Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আমার বাঙলা

একর্ষিl

প্রসঙ্গতঃ আর একটি কথা না বলেই নয় , বাঙালী একটা সঙ্কর জনগোষ্ঠী৷ পৃথিবীতে মানবজাতির প্রধান চারটি ধারা (রেস --- আর্য-নিগ্রো-অষ্ট্রিক-মঙ্গোলীয়৷ এই চার রেসের-ই রক্ত বইছে বাঙালীর রক্তে৷ অষ্ট্রিক ও নিগ্রো রক্তের মিশ্রণে উদ্ভব হয়েছে দ্রাবিড় গোষ্ঠীর৷ দ্রাবিড় রক্তও বাঙালী সাদরে আত্মস্থ করেছে৷ এমন সংকরায়ন জগতে বিরল৷ বাঙালী জনগোষ্ঠী মূলতঃ অষ্ট্রিকো-দ্রাবিড়ো-মঙ্গোলয়েড জনগোষ্ঠী , বাইরের ‘ রঙ-ছাপটা ‘ আর্যীয়৷ যদিও বৃহত্তর বঙ্গের পশ্চিমাংশে ( রাঢ় বাঙলায় ) অষ্ট্রিক রক্তের প্রাধান্য , উত্তর-উত্তর পূর্বে মঙ্গোলীয় রক্তের প্রাধান্য , দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ও মধ্যবঙ্গে দ্রাবিড় রক্তের প্রাধান্য৷ এসব চেহারাতেই বোঝা যায়৷ পৃথক ও করা যায়৷ তথাপি এসবের মধ্যেও একটা একরূপতা বর্তমান৷ সেটাই একটা স্বাতন্ত্র্য গড়ে দিয়েছে৷ কি সেই অভিনবত্ব ? সেটা হচ্ছে -- বাঙালীস্থানের অধিবাসীদের চেহারার মধ্যে একটা প্রকৃতিদত্ত কোমল-পেলব-স্নিগ্দ রূপ বর্তেছে৷ বাঙলার বাইরের মানুষেরা একে বাঙালী-বাঙালী ভাবছাপ বা বাঙালীয়ানা বলে থাকে৷ বাঙলার বাইরে থেকে যে যারাই আসুক না-কেন , দীর্ঘদিন বংশ পরম্পরায় বসবাস করলে বঙ্গ প্রকৃতি তাদের চেহারায় ও মানসিকতায় একটা বাঙালী ছোপ-ছাপ লাগিয়ে দেয়৷ একটা বঙ্গীকরণ ঘটে৷ এটা প্রকৃতির স্নেহের দান৷ বোধহয় এই প্রকৃতিগত কারণেই বাঙালী চিরকালই অতিথি বৎসল, পরকে আপন করে নেয়ার প্রবনতা তার রক্তে৷ বাইরের নামাবলীর মত ধর্মমত কী একে পাল্টাতে পারে ? চাপাদিতেও পারেনা৷ বৃহত্তর বঙ্গের মহাভূমিতে বিভিন্ন রেসের মিলনে বঙ্গপ্রকৃতির ক্রিয়াত্মিকা শক্তির কর্মায়ণে , বাঙ্গালী জীবনের সহজাত অভিপ্রকাশে বিশ্বে বাঙালী একটা স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী ( এথিকগ্রুপ )৷ তাই বাঙালীর ভাল-মন্দ , ভাগ্য-দুর্ভাগ্য , ভূত-ভবীষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা৷ এরই নাম ‘ বাঙালী জাতীয়তাবোধ ৷ অবশ্য বাঙালী জাতীয়তাবোধ উদ্ভব বা সৃষ্টির পিছনে কতগুলো শর্ত কাজ করে৷ যথা-১. সম ভৌগোলিক তথা প্রাকৃতিক পরিবেশ (যা গড়ে ওঠে ভূ-পৃষ্ঠে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অবস্থান , ভূপ্রকৃতি , ভূমির গঠন , ভূমির ঢাল , সূর্যের পতনকোণের বৈশিষ্ট্য, পাহাড়-পর্বত থাকা-নাথাকা --- থাকলে তার অবস্থানের বিশেষত্ব , সমুদ্রের সঙ্গে দূরত্ব , জলবায়ু , স্বাভাবিক উদ্ভিদ , মহাজাগতিক প্রভাব , মাটির নীচের ও ওপরের প্রাকৃতিক সম্পদ , প্রকৃতি জীবের মিথষ্ক্রিয়া)৷ এগুলোকে ভিত্তি করে মানুষের ‘ চরৈবেতি ‘ জীবনের পরিধি বাড়তে বাড়তে গোটা পৃথিবীটাই হয়ে ওঠে মানুষ জাতের আপন দেশ, আঞ্চলিক মানুষ থেকে অখণ্ড-মানবজাতি৷ ফলে এর থেকে মানুষজাতের দুটো পরিচয় প্রকাশ পায়৷ --একটা ভৌমিক বা স্থানিক বা আঞ্চলিক --- এটা বৈষম্য নয় , প্রকৃতিজাত বৈচিত্র্য৷ আর এই সূত্রেই বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উদ্ভব৷ অপরটাস্বভাবগত বা সৃষ্টির উৎসগত ---যা ‘ আব্রহ্মস্তম্ব তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত৷ ২. ভৌগোলিক বা আঞ্চলিক পরিবেশগত বৈবহারিক জীবন ও পারস্পরিক আদান-প্রদান , ভাব বিনিময় সূত্রে উদ্ভূত ভাষা- সংস্কৃতি প্রভাবে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই জেগে ওঠে জাতীয়তাবোধ বা জাতিসত্তা--এথিসিটি৷ উপাদানটা ‘ নরজাতি- রেসিয়াল, , পরিণামটা সংকরণ-এথিক ৩. দীর্ঘকালের একসঙ্গে চলা সামগ্রিক আঞ্চলিক জীবনধারা , বিশেষ করে অর্থনৈতিক জীবনধারা ক্রমে ক্রমে একটা স্বাতন্ত্র্যত্ব , বিশেষত্ব সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপ করে৷ ৪.- মানুষ তো সমাজবদ্ধ জীব৷ কিন্তু সমাজবদ্ধতায় উত্তরণ ঘটাতে গেলে প্রাথমিক শর্ত-সূত্রই হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলা , পরম , লক্ষ্যের দিকে চলার এষণাও৷ দীর্ঘদিনের একসঙ্গে চলার পথে সংঘর্ষ-সমিতি ( ক্ল্যাশ এণ্ড কোয়েশন ) সমসূত্রে এসে যায় সামাজিক ঐতিহ্য৷ তাত্ত্বিক বিচারে , - ‘ সমসমাজতত্ত্ব ’ থেকে নিজেকে ফিরে পাওয়ার ফিরে দেখার এষণা৷ ৫ . এর থেকে জাতীয়য়তাবোধ এর মধ্যে একটা মর্মচেতনা --- মমত্ববোধ বা আত্মবিম্বন ( ইন্টার্নালফিলিং ) কাজ করে৷ এর থেকে এসে যায় একাত্মবোধ ( ফিলিং অবওয়াননেস)৷ এর পরিধিটা ক্রমবিস্তারশীল --- আঞ্চলিক থেকে বিশ্বৈকিক, খণ্ড থেকে অখণ্ডে , স্থূল থেকে সূক্ষ্মের দিকে , ক্ষুদ্র থেকে বৃহতের দিকে৷ এর থেকে কতকগুলো সর্বজনীন কল্যাণমুখী ইতিবাচক কিছু তাগিদের উদ্ভব হয়৷ যেমন-- ক) কোন মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে চলার শপথ, খ) বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে একযোগে কাজ করা, গ) বাঁচো ও বাঁচতে দাও এই মন্ত্রে উদবুদ্ধ হওয়া৷ ঘ) বৃহতের প্রতি একটা আকর্ষণ ঘনীভূত হওয়া , বা বিন্দুর মধ্যে সিন্ধু দর্শনের প্রবণতা জাগা৷ ঙ ) একটা সমদৃষ্টি চেতনা , নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে ওঠা৷ এই প্রসঙ্গে কিছু প্রাজ্ঞ, মহাজনদের কথা স্মরণ করা যেতে পারে --- ** ‘‘ কোন জনগোষ্ঠী বা গোষ্ঠী ---সমষ্টি একছত্র শাসনে তাদের মধ্যে অভিন্ন ভাষিক , শাস্ত্রিক , আচারিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা-ভিত্তিক জাতিসত্তা বোধ---একক নামে পরিচিতি ঘটে৷ ‘’ ---‘ বাঙলা ও বাঙলা সাহিত্য ‘ ---ড. আহম্মদ শরীফ৷ ‘’ ----- বহুযুগেরবহুকোটি লোকের দেহমন মিলিয়ে মানুষের সত্তা৷ সেই বৃহৎ সত্তার সঙ্গে যে পরিমাণ সামঞ্জস্য ঘটে ব্যক্তিগত মানুষ সেই পরিমাণে যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠে, ’’ (মানুষের) এই বৃহৎসত্তার মধ্যে একটা অপেক্ষাকৃত ছোটো বিভাগ আছে৷ তাকে বলাযেতে পারে ‘ জাতিকসত্তা যা স্থান-কাল , জলবায়ু , ভৌগোলিক অবস্থান , পরিবেশ---ধারাবাহিক বহুকোটি পুরুষ পরম্পরায় মিলে এক একটা সীমানায় বাঁধা পড়ে৷ এদের চেহারায় একটা বিশেষত্ব আছে৷ এদের মনের গড়িনটাও কিছু বিশেষ ধরনের৷ এই বিশেষত্ব লক্ষণ অনুসারে আপনাকে সত্য বলে পায়৷ এই আত্মীয়তা সূত্রে গাঁথা বহুদূর ব্যাপী বৃহৎ ঐক্যগুলো৷ মানুষকে মানুষ করে তোলবার ভার এই জাতিকসত্তার ওপরে৷ সেই জন্য মানুষের সবচেয়ে বড় আত্মরক্ষা এই জাতিকসত্তাকে রক্ষা করা৷ এই তাদের বৃহৎ দেহ , তার বৃহৎ আত্মা৷ এই আত্মিক ঐক্যবোধ যাদের দুর্বল , সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠবার শক্তি তাদের ক্ষীণ৷ জাতির নিবিড় সম্মিত শক্তি তাদের তাদের পোষণ করা না , রক্ষা করে না৷ তারা পরস্পর বিশ্লিষ্ট হয়ে থাকে , এই বিশ্লিষ্টতা মানবধর্মের বিরোধী৷ বিশ্লিষ্ট মানুষ পদে পদে পরাভূত হয় , তারা সম্পুর্ণ মানুষ নয়৷ -----‘ বাংলা ভাষা পরিচয় ‘----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ (চলবে)

 

 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
আরও

সম্পাদকীয়

বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই
স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক কর্মসংস্থান

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার
প্রথম দেখা
এবার মুখোশ খুলে বাঙালী বিদ্বেষের - স্বরূপ প্রকাশ করলো অসম সরকার
নিত্যদিনের সমস্যা, সমাধানও অসম্ভব নয়-- অথচ প্রশাসনের গা ছাড়া ভাব
আমার বাঙলা

পুরানো মাসিক খবর

  • January 2019 (101)
  • December 2018 (128)
  • November 2018 (161)
  • October 2018 (135)
  • September 2018 (93)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 9
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved