতাবাদী কাজকর্মকে সচেতন দেশবাসী বেশিদিন মেনে নেবে না৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
জীবনের মূল মন্ত্র
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
ধন–সঞ্চয় সম্পর্কে প্রাউটের নীতি
আরও

সম্পাদকীয়

শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা
ভাইরাস আক্রান্ত পৃথিবী

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে
  • ভারতের ভয়ঙ্কর দশা থেকে বাঁচতে  শোষিত নাগরিকদের  ঐক্যবদ্ধ হতে হবে
  • প্রকৃত দেশপ্রেমিক ঋষি ডঃ আবদুল কালাম
  • চেরাপুঞ্জীর থেকে একখানা মেঘ
  • বাঙালী জাতির অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
  • দুর্নীতিতে দেশ ডুবে যাচ্ছে ঃ মুক্তির উপায়?
  • ভারত কী শ্রীলঙ্কার পথে

পুরানো মাসিক খবর

  • March 2020 (135)
  • February 2020 (162)
  • January 2020 (130)
  • December 2019 (135)
  • November 2019 (124)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 6
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved