বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার অব্যাহত৷ ‘সব থেকে ভয়াবহ দুটি ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রে৷ বীরভূম জেলার নলহাটির বাসিন্দা নইমুদ্দিন শেখ মহারাষ্ট্রের ভাণ্ডুপে ২৫ বছর ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন৷ তিনি যে সংস্থায় কাজ করতেন সেখানে তার আট লক্ষ টাকা পাওনা হয়৷ সেই অর্থ তিনি মালিকের কাছে চেয়েছিলেন৷ কয়েকদিন পরেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পাওয়া যায়৷ নইমুদ্দিন শেখের বাবার অভিযোগ বকেয়া আট লক্ষ টাকা চাওয়ার জন্য তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে৷ অপর ঘটনাটি ঘটে মুম্বাইতে৷ নলহাটিরই ছেলে রাহুল সিং টাকা না পেয়ে স্থানীয় থানায় সাহায্য চাইতে গিয়েছিল৷ ওই শেঠ রাহুলের দুটি কানই কেটে নেয়৷ দুজনের অপরাধ তারা বাঙালী৷ তবে শুধু মহারাষ্ট্রে নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই পরিকল্পনা করে বাঙালী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাঙলায় ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন ও তাদের জন্যে শ্রমশ্রী প্রকল্প ঘোষণা করেছেন৷ এই পরিকল্পনায় পরিযায়ী শ্রমিকরা এক বছর ৫ হাজার টাকা করে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ পাবেন বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত৷
আমরা বাঙালী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী জয়ন্ত দাশ বলেন মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনায় মানবিকতার ছাপ আছে, কিন্তু এটা সমস্যার সমাধান নয়৷ বরং অন্য সমস্যার সৃষ্টি হবে৷ এ রাজ্যেও বহু পরিযায়ী শ্রমিক আছে৷ তারা এখনও নিরাপদে নিশ্চিন্তে কাজ করে যাচ্ছে৷ কিন্তু বাঙালী পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে অত্যাচারিত হয়ে ফিরে এলে এদের নিশ্চিন্তে কাজ করতে দেবে তো৷ শ্রী দাশ দাবী করেন শুধু বাঙালী পরিযায়ীদের ফিরিয়ে আনলেই হবে না, এরাজ্য থেকেও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে যেতে হবে, শুধু তাই নয়, বাঙলার খনিজ, বনজ, কৃষিজ, জলজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে৷ কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশ করে প্রাউটের ব্লক ভিত্তিক বিকেন্দ্রিত অর্থব্যবস্থা চালু করে একশ শতাংশ স্থানীয় বেকারদের চাকরী নিশ্চিত করতে হবে৷
তিনি বলেন বাঙালীসহ ভারতে ৪৪টি জনগোষ্ঠী আছে প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠীর জন্যেই পৃথক পৃথক স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে আর্থিক ক্ষমতা স্থানীয় মানুষের হাতে তুলে দিতে হবে৷ তবেই ভারতের সংহতি দৃঢ় হবে নতুবা ভারতের অবস্থা সোভিয়েত ইউনিয়নের মত হবে৷