দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর ওপর নির্যাতন নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে চিল চিৎকার শুরু হয়েছে৷ এই ধরণের ঘটনা ঘটলেই শাসক বিরোধী পরস্পর দোষারোপ শুরু হয়ে যায়৷ প্রচার মাধ্যমগুলোও পেলাম একটা খবর বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ এক শ্রেণীর এলিট যারা দীর্ঘ ৬৫ বছর নিজেদের সমাজের মুখ্যমন্ত্রী দেখে অভ্যস্ত ছিলেন তারা হঠাৎ এইরকম একজন অতি সাধারণ মহিলার দাপুটে শাসন পছন্দ না৷ তাই কোন একটা ছল ছুঁতো পেলেই মিডিয়া গুলোয় অনেক সত্যাসত্য বিচার না করেই মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই সব এলিট শ্রেণী৷ যেন সব দায় ওই মুখ্যমন্ত্রীর৷
পুলিশ প্রশাসনকে দায় অবশ্যই নিতে হয়৷ প্রশাসনও সব সময় দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করে তাও নয়৷ কিন্তু কিছু কিছু সামাজিক অপরাধ ভারতের মত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ঘটার আগে পুলিশের কিছু করার থাকে না৷ তবে ঘটনার পর প্রকৃত অপরাধীকে ধরে বিচারের কাঠগোড়ায় তুলে দেওয়াটা দক্ষ প্রশাসকের কাজ৷ দুর্গাপুরে মেডিকেল কলেজের ছাত্রীর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন সেইরকমই একটা ঘটনা৷ ছাত্রীটি তার সহপাঠীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর জন্যে হোস্টেল ক্যাম্পাসের বাইরে নির্জন স্থান বেছে নিয়েছিল৷ হোস্টেলের সিসিটিভির ফুটেজে দুজনকে একসঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বেরতে দেখা গেছে৷ আর কিছু পরে ছেলেটিকে একা ফিরে আসতে ও কিছু পরে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়৷ তারপর দুজনে আবার একসঙ্গে ফিরে আসে৷ এর মাঝে ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু ঘটনা ঘটে, সেখানে আরও কয়েকজন দুষৃকতি জড়িয়ে পড়ে৷ তবে মেয়েটির অভিযোগ তার সহপাঠিপ বিরুদ্ধেও৷ এখানে সহপাঠী ছেলে বন্ধুটি মেয়েটির তার প্রতি বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছে৷ বহিরাগত দুষৃকতিরা এসে পড়ায় ছেলেটি পালিয়ে যায়, তখন মেয়েটিকে একা পেয়ে যায় দুষৃকতিরা৷ এখানেও একটা সন্দেহের অবকাশ আছে৷ বহিরাগত দুষৃকতিরা ওই সময় ওখানে এলো কিভাবে৷ ওরা কি অকস্মাৎই এসে গেলো নাকি সহপাঠী ছেলেটিও জড়িত ওই দুষৃকতিদের সঙ্গে৷ ছেলেটি মেয়েটিকে একা ফেলে পালিয়ে আসার পর আবার কিছুক্ষণ পরে মেয়েটির সন্ধানে বেরিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ একটা থাকেই৷
এই পর্যন্ত ঘটনায় পুলিশের কোন দায়ীত্ব থাকতে পারে না৷ বরং বেসরকারী কলেজের হোস্টেল কর্তৃপক্ষ দায়ীত্ব এড়াতে পারে না৷ ডাক্তারী পড়া ছেলে মেয়েরা অবশ্যই সাবালোক সাবালিকা৷ কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে যখন ইচ্ছা বেরিয়ে যেতে পারে৷ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা অবশ্যই থাকা উচিত৷ সে প্রাথমিক শিক্ষা বা উচ্চ শিক্ষার অঙ্গন হোক৷
প্রচার মাধ্যম থেকে ভদ্র-বৃত্ত যারা সব দায় প্রশাসনের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের ধোয়া তুলসীপাতা ভাবে সমাজের এই অধঃপতনের জন্যে তারাও দায়ী৷ মনে রাখতে হবে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির একটা প্রভাব কিশোর -যুব মনে পড়ে৷ তাই সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ বন্দেমাতরম্ মন্ত্রে আতঙ্কিত হতো৷ ‘আনন্দমঠ’, ‘নীল দর্পণ’ পথে দাবী বইগুলি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল৷ তাতেও অবশ্য স্বাধীনতা সংগ্রামকে দমিয়ে রাখতে পারেনি৷ তাই যুব মানসের এই অধঃপতনের জন্যে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ভদ্রবৃত্তরা দায় অস্বীকার করতে পারে না৷ আজ শিল্পের স্বাধীনতার নামে একধরণের অশ্লীল সাহিত্য নগ্ণ চিত্র, চলচিত্র সঙ্গীত যুব সমাজকে নৈতিক অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ স্পষ্ট কথায় এই ধরণের নিম্নমানের সাহিত্য শিল্প যুব সমাজকে অধঃপতে যেতে উৎসাহিত করছে৷ শুধুমাত্র কঠোর আইন প্রয়োগ করে সমাজ থেকে এই অপরাধ নির্মূল করা যাবে না৷ তাই সব দায় প্রশাসনের ঘাড়ে চাপিয়ে ভদ্রবৃত্তরা ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে বসে থাকতে পারে না৷
এ বিষয়ে পরম শ্রদ্ধেয় প্রাউট প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘‘এই পৃথিবীর কোথাও কোথাও মানুষকে ব্যাপক নগ্ণচিত্র ও অশ্লীল সাহিত্যের মাধ্যমে নৈতিক অধোগতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ সাধারণ প্রতিবাদের মাধ্যমে একে প্রতিহত করা যাবে না যদি না পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের জন্যে আমরা সক্রিয়ভাবে কিছু করি৷ যদি বাস্তবোচিত আমরা কিছু করি তবে তা মানুষের মনে এক নূতন আলোড়ন সৃষ্টি করবে৷ একমাত্র তখনই একে সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত তথা প্রতিহত করা সম্ভব হবে৷ সেটাই হবে আমাদের বাস্তবোচিত কর্মধারা৷’’
এই কর্মধারাই অধঃপতিত সমাজকে উত্তরণের পথে নিয়ে যাবে৷
- Log in to post comments